বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আলাপন

গান না গাইতে পারলে অসুস্থ হয়ে যাব: তসিবা বেগম

মো. ইনামুল হোসেন
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

শেয়ার করুন:

গান না গাইতে পারলে অসুস্থ হয়ে যাব: তসিবা বেগম
‘আইলা রে নয়া দামান’ গেয়ে রাতারাতি তারকা খ্যাতি আসে কণ্ঠশিল্পী তসিবা বেগমের। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদিতেও সুযোগ পান। এরপর বেশখানিক সময় কেটে গেছে। সুরের হাত ধরে জনপ্রিয়তার সঙ্গেই পথ চলছেন তিনি। মৌলিক গান ও দেশ-বিদেশে শো নিয়ে যত ব্যস্ততা। তার ফাঁকে আবারও কণ্ঠ দিলেন ইত্যাদির একটি গানে। সেই সূত্র ধরে ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপ জমেছিল তসিবার।

আবারও ইত্যাদিতে গাইলেন। কেমন লাগছে?

ইত্যাদিতে গান করার অনুভূতি সবসময়ই দারুণ। এটি আমার চার নম্বর গান ছিল। এর আগে মেট্রো রেল, ঝিনাইদহ ও সিলেটে ইত্যাদির জন্য গান করেছি। এবার জামালপুরে। হানিফ সংকেত স্যারের ইত্যাদির মাধ্যমে দর্শক আমাকে চিনেছেন, যা আমার ক্যারিয়ারের অনেক বড় প্রাপ্তি। গানের কথাগুলো আধ্যাত্মিক ধারার— ‘আমাদের সাধের এই দুনিয়ায় কেউ ঘোরে আর কেউ ঘোরায়’। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। 

পান্থ কানাইয়ের সঙ্গে গাওয়ার অভিজ্ঞতা? 

উনি আমার জন্মের আগের একজন লেজেন্ডারি আর্টিস্ট। বিশাল হৃদয়ের মানুষ এবং ভীষণ হেল্পফুল। বুঝতেই পারিনি ওনার মতো এত সিনিয়র শিল্পীর সঙ্গে কাজ করছি। গানটা করে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে।

image

‘ইত্যাদিতে প্রথমবার গাওয়ার গল্পটা কেমন ছিল? 

করোনা মহামারীর সময় ‘নয়া দামান’ গানটি ভাইরাল হয়। ১০০ মিলিয়ন ভিউ পার করলেও সে ভিডিওতে আমার মুখ ছিল না। গানটি নিয়ে চারদিকে আলোচনা শুরু হলে হানিফ সংকেত স্যার আমাকে ফোন করেন। ফোন করে বলেন, আমি হানিফ সংকেত। খুব অবাক হয়েছিলাম। স্যারের ফোন পাওয়ার পর আম্মাকে নিয়ে ঢাকায় যাই। ওনার অফিসে দেখা করি। সেখানে অনেকগুলো গান শোনার পর ‘পালঙ্ক সাজাইলাম গো’ গানটি নির্বাচন করা হয়। পরে গানটি ইত্যাদির মাধ্যমে সবার সামনে আসে।

অনেক শিল্পীর স্বপ্ন থাকে ইত্যাদিতে গান করা। আপনার সেরকম ছিল? 

ছোটবেলার একটি চমৎকার স্মৃতি আছে। আমি যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম, তখন আম্মা হানিফ সংকেত স্যারের কাছে ইত্যাদিতে যাওয়ার জন্য চিঠি লিখতেন। ফোন করতেন। আম্মার অনেক শখ ছিল। আমাদের পরিবার অনেক কষ্ট করেছে। আম্মা হয়তো তখন কল্পনাও করেননি একদিন স্যার আমাকে নিজে ডেকে পাঠাবেন। বড় প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার স্বপ্ন সবারই থাকে। সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ায় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।

image

আজকাল বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট বন্ধে হুমকি দেওয়া হয়। শো করতে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন? 

৩৬০ আউলিয়ার জেলার (সিলেট) মানুষ আমরা। আজ পর্যন্ত সমস্যা হয়নি। এগুলো নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। কখন কার সঙ্গে কী ঘটে আগে থেকে বলা যায় না। তবে আপনাদের ও দর্শকদের ভালোবাসায় দেশ-বিদেশে নিয়মিত শো করছি। এখন পর্যন্ত কোনো বিপদে পড়তে হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের সংগীত অঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি উদ্বিগ্ন? 

আমরা সংগীতের মানুষ, গান না গাইলে পাগল হয়ে যাব। অনেকের মতো আমারও এটি প্রথমে শখ ছিল। পরে পেশায় পরিণত হয়েছে। গান না গাইতে পারলে অসুস্থ হয়ে যাব। যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, সংস্কৃতি রক্ষা করা আমাদের কিংবা সমাজের দায়িত্ব। আমাদের সংস্কৃতি যেন সুন্দর থাকে। আমরা যেন সুন্দরভাবে গান গেয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারি, এটুকুই চাওয়া।

image

পড়াশোনা ও গান একইসঙ্গে চালিয়ে নেওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং?

আমি আইনে পড়ছি। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে। পড়াশোনা ও গানের ব্যস্ততা একসঙ্গে ম্যানেজ করা বেশ কঠিন। তবে আম্মা-আব্বা চেয়েছিলেন বলেই সবকিছু সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছি। নিজের পরিচিতির জন্য পড়াশোনা খুব জরুরি। একপ্রকার ওয়ান ম্যান আর্মির মতো সবদিক সামলাতে হচ্ছে। তবে আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ম্যানেজ হয়ে যাচ্ছে।

কানাডা পছন্দ কেন? দেশ নয় কেন? 

৬ষ্ঠ-৭ম শ্রেণীতে পড়াকালে কানাডায় পড়াশোনা করার শখ ছিল। তবে এখন নিজের দেশেই সবচেয়ে ভালো লাগে। বাইরে গেলে কেমন যেন অশান্তি কাজ করে। গরম, ঠান্ডা বা যত ঝামেলাই থাকুক না কেন, নিজের দেশের মতো শান্তি কোথাও নেই। আপাতত বিদেশে স্থায়ী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশ-বিদেশ ঘুরে প্রোগ্রাম করছি— এতে ভালোই আছি।

জীবনসঙ্গী হিসেবে সহজ-সরল কাউকে পেলেন? 

এখন পর্যন্ত না। আপনাদের দোয়াতে এমন মানুষ কবে পাই দেখি (হাসি)। 

image

সোশ্যাল মিডিয়ায় বডি শেমিংয়ের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখেন? 

এ নিয়ে কথা বলি না। কারণ বলে লাভ নেই। একেকজনের মানসিকতা একেক রকম। আমরা যারা ক্যামেরার সামনে কাজ করি, তারা মোটা হলেও সমস্যা, চিকন হলেও সমস্যা! চিকন হলে লোকে বলে ‘এত চিকন কেন?’, আর একটু মোটা হলে বলে ‘এত মোটা হলো কেন?’ মানুষের এই মানসিকতা অত্যন্ত খারাপ। তবে এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। কারণ দিনশেষে আমি আমার নিজের কাছে পারফেক্ট, নিজের কাছে সুন্দর। আমি মোটা বা চিকন— এসব নিয়ে মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য গায়ে মাখি না। আমরা যারা কাজের মানুষ, আমাদের তো গানের দিকে বেশি ফোকাস করতে হয়। গানটা নিখুঁতভাবে করার জন্য অনেক কিছু দেখতে হয়। সব সময় শরীর মেইনটেইন করা সম্ভব হয় না। আর বর্তমানে এআইয়ের যুগ। মানুষের নিন্দা করার জন্য অনেকে প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। 

গান নিয়ে দর্শকদের সমালোচনা কীভাবে নেনে? 

আটশোর বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছি। সব গান তো মিলিয়ন ভিউ পার করা সম্ভব নয়! কারণ শিল্পী তো আমি একা নই। আমাদের আরও সহকর্মী কাজ করছেন। আমার সব গান যদি মিলিয়ন পার করে ফেলে, তবে বাকিদের কী হবে? সব গান মিলিয়নের ঘরে যাওয়ার দরকার নেই। কিছু গান কেবল বেঁচে থাকার জন্য। নিজের জন্য থাকুক। একান্তে শুনব। সমালোচনা সবসময় থাকবে, এটা কাজেরই অংশ। এগুলোর মধ্য থেকে নতুন আইডিয়া খোঁজার চেষ্টা করি। 

image

ভাইরাল হওয়ার আগে এবং পরের জীবনে কী কী পরিবর্তন এসেছে?

আগে যেরকম সাধারণ জীবনযাপন করতাম, এখন তার চেয়েও বেশি সাধারণ জীবন কাটাচ্ছি। ভাইরাল হওয়ার আগে একটু স্টাইল করতাম, নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু এখন সময় পাই না। আগের জীবনটা বেশি ভালো ছিল। মূল পার্থক্য হলো— এখন নিয়মিত ক্যামেরার সামনে থাকি। আগে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। দেশের বাইরে গিয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতাম। এখন দেশের বাইরে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু প্রবাসী বাঙালি ভাইবোনদের গান শোনাতে। এছাড়া জীবনে বড় আর কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ব্যস্ততা ও পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইছি।

নিজের ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে কিছু কাজ করার পরিকল্পনা আছে। আন্তর্জাতিক লেভেলে আরও ভালো ভালো গান উপহার দিতে চাই। সিলেটি গান আমার শিকড়, সেটিও চালিয়ে যাব। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রায় এক মাস লন্ডনে শো ও আত্মীয়স্বজনের সাথে সময় কাটাতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইএইচ/আরআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর