সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

তিন সমকামীর গল্পে নির্মিত সিনেমা, জিতে নিল টরন্টো পুরস্কার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

তিন সমকামীর গল্পে নির্মিত সিনেমা, জিতে নিল টরন্টো পুরস্কার

পর্দা নামল টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। রোববার আয়োজিত এক জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে ৫১তম আসর। অনুষ্ঠানে মর্যাদাপূর্ণ পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে জাভিয়ের কালভো এবং জাভিয়ের আমব্রোসির স্প্যানিশ যুদ্ধভিত্তিক ড্রামা ‘লা বোলা নেগ্রা’। উৎসবের নিয়ম অনুযায়ী জুরি বোর্ডের পরিবর্তে দর্শকের সরাসরি ভোটেই নির্ধারিত হয় মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।

উৎসবে পিটার ফ্যারেলির ‘আই প্লে রকি’ প্রথম রানার-আপ এবং সিয়ান হেডারের ‘বিয়িং হিউম্যান’ দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে।

কবি ও নাট্যকার ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার একটি অসমাপ্ত নাটক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি সিনেমাটি গত মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রিমিয়ারে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিল। পরবর্তীতে নেটফ্লিক্স এটি কিনে নেয়। ছবিটির অস্কার প্রচারণার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১১ সালের পর ইংরেজি ভাষার বাইরে প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে ‘লা বোলা নেগ্রা’ পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড জয় করল।

image

জাভিয়ের ক্যালভো এবং জাভিয়ের অ্যামব্রোসি পরিচালিত এই সিনেমাটিতে গত ১০০ বছরে স্পেনে সমকামী ব্যক্তিদের ওপর চলা সামাজিক নিপীড়ন, অবদমন এবং নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখার ট্র্যাজেডিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্পেনের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়কালকে কেন্দ্র করে সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে। যেখানে তিনজন সমকামী পুরুষের জীবন প্রেম, বেদনা এবং পারিবারিক সূত্রের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়।

চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্কারের সেরা ছবি মনোনয়নের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে কাজ করে আসছে। ২০০৮ সালে ‘স্ল্যামডগ মিলিয়নেয়ার’ পুরস্কার জেতার পর থেকে বিগত ১৮টি পিপলস চয়েস বিজয়ী ছবির মধ্যে ১৬টিই অস্কারের সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনীত হয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি ছবি (‘স্ল্যামডগ’, ‘দ্য কিংস স্পিচ’, ‘টুয়েলভ ইয়ার্স আ স্লেভ’, ‘গ্রিন বুক’ ও ‘নোম্যাডল্যান্ড’) অস্কার ঘরে তুলেছে।

image

উৎসবের অন্যান্য প্রধান শাখায় পুরস্কার জিতে নিয়েছে যে সিনেমাগুলো:

ইন্টারন্যাশনাল পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড: সাইমন স্টোন পরিচালিত ব্রিটিশ ড্রামা ‘এলসিনোর’  (যেখানে প্রয়াত স্কটিশ অভিনেতা ইয়ান চার্লসনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অ্যান্ড্রু স্কট)।

তথ্যচিত্র বিভাগ: ব্যারি আভরিচের ‘ডার্লিন লাভ: আই নো হোয়্যার আই'ভ বিন’।

মিডনাইট ম্যাডনেস: ম্যাথিউ র‍্যাংকিনের ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, ব্রায়ান মুলরনি’।

প্লাটফর্ম প্রাইজ: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে নির্মিত থেজা রিওর ‘আংহ’। প্রথমবার এই পুরস্কার বিজয়ী সরাসরি অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছে। 

সেরা কানাডিয়ান ফিচার ফিল্ম: সার্ভিল পবলেটের ‘সানবার্ন’।

সেরা কানাডিয়ান ডিসকভারি: কোডি লাইটনিংয়ের ‘সামিজ দ্য ব্লেডস’।

শর্ট ফিল্ম ও অন্যান্য পুরস্কার: আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক সংস্থা ফিপরেসি অ্যাওয়ার্ড জিতেছে ডেভিড টারপিনের ‘অ্যান্সেস্টার্স’ এবং নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড জিতেছে হোসাম আবু দ্যানের ফিলিস্তিনি ছবি ‘থার্টিন ইন গাজা’।

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর