পেশাগত জীবনে ব্যর্থতার ছিটেফোঁটা নেই এমন অনেক তারকার হাতে ব্যক্তিজীবনের ব্যর্থতার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেন তাদের-ই সন্তান সন্ততি। বলিউডের ডাকসাইটে পরিচালক মহেশ ভাটও এর বাইরে নন। তার নির্মিত অসংখ্য সিনেমা কালকে অতিক্রম করলেও ছেলে অভিনেতা রাহুল ভাটের চোখে তিনি সফল বাবার কোর্টে পা রাখতে ব্যর্থ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
মহেশ ভাট ও কিরণ দম্পতির ছেলে রাহুল। তার জন্মের তিন বছরের মাথায় কিরণের সঙ্গে আলাদা হন পরিচালক। ফলে তারপর আর বাবার সান্নিধ্য কপালে জোটেনি রাহুলের। বেড়ে উঠতে থাকেন মায়ের কাছে। স্বাভাবিকভাবেই দুরত্ব তৈরি হয় বাবার সঙ্গে। একসময় মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হতে থাকে যে, বাবার দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন-ই করেননি মহেশ। রাহুলের কথায়, “মিস্টার ভাটের সঙ্গে আমার কখনও খুব একটা ঘনিষ্ঠতা ছিল না।”
বাবা-মায়ের দূরত্ব নিয়ে বাইরেও কথা শুনতে হতো রাহুলকে। যা স্বাভাবিকআবেই মহেশ ভাটের প্রতি জন্ম নেওয়া ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। লোকের শোনানো কটু কথা নিয়ে রাহুল বলেন, “লোকজন আমাকে আর আমার মাকে নিয়ে মজা করত। এতে আমি খুব রেগে যেতাম। ওরা বলত, ‘আমার বাবা আমার মাকে ছেড়ে চলে গেছেন’।”
পরিস্থিতি এতটাই কাবু করে ফেলে মহেশপুত্রকে যে একসময় নিজেকে নিজেকে ‘সুপার বাস্টার্ড চাইল্ড’ ভাবতে শুরু করেন। যদিও দূরত্ব বাড়লেও সন্তানের প্রতি আর্থিক দায়িত্ব পালনে পিছপা হননি মহেশ। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না রাহুল। বাবার সান্নিধ্যটাই তার বেশি কাঙ্ক্ষিত ছিল। এক সাক্ষাৎকারে সে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “সন্তান হিসাবে বাবাকে ভালোবাসার চেষ্টা করছিলাম আমি। অন্তত উনিও তো চেষ্টা করতে পারতেন।”
রাহুলের অভিযোগ অস্বীকার করেননি মহেশ। এ নিয়ে বলেছিলেন, “সেখানে একটা ক্ষত ছিল। রাহুলের বয়স যখন প্রায় তিন বছর, তখন আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। ওর মনে হয়েছিল, অন্য এক নারীর জন্য আমি পরিবারকে ছেড়ে চলে গেছি। এই অভিযোগ আমি অস্বীকার করতে পারিনি, কারণ সেটাই তো সত্যি ছিল।”
তবে শেষ পর্যন্ত পিতাপুত্রের সম্পর্কে তিক্ততা থাকেনি। লম্বা সময়ের দূরত্ব ও অভিমান ভুলে দুজনেই কাছে আসেননি। তবে তাতে সম্পর্কের জটিলতা মিটেছে কি না জানা নেই। কিন্তু বাবা-ছেলের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।
আরআর




