সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে নব্বই দশকের গল্পে নির্মিত ওয়েব সিনেমা ‘মিশন ডিডিএলজে’র গান ‘কাহিনি এখনো বাকি’। গানটির গীতিকার-সুরকার-গায়ক সৈয়দ নাফিস জানালেন ‘কাহিনি এখনো বাকি’ তৈরি করতে গিয়েও কম কাহিনি হয়নি। যেখানে একমাত্র খলনায়ক বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
সম্প্রতি মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট সংগীতের ক্ষেত্রেও তা হয়ে উঠেছে ভোগান্তির আরেক নাম। যা ‘কাহিনি এখনো বাকি’ তৈরির ক্ষেত্রে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন নাফিস। গানটিতে কণ্ঠ দিতে জেগে থাকতে হয়েছে সারারাত। প্রজেক্ট ডেলিভারি দিতে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়েছে সকাল থেকে মধ্যরাত। ঢাকা মেইলকে সে গল্প শুনিয়েছেন নাফিস।

নাফিস জানান, গানের পাশাপাশি ওয়েব সিনেমাটির আবহ সংগীতও তার। সঙ্গে রয়েছে আরও একটি গান। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে কোনোদিনই স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারেননি কাজটি। প্রজেক্ট তৈরিতেও বিলম্ব হয়েছে। বললেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে কাজটি শেষ করতে আমার এক সপ্তাহ সময় বেশি লেগেছে। সঙ্গে ঘটেছে নানা কাহিনি।’
সৃজনশীল কাজে মনের সম্মতি খুব দরকার। কিন্তু লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাঘাত ঘটছিল। নাফিসের কথায়, ‘সৃজনশীল কাজে মুডটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি কাজ করতে গিয়ে যদি তিন-চারবার কারেন্ট যায় তাহলে মুডের বারোটা বাজতে আর কিছু লাগে না। ধরুন, মুড আছে কাজটি নিয়ে বসেছি। একটু পর-ই বিদ্যুৎ নেই। ফিরতে ফিরতে এক ঘণ্টা। ফের বসেছি। কিছুক্ষণ পর আবার কারেন্ট নেই। এভাবে লাগাতার। ফলে আমার মুডও হাওয়া।’

গানটিতে কণ্ঠ দিতে গিয়েও ভুগতে হয়েছে। সারারাত জেগে ছিলেন নাফিস। এর পেছনেও দায়ী লোডশেডিং। বললেন, ‘ভয়েস দিতে রাত বারোটায় বসেছিলাম। ঘণ্টা দুয়েক পর কারেন্ট চলে যায়। তিনটায় এলে আবার বসি। আবার চলে যায়। পরে সাড়ে চারটায় আবার বিদ্যুৎ আসে। তখন ভাবছিলাম ফের কারেন্ট গেলে আর ভয়েস দেব না। কিন্তু ভাগ্য ভালো যায়নি। সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে ছয়টায় ভয়েস দেওয়া শেষ হয়। এরপর আবার চলে যায়।’
সবচেয়ে নাকাল হতে হয়েছে প্রজেক্ট ডেলিভারির দিন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সকাল থেকে রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে বিপদে পড়েছিলাম গানের শেষে। প্রজেক্টের এক্সপোর্ট দিতে গিয়ে। নব্বই মিনিটের কাজটি প্রথমবার এক্সপোর্ট হওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যায়। ফের শুরু থেকে এক্সপোর্ট দিতে হয়। কিন্তু আবার চলে যায়। কাজটি দেওয়ার কথা ছিল বেলা বারোটায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাত সাড়ে ৩টা বেজে যায়। সম্পূর্ণ সময় আমি কম্পিউটারের সামনে বসা। ওইদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় আমার এলাকায়। সব মিলিয়ে আট বার বিদ্যুৎ যায়। প্রত্যেকবার ব্যাপ্তি ছিল ১ ঘণ্টা করে।’

কাহিনি এখানেই শেষ না। গানটিতে নাফিসের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন মৌমিতা বড়ুয়া। ভোগান্তি তাকেও পোহাতে হয়েছে। নাফিস জানান, কাজটির সময় দিনের নির্দিষ্ট কয়েকটি সময় লোডশেডিং হচ্ছিল। ফলে যে সময়টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছিল না সে সময় কাজের জন্য বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। গায়িকাকেও ওই সময় আসতে বলেন স্টুডিওতে। তখন শুরু উল্টো আচরণ। ফলে মৌমিতাকেও হতে হয় ভোগান্তির ভাগীদার।
তারপরও স্বস্তির নিশ্বাস গায়ক-গায়িকার। কেননা গানটি মন ভরিয়েছে শ্রোতাদের। সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরীর রসায়নেও পুরনো দিনের আবহ খুঁজে পাচ্ছেন দর্শক। নাওভী-লাবণ্য ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন আরমান বিন মাহমুদ। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ওটিটি মাধ্যমে মুক্তি পাবে ‘মিশন ডিডিএলজে’।
আরআর




