শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হৃদিতা একদম পাশের বাড়ির মেয়ের মতো: পূজা

রাফিউজ্জামান রাফি
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২২, ০৩:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

হৃদিতা একদম পাশের বাড়ির মেয়ের মতো: পূজা
অভিনয় শৈলী ও নান্দনিক সৌন্দর্য দিয়ে শুরু থেকেই ক্যারিয়ার মসৃণ করে নিয়েছেন পূজা চেরি। সাফল্যের সঙ্গে মাখামাখি চলছে নিয়মিত। এখন ঢালিউডের ব্যস্ত নায়িকাদের তালিকায় নাম উঠেছে তার। ৭ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত ‘হৃদিতা’ সিনেমাটি। সরকারি অনুদানে নির্মিত এই ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে আনিসুল হকের উপন্যাস অবলম্বনে। পরিচালনা করেছেন ইস্পাহানি আরিফ জাহান। চলচ্চিত্রটিতে যুক্ত হয়ে বেশকিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে পূজাকে। ঢাকা মেইলের সঙ্গে সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হকের উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা বানানো হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকবেন আপনি— এমন প্রস্তাবে আপনার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

আনিসুল হক স্যারের সঙ্গে আগে থেকেই আমার পরিচয়। তার একটি ম্যাগাজিনের মডেলও হয়েছিলাম আমি। এ ছাড়া আমার স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি যেতেন। সাধারণত কোনো সিনেমার প্রস্তাব এলে দু- এক দিন ভাবি। কাজটা করব কি না চিন্তা করি। তবে এক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। কারণ আমার প্রিয় লেখক দুজনের একজন হলেন তিনি। তাই ‘হৃদিতা’ সিনেমায় কাজের প্রস্তাব পাওয়ার পর একটুও সময় নিইনি। চোখ বন্ধ করে রাজি হয়ে গেছি। আমি বলেছি, আমিই পর্দার হৃদিতা হব। আর কেউ হবে না। কেননা আমি তার ভক্ত হয়ে তার উপন্যাসের চরিত্রে কাজের সুযোগ পাচ্ছি এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।

 চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি কেমন ছিল?

‘হৃদিতা সিনেমাটির নামভূমিকায় অভিনয় করেছি আমি। এটি আনিসুল হকের জনপ্রিয় উপন্যাসগুলোর একটি। অনেকেই উপন্যাসটি পড়েছেন। তারা একেকজন একেকভাবে কল্পনায় হৃদিতাকে এঁকেছেন, ভেবেছেন। সেকারণে শুরুতে চরিত্রটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল। কেননা সবাই যেহেতু নিজেদের মতো করে হৃদিতাকে ভেবেছেন সেহেতু আমি কতটা তাদের ভাবনার হৃদিতার মতো হব এটা একটা বাড়তি চাপ মনে হয়েছিল আমার কাছে। 

puja chery

ব্যাপারে আনিসুল হকের কোনো নির্দেশনা পেয়েছিলেন

তিনি এই ব্যাপারটা সিনেমার পরিচালকের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমি স্যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি হৃদিতাকে কীভাবে দেখেছেন। আমাকে তখন বলেন, আমি কীভাবে দেখেছি সেটা তুমি ভুলে যাও। কেননা এটা যেহেতু সিনেমা হতে চলেছে সেহেতু তোমার ডিরেক্টররা কীভাবে দেখছেন সেটাই বড় কথা। এখন তাদের নির্দেশনাই তোমার মেনে চলা উচিত। এরপর আমার নির্মাতাদের কাছে জানতে চাই। তারা সম্পূর্ণ আমার ওপর ছেড়ে দেন। তারা বলেন, তুমি তোমার মতো করে অভিনয়ের মাধ্যমে হৃদিতাকে ফুটিয়ে তোলো।

হৃদিতা মেয়েটি কেমন?

হৃদিতা মেয়েটি একদম পাশের বাড়ির মেয়ের মতো। একটু মিষ্টি, সাধাসিধে, একটু চঞ্চল ও মায়াবতী। যে কারও তাকে ভালো লাগবে। 

Puja Chery

উপন্যাস পড়ে অনেকেই হৃদিতা সম্পর্কে জেনেছে। তাকে দেখতে সিনেমা হলে কেন যাবে

হ্যাঁ, অনেকেই হৃদিতাকে জানেন। তবে আমি বলব, যেহেতু সিনেমা তৈরি হচ্ছে সেখানে ব্যাপারটা একটু আলাদা। দর্শকরা এখানে ভিন্ন কিছু চমক দেখতে পাবেন। তা ছাড়া পাঠকদের কল্পনায় হেঁটে বেড়ানো চরিত্রটি পর্দায় জীবন্ত হয়ে ধরা দেবে। হৃদিতার স্নিগ্ধতা, চাঞ্চল্যতা সেখানে ফুটে উঠবে।

সিনেমায় যুক্ত হওয়ার আগে উপন্যাসটি পড়েছিলেন

না, সত্যি বলতে এর আগে উপন্যাসটি আমার পড়া হয়নি। তবে স্ক্রিপ্ট হাতে নেওয়ার আগে উপন্যাসটি পড়ি। কেননা আমার তখন একজন পাঠক হয়ে হৃদিতাকে জানা প্রয়োজন বলে মনে হয়েছিল। পাঠকদের চোখে হৃদিতা কেমন সেটা জানতে উপন্যাসটি পড়ি আমি।

puja chery

পরিচালদ্বয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

এটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। কারণ উনারা ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র নির্মাতা জুটি। অনেক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তা ছাড়া অনেক সিনিয়র আর্টিস্টদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এসব কারণে তাদের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। সবমিলিয়ে দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। 

এবিএম সুমনের সঙ্গে রসায়নটা কেমন ছিল?

সুমন ভাইয়ের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। তার সঙ্গে একটি পার্টিতে প্রথম দেখা হয়েছিল। উনি খুব চুপচাপ মানুষ। খুব ভালো অভিনয় করেন। বেশ ভালো লেগেছে উনার সঙ্গে কাজ করে। 

puja chery

‘হৃদিতা’ সিনেমাটি থেকে কী ধরনের বার্তা পাবেন দর্শক?

সাধারণত বাণিজ্যিক সিনেমায় যেমন পাঁচটা গান, আট-দশটা অ্যাকশন থাকে হৃদিতা সিনেমাটি তেমন না। এটি আলাদা ঘরানার একটি ছবি। হৃদিতা মেয়েটির সঙ্গে দর্শকরা নিজেদের সংযুক্ত করতে পারবেন। অল্পবয়সী মেয়েরা নিজেকে হৃদিতা ভাববে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, একটা মেয়ে তার ভালোবাসার জন্য কী করতে পারে আর কী না করতে সিনেমাটিতে সেটা দেখতে পাবেন দর্শক।

আরআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর