শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে আবু হেনা রনির ‘হাসির মঞ্চ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

শেয়ার করুন:

আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে আবু হেনা রনির ‘হাসির মঞ্চ’

আত্মহত্যা প্রতিরোধের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়কে হাসি, কমেডি ও মানবিকতার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্কুল অব কমেডি’র বিশেষ আয়োজন ‘হাসির মঞ্চ’। 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যমণ্ডল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ কমেডি শো। 

‘ব্যাকবেঞ্চার কমিউনিকেশনস’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে হাসির পাশাপাশি উঠে আসে জীবনের প্রতি ভালোবাসা, কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং মনের কথা বলার গুরুত্ব। 

‘আসুন, হাসতে হাসতে মরি’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। স্লোগানের রসিকতার আড়ালে ছিল জীবনের পক্ষের একটি সহজ বার্তা- মরে যাওয়ার কথা নয়, বরং জীবনের পুরোটা সময় হাসতে হাসতে বেঁচে থাকার কথা।

অনুষ্ঠানে ‘স্কুল অব কমেডি’র হেডমাস্টার ও আয়োজনের মূল আকর্ষণ ‘মীরাক্কেল’ চ্যাম্পিয়ন আবু হেনা রনি তার স্ট্যান্ডআপ কমেডি পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। হাস্যরস, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, জীবনের নানা পর্যবেক্ষণ ও সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় প্রাণবন্ত এক সন্ধ্যা। 

একইসঙ্গে হাসির মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ এবং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে আয়োজনের কথাবার্তায়।

22

আয়োজন প্রসঙ্গে আবু হেনা রনি বলেন, ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধের মতো একটা বিষয় নিয়ে আমরা শুধু গম্ভীর আলোচনা করতে চাই না। কারণ মানুষ যখন হাসে, তখন সে একটু সহজ হয়, মানুষের কাছাকাছি আসে। আমরা সেই জায়গাটাকেই ব্যবহার করতে চেয়েছি। কাউকে বিচার না করে তার কথা শোনা, তার পাশে দাঁড়ানো- এই ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসতে হাসতে মরি’ কথাটা শুনলে প্রথমে হাসি পায়, এটাই তো কমেডির কাজ। কিন্তু এর ভেতরে আমাদের একটা খুব সিরিয়াস কথা আছে- মরে যাওয়ার আগে নয়, বরং বেঁচে থাকতেই যতস্টা সম্ভব হাসি, আনন্দ আর ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা চাই মানুষ কষ্টের সময়ে চুপ না থেকে কথা বলুক, মানুষের কাছে যাক, সাহায্য চাইতে দ্বিধা না করুক।

‘স্কুল অব কমিটি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, আত্মহত্যা প্রতিরোধ শুধু একটি দিনের বিষয় নয়। একজন মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা, তাকে একা না থাকতে দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া- সব সামাজিক দায়িত্বের অংশ। কমেডির মতো একটি সহজ ও জনপ্রিয় শিল্পমাধ্যমের মাধ্যমে সেই কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল ‘হাসির মঞ্চ’র অন্যতম উদ্দেশ্য।

‘স্কুল অব কমেডি’ বিশ্বাস করে, হাসি মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমায়, কথা বলার জায়গা তৈরি করে এবং কঠিন সময়েও জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘হাসির মঞ্চ’র এই আয়োজন।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর