মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আওয়ামী লীগ অনুশোচনায় না ভুগে দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী আচরণ করে যাচ্ছে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

আওয়ামী লীগ অনুশোচনায় না ভুগে দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী আচরণ করে যাচ্ছে

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন শোবিজ তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। হামলার ঘটনার পর এক পোস্টে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দাবি করেছেন, বিদেশে বসে ফ্যাসিবাদের দোসরদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে দেশের সুশীল সমাজের ভূমিকা রয়েছে। যদিও তিনি বাঁধনের হামলা নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন কি না তা স্পষ্ট করেননি।  

ফারুকীর পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবাহু তুলে দেওয়া হলো: 

আওয়ামী লীগ যে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুশোচনায় না ভুগে দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী আচরণ করে যাচ্ছে, এর দায় সেই সুশীল সমাজের, যারা জুলাই গণহত্যার রক্ত হাতে থাকা এই অপরাধীদের পুনর্বাসন নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি করছিলেন।

এই দায় সেই সব মানুষের, যারা জুলাই গণহত্যার সম্মতি উৎপাদনকারীদের এবং সমবেদনা প্রকাশকারীদের টেলিভিশন মিডিয়ায় স্পেস দিয়েছিলেন গণহত্যাকারী দল আর অন্যদের এক পাল্লায় তুলে কথা বলার জন্য। যাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এই কথা বলার জন্য যে, আচ্ছা তারেক রহমান লন্ডন থেকে রাজনীতি করতে পারলে খুনি হাসিনা কেন ভারত থেকে সেটা করতে পারবে না? যেন তারেক রহমান জুলাই গণহত্যা করে, হাজার হাজার মানুষ গুম-খুন করে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে লন্ডন গিয়েছিলেন।

এই দায় আমাদের জুলাইয়ের পক্ষশক্তির সবার, যারা নিজেদের ক্ষমতার লড়াইয়ে ওপরের হাত নেওয়ার জন্য যে যার মতো করে এই বিশৃঙ্খলাকে উসকে দিয়েছি। এই দায় আমাদের অন্তর্বর্তী ও বিএনপি সরকারের, কারণ আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধীদের বিচার বা তিরস্কারের আওতায় আনতে পারিনি। ফ্যাসিবাদের মূল শক্তি হলো এর সম্মতি উৎপাদনকারীরা। এদেরকে একটি কমিশনের সামনে এনে বিচারের মুখোমুখি না করার ফলেই এরা দেশে বসে বসে কুঁই কুঁই করার মাধ্যমে বিদেশে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ফিউয়েল জোগাচ্ছেন।

এই দায় আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তাদের, যারা পুরো জুলাই মাসে চুপ থাকে, ফ্যাসিবাদী অপকর্ম নিয়ে একটা কথাও বলে না, আর আগস্টের ১৫ তারিখ আসলে বলে ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’। এর মধ্য দিয়ে তারা বিদেশে থাকা সন্ত্রাসীদের এই বার্তাই দেয় যে তোমরা কোনো অপরাধবোধে না ভুগে তোমাদের কাজ চালাতে পারো। শুধু একটা কথা লিখে রাখুন, একাত্তরের রাজাকারকে মানুষ যেমন ঘৃণা করে, চব্বিশের  দোসরদেরও মানুষ একই চোখে দেখবে।

অবশেষে, এই দায় আমাদের বিএনপি সরকারের একটি অংশেরও, যারা মিডিয়া এবং সংস্কৃতিকে আওয়ামী এবং সিআরআইয়ের হেফাজতে তুলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। আপনি বিপ্লব-পরবর্তী সরকার চালাবেন স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভিত্তি করে। আর আপনার মিডিয়া এবং কালচার ক্যানন হবে বাকশাল আর সিআরআই— এটি একটি অবিশ্বাস্য কম্বিনেশন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইলে একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন, আপনার সরকারের ভেতরে বসে কারা ফ্যাসিবাদের সফট পাওয়ারকে স্পেস দিচ্ছে, কারা কারা তাদের ক্ষমতায়ন করছে। আপনার সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি জানে কালচারাল লীগ এবং মিডিয়া লীগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে কী আলোচনা হয়? কী পরিকল্পনা হয়? এবং কীভাবে সেই পরিকল্পনা মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা আকারে আসে? এবং কোন প্রোপাগান্ডা কোন সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকে করা হচ্ছে? তারা কি জেনেশুনে এদের ক্ষমতা দিচ্ছেন?

যারা এটা করছেন তারা ভুলে যাচ্ছেন, জুলাই কোনো ওয়ান-ইলেভেন মার্কা সরকার পরিবর্তন ছিল না যে বলবে ‘যা হয়েছে হয়েছে, এসো মিলেমিশে খেলি’। তারা এটা ভুলে যাচ্ছেন যে জুলাইতে গণহত্যা হয়েছে, জুলাইয়ের আগের ষোলো বছর গুম-খুন ছাড়াও দেশটা আক্ষরিক অর্থেই অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তারা ভুলে যাচ্ছেন, বাকশালের অনুসারীরা এখনো প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষা করছে একটি ছোবল মারার। মনে রাখবেন, ‘হৃদয়ে বাকশাল’-এর কাছে বিএনপিই হলো আসল শত্রু।

আপনাকে প্রতিহিংসার আশ্রয় নিতে বলছি না, তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধের জন্য তিরস্কার বরাদ্দ রাখার কথা বলছি। এদের ক্ষমতায়ন বা উদ্‌যাপন না করার কথা বলছি।

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর