ইতালির ভেনিসে একটি পার্কে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হামলার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এমনকি তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছে। ঘটনার পর এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।
তিনি বলেন, ‘ইতালির পুলিশ আমাকে প্রচণ্ডভাবে সাহায্য করেছে। ফোন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থানায় মামলা করতে যাচ্ছি। আমার কাছে সব প্রমাণ রয়েছে। ঘটনার সময় নিজেই ভিডিও করেছিলাম। সেই ভিডিওতে হামলাকারীদের মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাই সামাজিক মাধ্যমে গর্বের সঙ্গে তাদের ন্যাক্কারজনক কাজের ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে গর্ব করে বলছে তারা ছাত্রলীগ করে, আওয়ামী লীগ করে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক।’
হামলাকারীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঁধন করেন, ‘আমাকে ভেঙে ফেলা তো এত সহজ না। এটা হয়তো বুঝতে ওদের সমস্যা হয়েছে। আমি জানি না, কতটা নির্লজ্জ ও বিকৃত মানসিকতার হলে একটি দলের সমর্থকরা এমন হতে পারে। এই দলের মানুষগুলোই আবার বোঝানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশের নারীরা নাকি তাদের আমলে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ছিল। আর বাকি সময়ে কেউ নিরাপদ নয়। অথচ তারা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রীকে, একজন নাগরিককে হেনস্তা করেছে, অপমান করেছে, গায়ে হাত তুলেছে, মারছে ও গালিগালাজ করেছে। আমাকে জোর করে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে। বুক চাপড়ে তারা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সাহসী যোদ্ধা বলে দাবি করেছে। আমি জানি না, মানুষ মারা যাওয়ার পর এমন পরিস্থিতি দেখলে তাদের লজ্জা হয় কি না। আমি সত্যিই লজ্জিত, শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতার অনুসারীরা এমন হতে পারে!’
কথা সূত্র ধরে তিনি যোগ করেন, ‘আমাকে যেভাবে আঘাত, অবমাননা করা হয়েছে তাতে একজন বাংলাদেশি হিসেবে লজ্জা পেয়েছি। এরা এতদিন ধরে দেশটাকে শোষণ করেছে। এখন আর সেই সুযোগ না থাকায় তারা বেপরোয়া ও হায়নার মতো হয়ে গেছে।’
ইতালির সরকার কি এর সঠিক বিচার করবে বলে আপনি মনে করেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করি আমি এখানে বিচার পাবো। আমাদের দূতাবাসকে বলে যাবো যেন তারা বিষয়টি ফলোআপ করে। কারণ আমি তো আর এখানে থেকে মামলা চালিয়ে যেতে পারব না। তবে নিশ্চিত করতে চাই, হামলার সঙ্গে জড়িত যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন তারা যেন গ্রেফতার হন। আর যারা বৈধভাবে আছেন, তারাও যেহেতু একটি দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন তাই তারা যেন অবশ্যই যথাযথ শাস্তি পান।’




