কাজের ফাঁকে দুপুরের খাবারের পর একটুখানি চোখের পাতা বোজার ফুরসত কার না ভালো লাগে? কিন্তু ডেস্কের ওপর মাথা রাখার জায়গার অভাবে সেই স্বস্তিটুকু অনেক সময় পাওয়া হয়ে ওঠে না। এই সমস্যার দারুণ এক সমাধান বের করেছে চীনের একটি সিনেমা হল। কর্মজীবীদের বিশ্রামের কথা মাথায় রেখে সিনেমা হলগুলোকে ঘুমানোর ঘরে রূপান্তর করেছে তারা। অত্যন্ত কম খরচে অভিনব সেবাটি অফিস কর্মীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
হংকংয়ের সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনের শিয়ান প্রদেশের লুমিয়ের সিনেমা হলে গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে সেবাটি চালু করে। মাত্র ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিশ্রামের সুযোগ পান গ্রাহকরা। দুইজনের জন্য মাসে খরচ পড়ে প্রায় ১২ হাজার টাকা।
বিশ্রামের সময় ব্যবহারের জন্য কম্বল, কফি এবং অন্যান্য পানীয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে চোখের পট্টি ও কানের ছিপি আলাদা ভাড়ায় নিতে হয়। কক্ষগুলোর পরিবেশ শান্ত রাখতে মোবাইল ফোন অবশ্যই সাইলেন্ট রাখতে হয়। জরুরি ফোনে কথা বলতে হলে বাইরে গিয়ে কথা বলতে হয়। এছাড়া রুমের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জুতো খুলে প্রবেশ করা বাধ্যতামূলক। কেউ জোরে নাক ডাকলে অন্যদের সুবিধার জন্য অনেক সময় তাকে ম্যাসাজ সিটের রুমে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সিনেমা হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সপ্তাহের কর্মদিবসের দুপুরে সাধারণত দর্শক সমাগম কম থাকে। অলস সময়ে স্ক্রিন রুমগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয় করার উদ্দেশ্যে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর সুফলও হাতেনাতে মিলছে। কারণ বেশিরভাগ কর্মদিবসে এখন অর্ধেকের বেশি সিট পূর্ণ থাকছে।
চিনের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অতিরিক্ত কাজের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে কিছুটা স্বস্তি খোঁজার প্রবণতা রয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লাইং-ডাউন প্ল্যান’। চীনের একটি কোম্পানির ৩৩ বছর বয়সি এক অফিস কর্মী গুও গত চার মাস ধরে নিয়মিত সেবাটি নিচ্ছেন। তার মতে, অফিসের ডেস্কে মুখ গুঁজে ঘুমানোর চেয়ে অন্ধকার, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক পরিবেশে পা ছড়িয়ে ঘুমানো অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক। চীনের স্লিপ রিসার্চ সোসাইটির মার্চ মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ দুপুরবেলা অন্তত ৩০ মিনিট ঘুমাতে পছন্দ করেন। স্থানীয় সামাজিক মাধ্যমেও সেবাটিকে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। অনেকে এটি দেশজুড়ে চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় সিজিভি ও মেগাবক্সের মতো সিনেমা হলগুলো সীমিত পরিসরে দুপুরের বিরতিতে ঘুমের ব্যবস্থা চালু করেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ঘুমভিত্তিক অর্থনীতির বাজার দ্রুত প্রসার লাভ করছে। কোরিয়া স্লিপ ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার ঘুমের বাজারের আকার ২০১১ সালের প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে এসে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ইএইচ/




