শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা, শিল্পচর্চা ও প্রকৃতিপ্রেমকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দোলন শিশুদের পত্রিকার আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে অনুষ্ঠিত ‘দোলন বর্ষা আর্ট এক্সিবিশন–২০২৬’ গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের বর্ষা বিষয়ক চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়।
বর্ষা ঋতুকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে শিশুদের রঙ-তুলিতে ফুটে ওঠে বৃষ্টি, নদী, নৌকা, কাশফুল, সবুজ প্রকৃতি, গ্রামবাংলার জীবন, জলমগ্ন পথঘাট এবং বর্ষার নানা নান্দনিক দৃশ্য। তাদের কল্পনা ও সৃজনশীলতায় বাংলাদেশের চিরচেনা বর্ষা পেয়েছে নতুন এক শিল্পরূপ।
প্রদর্শনীর শেষ দিনে কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক মজিদ মাহমুদ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। তিনি শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবি গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি শিশুদের শিল্পচর্চায় উৎসাহ দেন এবং তাদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে আরও বিকশিত করার আহ্বান জানান।
এর আগে প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ চঞ্চল। এছাড়াও প্রদর্শনীতে শিল্পী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিল্পপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল।
আয়োজকরা বলেন, শিশুদের শিল্পচর্চা শুধু ছবি আঁকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে তাদের কল্পনাশক্তি, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও নান্দনিকবোধ গড়ে ওঠে। সেই লক্ষ্যেই ‘দোলন’ নিয়মিতভাবে শিশু-কিশোরদের নিয়ে বিভিন্ন শিল্প ও সৃজনশীল আয়োজন করে আসছে।
দোলন শিশুদের পত্রিকার সম্পাদক ও আয়োজক কামাল মুস্তাফা বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। শিশুদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনের পাশাপাশি তাদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ দেওয়াও দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।
‘দোলন বর্ষা আর্ট এক্সিবিশন–২০২৬’-এ অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের সম্মাননা প্রদান করা হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৩টায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে সকল অংশগ্রহণকারীর হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র এবং স্মারক ক্যাটালগ তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচিত বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার প্রদান করা হবে। থাকবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিশু-কিশোরদের এই শিল্পযাত্রা তাদের ভবিষ্যৎ সৃজনশীল জীবনে অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প, প্রকৃতি ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর করবে।
আরআর




