আগামীকাল ২১ আগস্ট ঢালিউডের প্রবাদ পুরুষ নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতিবছর এই দিনে ভক্তদের হৃদয়ে শোকের আয়োজন যেন অবধারিত। তবে একসময় যেখানে নিয়মিত ছিল এ কিংবদন্তির বিচরণ সেই এফডিসিতে পরিচালক সমিতির মিলাদ ছাড়া নেই কোনো আয়োজন।
এফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘নায়ক রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকী যেহেতু সরকারিভাবে পালন করা হয় না তাই এফডিসির উদোগে কোনো আয়োজন থাকছে না। দিনটিতে (২১ আগস্ট) আমরা শুধু ওনাকে নিয়ে একটি পোস্ট দিই। তবে বিভিন্ন সংগঠনগুলো তাকে নিয়ে আয়োজন করে থাকে।’
তবে সেখানেও এবার নিরবতা। চলচ্চিত্রের সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। নায়করাজ রাজ্জাক ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। অথচ দিনটিতে রাজ্জাকের হাতে গড়া সংগঠনটি কোনো আয়োজন রাখেনি বলে জানালেন সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। কারণও ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
জয় বলেন, ‘আগে প্রতি মাসে একবার করে মিলাদ দিতাম। সদস্যদের এসএমএস করে দাওয়াত দেওয়া হলেও কেউ আসতেন না। এমনকি যেসব শিল্পী মারা গেছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের জানালেও কখনও আসেননি। সে কারণে আমরা গত বছর যেটা করেছি— এ যাবত যত শিল্পী মারা গেছেন তাদের সবার জন্য বছরের একদিনে সম্মিলিতভাবে আয়োজন। যেখানে কোআরান তেলাওয়াত, খতমের পাশাপাশি দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। এতে বেশ সাড়া পেয়েছি। শিল্পীদের পরিবারের সদস্যরা এসেছিলেন। এবারও তাই করব। তাই আলাদাভাবে নায়করাজের চলে যাওয়ার দিনে কোনো আয়োজন থাকছে না।’ চলচ্চিত্রে ১৯ সংগঠনের মুখপাত্রও জয় চৌধুরী। সেসব সংগঠনগুলোও নায়করাজের মৃত্যুদিনে নীরব থাকছে বলে জানালেন তিনি।
অভিনেতার পাশাপাশি পরিচালকও ছিলেন রাজ্জাক। একাধিক সফল সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি। সংগঠনটি ভোলেনি তাকে। পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন কবির টুটুল বলেন, ‘নায়করাজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা আলোচনা সভা, শোকবইয়ে স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন আয়োজন করেছিলাম। পরের বার থেকে দিনটিতে (২১ আগস্ট) মসজিদে মিলাদের আয়োজন করি। এবারও এফডিসির মসজিদে ওনার জন্য মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকছে।’
নায়করাজ রাজ্জাকের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি টালিগঞ্জের নাগতলাপাড়ার আট নম্বর বাড়িতে তার জন্ম। এই নায়ক ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে।
আরআর




