‘ঈরার পদ্ম’ নাটক দিয়ে দর্শকের মন ভরিয়েছিলেন সাদনিমা বিনতে নোমান। ফের ঈরা হয়ে ক্যামেরায় দাঁড়িয়েছেন। ‘ঈরার পদ্ম ২’-ও লুফে নিয়েছেন দর্শক। প্রশংসিত হচ্ছেন অভিনেত্রী। সেই সূত্র ধরে সাদনিমার সঙ্গে আলাপ জমেছিল ঢাকা মেইলের।
‘ঈরার পদ্ম ২’ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। একই চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আগের পর্বের ঈরাকে কি প্রতিদ্বন্দী মনে হয়েছে?
‘ঈরার পদ্ম’র সাফল্যের কারণে আমরা ‘ঈরার পদ্ম ২’ করেছি। ভালো সাড়া পাচ্ছি। আগের ঈরাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়েছে। তবে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চিন্তা ছিল না। বরং ভাবছিলাম প্রথম পর্বের ঈরাকে যেন দ্বিতীয় পর্বেও স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটিয়ে তুলতে পারি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও চাপ ছিল না। সেক্ষেত্রে আমরা সফল। দর্শক ভালোভাবে নিচ্ছেন। তারা ‘ঈরার পদ্ম ৩’-এর অপেক্ষা করছেন। সব ঠিক থাকলে চিন্তাভাবনা করতে পারি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার কাজের প্রশংসা হয়। সেসব চোখে পড়লে কেমন লাগে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি তেমন সক্রিয় না। তবে মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। বন্ধুরাও পাঠায়। মানুষ যখন কোনো কাজ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করে এবং পরবর্তী কাজের জন্য আগ্রহ দেখায় তখন অনেক ভালো লাগে।
‘রাক্ষস’ দিয়ে সিনেমায় অভিষেক। অভিজ্ঞতা কেমন?
‘রাক্ষস’ আমার প্রথম সিনেমা। স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করেছি। টিমটা খুব ভালো ছিল। সবাই যত্ন সহকারে কাজ করেছে। মেহেদী হাসান হৃদয় ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ। সিয়াম ভাইয়ের (সিয়াম আহমেদ) সঙ্গে ছোটবেলায়ও কাজ হয়েছিল। ওনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সবসময়ই ভালো।
নিজেকে মেলে ধরতে ছোটপর্দা কতটা উপযুক্ত?
এখানে নিজেকে মেলে ধরার অনেক সুযোগ রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ব্যতিক্রমী অভিনয়ের সুযোগ আছে। আমার চরিত্রগুলো শহুরে হলেও গল্পে বৈচিত্রতা আছে। যেখানে নিজেকে আমি বিভিন্নভাবে প্রকাশ করতে পেরেছি। সবমিলিয়ে নাটকে নিজেকে এক্সপ্লোর করার অনেক সুযোগ আছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম একটু বেশি গোছালো এবং বড় পরিসরে কাজের সুযোগ আছে। তবে আমার কাছে দুই জায়গায়ই ভালো লেগেছে। আরও ভালো সুযোগের অপেক্ষায় আছি।
অভিনয়ের পাশাপাশি চাকরি করছেন। অভিনেত্রী পরিচয় কর্মক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়?
অভিনেত্রী হিসেবে কর্মক্ষেত্রে অনেক সুবিধা পাই। বলতে গেলে অন্য সহকর্মীদের তুলনায় বেশি। কর্মস্থলের সবাই জানে আমি আরেকটি পেশায়ও যুক্ত। তারা খুব সম্মানের সঙ্গে ছাড় দেন। এমন কখনও হয়নি কোনো সহকর্মী আমার অভিনয় পেশাকে ছোট করে দেখেছেন। বরং আমি যেন ঠিকঠাক শুটিং করতে পারি সেজন্য অনেক সময় ছাড় দিয়েছেন। আমার পেন্ডিং কাজ করে দিয়েছেন। এদিক থেকে আমি ভাগ্যবান। তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
নাটকেই নিজেকে আটকে রাখতে চান? নাকি ওটিটি-সিনেমা নিয়ে পরিকল্পনা আছে?
কোথাও নিজেকে আটকাতে চাই না। ওটিটিতে কাজ হয়েছে। আরও কাজ নিয়ে কথা চলছে। ব্যাটে-বলে মিললে করব। তবে আমার কাছে প্ল্যাটফর্মের চেয়ে কাজ গুরুত্ব পায়। ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি ভালো কাজ করতে। সেটা যে প্ল্যাটফর্মেই হোক।
সহশিল্পীর সঙ্গে জুটি বাঁধলে অনেকেই মনে করেন তারা প্রেম করছেন। এটা উপভোগ করেন নাকি বিরক্ত লাগে? ব্যক্তিজীবনে প্রভাব ফেলে?
প্রথম যখন কাজ শুরু করি তখন একটি গসিপের মধ্যে পড়েছিলাম। গসিপটা এখনও আছে। সে সময় বিব্রত হতাম। এসব কেন বলছে, মানুষ কী মনে করবে— এরকম ভাবতাম। এখন তেমন কিছু মনে হয় না। কেননা ছোটবেলায় আমরাও এরকম ভাবতাম। কোনো জুটিকে কাজ করতে দেখলে মনে হতো তারা সামনে হয়তো বিয়ে করবে কিংবা প্রেম করছে। এখন ইতিবাচকভাবে নেই। কারণ আমরা ওই জুটি নিয়েই ভাবতাম যাদের কাজ বেশি প্রত্যাশা করতাম। ওই জায়গা থেকে মনে হয় আমাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা একই। তাই বিব্রত হই না। আমার পরিবারের সবাই অনেক সাপোর্টিভ এবং তারা জানে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ভেবেই নেব। তাতে কেউ হেয় হবে না কিংবা ক্ষতির কারণ হবে না।
থাইল্যান্ডে ঘুরতে নাকি কাজে…
থাইল্যান্ডে শুটিংয়ের জন্য এসেছি। কয়েকটি ফিকশনের কাজ হবে। বেশ কিছুদিন থাকব। আশা করি এ মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে ফিরব। আপাতত পাতায়ায় আছি। দুই-একদিন বিরতি পেলে ব্যাংককের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করব।
আরআর








