প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ মৃত্যুর প্রায় তিনদশক পর এবার তাঁর ভাই শাহরানকে হত্যা হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি পেয়েছেন মামলার বাদী ও অভিনেতার মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। হুমকিদাতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মামলা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সালমান শাহর ভাইকেও একইভাবে হত্যা করা হবে।
বুধবার ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান আলমগীর কুমকুম। এ সময় তিনি সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া হুমকি বার্তার একটি স্ক্রিনশটও সাংবাদিকদের দেখান।সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন শুনানি শেষে এসব কথা বলেন অভিনেতার মামা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে আলমগীর কুমকুম জানান, সালমান শাহর ভক্ত পরিচয় দেওয়া ‘মামুন’ নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভের কমেন্ট বক্সে শাকিল কিবরিয়া নামের একটি আইডি থেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ওই কমেন্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে যেন কোনো বাড়াবাড়ি করা না হয়; অন্যথায় সালমানের ভাই শাহরানকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।
হুমকির ঘটনার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা রমনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ, সালমান শাহ হত্যা মামলাটি রমনা থানাতে দায়ের করা হয়েছিল।’
আদালত চত্বরে উপস্থিত সালমান শাহর ভক্ত পরিচয় দেওয়া মামুন সাংবাদিকদের জানান, সালমান ভক্তদের নিয়ে একটি মানববন্ধনের আহ্বান জানাতে তিনি ফেসবুকে লাইভে এসেছিলেন। সেই লাইভের কমেন্ট বক্সে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমেন্টটি মুছে ফেলা হলেও বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করার পাশাপাশি মামলার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান মামুন।
উল্লেখ্য, জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের একটি ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর প্রথমে তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন করা হয়।
ইএইচ/




