দিন কয়েক আগে জানা যায় মেঘলা মুক্তা আইসিইউতে। খবরটি অভিনেত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে জানা হয়। এবার সেখানেই মেঘলা মুখ খুললেন দুর্ঘটনা নিয়ে।
আজ ১০ আগস্ট নিজের ফেসবুক পেজে মেঘলা লেখেন, আপনাদের সবার দোয়া, ভালোবাসা আর প্রার্থনায় আজ আমি অনেকটাই বিপদমুক্ত। দূর-দূরান্ত থেকে যারা কাজ ফেলে আমাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন, যারা আসতে পারেননি কিন্তু দূর থেকে দোয়া করেছেন আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। এমনও শুনেছি, আমার প্রায় ৯–১০ ঘণ্টার অপারেশন চলাকালীন অনেকেই ওটির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমার জন্য প্রার্থনা করেছেন। এই ভালোবাসা কোনোদিনও শোধ করার মতো নয়।
এরপর লেখেন, মোবাইলটা হাতে পাওয়ার পর অসংখ্য মেসেজ, অসংখ্য দোয়া আর ভালোবাসা পেয়েছি। প্রতিটি মেসেজ পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবান, এত মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, আমার জন্য ভাবেন। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার অনেক অনেক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
মেঘলার কথায়, আলহামদুলিল্লাহ, এই মুহূর্তে আমি বিপদমুক্ত। তবে শরীরে এবং বিশেষ করে আমার মুখে কিছু ক্ষত ও দাগ রয়ে গেছে, যেগুলো সারতে হয়তো অনেকটা সময় লাগবে। দুর্ঘটনার আঘাতটা আমার পুরো মুখের ওপর দিয়েই গেছে। অনেক সেলাইয়ের দাগ, অনেক ক্ষত এখনো স্পষ্ট।
দুর্ঘটনা পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে অভিনেত্রীর উপলব্ধি, সবচেয়ে কঠিন সময়টা হয়তো এখনই নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে প্রতিদিন নতুন করে দেখতে হচ্ছে, আর ভাবতে হচ্ছে, এই পরিবর্তনটাকে আমি কীভাবে গ্রহণ করব, কীভাবে এখান থেকে নিজেকে আবার আগের মতো করে গড়ে তুলব। বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ আমি পারব।
তার কথায়, আপনাদের দোয়া আর ভালোবাসা সঙ্গে থাকলে খুব তাড়াতাড়িই এই কঠিন সময়টাও আমি পেরিয়ে যাব। তবে তার আগ পর্যন্ত হয়তো আমাকে একটু আড়ালে থাকতে হবে। নিজেকে সময় দিতে হবে, সুস্থ হতে হবে, নিজের ক্ষতগুলোকে সারিয়ে তুলতে হবে।
দুর্ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, দুর্ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক ধরনের কথা ছড়িয়েছে। কিন্তু আমার অ্যাডমিন প্যানেল থেকে যে তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিই সত্য। আমি রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই বনানী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমি এখন এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। ইনশাআল্লাহ, শারীরিকভাবে আরও সুস্থ হয়ে খুব শিগগিরই আপনাদের সামনে এসে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বলব—কী ঘটেছিল, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সামনে কী করা হবে, সবকিছু।
মেঘলা লিখেছেন, আপনারা সবাই জানেন, আমি একজন অভিনেত্রী। অভিনয়ই আমার কাজ, আমার ভালোবাসা, আমার স্বপ্ন। একজন অভিনেত্রীর কাছে তার চেহারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হয়তো আপনারা সবাই বুঝতে পারেন। আর সেই চেহারায় যখন হঠাৎ করে এতগুলো ক্ষত, সেলাই আর দাগ দেখতে হয়, তখন মানসিকভাবে সেটা কতটা কঠিন—সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই সম্ভব নয়। তারপরও আমি হাল ছাড়তে চাই না।
মেঘলার আশংকা পেশাগত জীবনে দুর্ঘটনার প্রভাব পড়বে। তার কথায়, অনেক কাজ গুছিয়ে রেখেছিলাম। অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট পড়েছিলাম, কিছু কাজ খুব শিগগিরই শুরু করার কথা ছিল। হয়তো এখন সেগুলোর কিছুটা পিছিয়ে যাবে, হয়তো কিছু কাজ আমি সময়মতো করতে পারব না। এই বিষয়গুলোও আমাকে কষ্ট দেয়। তবে জীবন আমাকে আরেকবার শিখিয়েছে সবকিছুর আগে বেঁচে থাকা, সুস্থ হয়ে ওঠা এবং আবার দাঁড়িয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসা প্রসঙ্গে লেখেন, দেশে কিংবা দেশের বাইরে, যেখানে যত ভালো চিকিৎসা প্রয়োজন, আমি সেই চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি, সময়, চিকিৎসা, আমার নিজের মানসিক শক্তি আর আপনাদের দোয়া সব মিলিয়ে একদিন আবার আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারব। হয়তো একটু সময় লাগবে। হয়তো আগের মতো হতে কিছুটা পথ হাঁটতে হবে। কিন্তু আমি ফিরব, ইনশাআল্লাহ।
র্যাম্পে কাজ করতেন মেঘলা। ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’ নামের একটি তেলেগু ছবিতেও অভিনয় করেছেন। দেশের ‘পায়ের ছাপ’, ‘কাঠগোলাপ’ ও ‘আগুনের পাখি’ ছবিগুলোতে দেখা গেছে তাকে। সবশেষে ‘চক্র ২’ ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করে আলোচিত হন মেঘলা।
আরআর




