সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মমকে নিয়ে করা একটি মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী ডলি জহুর। অনেকে বলছেন মমকে নিয়ে প্রশংসা করতে গিয়ে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন ডলি। তবে সমালোচনাকে মোটেও গায়ে মাখছেন না বরেণ্য এ অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, তিনি কোনো অন্যায় কথা বলেননি।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেইলকে ডলি জহুর বলেন, ‘শিল্পীরা আমার পরিবার, সন্তানের মতো। শুটিং ইউনিট, মিডিয়া ছাড়া চলতে পারি না। তাই এদের সাথে ঠাট্টা-মসকরা করি। ভালোবেসে কথা বলি। সেদিন যখন মমর (জাকিয়া বারী মম) অভিনয়ের প্রশংসা করতে বলা হলো, আমি নিজের সন্তানের মতো আদর করে কথাটা বলেছিলাম। মম নিজেও জানে তাকে কতটা ভালোবাসি। আমি তো ওঁকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড বলে ডাকি। কিন্তু সুইজারল্যান্ডে থাকা এক অল্প বয়সী মেয়ে প্রথম এটা নিয়ে নেতিবাচকভাবে লিখে ছড়িয়ে দেয়। মানুষ আজকাল খারাপ জিনিসে বেশি বাহবা দেয়। ভাইরাল হতে চায়। কিন্তু ৫০ বছরের ক্যারিয়ারে এসে মানুষ এতটা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেবে তা ভেবে খুব কষ্ট লেগেছে।’

ডলি জহুরের মন্তব্যের জেরে অনেকে তাঁর পরিবারকে টানছেন। যা তাকে বেশ পীড়া দিচ্ছে। তিনি বললেন, ‘সবচেয়ে খারাপ লেগেছে এ ঘটনায় ছেলের বউকে নিয়ে কথা হচ্ছে। অথচ আমার ছেলের বউ মিডিয়ার কেউ না। নাটক দেখে না। সে অত্যন্ত নম্র, পর্দাশীল এবং ধর্মপ্রাণ পরিবারের একটি মেয়ে। সাধারণত ফেসবুকে কারও মন্তব্যের উত্তর দিই না। কিন্তু কাল রাগ সামলাতে না পেরে উত্তর দিয়েছি। আমাকে অনেকে অহংকারী বলছে। অথচ জাতীয় পুরস্কারসহ জীবনে এত সম্মান পেয়েও আমি কখনো অহংকার করিনি। আমার কাছে দর্শকের ভালোবাসা সবচেয়ে বড়। সেই দর্শকরা যখন না বুঝে এমন কথা বলে তখন কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক।’
পুরো বিতর্কটি দেখার পর কী আপনার মনে হচ্ছে কথাটা ওই জায়গায় না বললেই ভালো হতো? জবাবে তিনি বলেন, ‘একেবারেই মনে হচ্ছে না যে কোনো অন্যায় কথা বলেছি। কেননা আমার নিয়ত খারাপ ছিল না। আপন মানুষদের সাথে বাস্তবে যেভাবে ঠাট্টার ছলে কথা বলি এটাও তেমনই ছিল। সাংবাদিকদের সামনে স্বাভাবিকভাবে হেসে কথাটি বলেছিলাম। তাই এখানে ভুল স্বীকার বা কারেকশন করার মতো কিছু হয়েছে বলে মনে করি না।’
তিনি আরও বলেন, “যারা অন্যের সমালোচনা করেন। মানুষকে ছোট করে কথা বলেন, তারা নিজেদের চরিত্র বুঝতে পারেন না। সবাই যেভাবে মন্তব্য করেছেন তাতে স্পষ্ট আমাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছেন। এমন মন্তব্য করে কী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন? আমার শিক্ষা, পারিবারিক মর্যাদা আর পাঁচ দশকের অর্জিত অভিজ্ঞতা কি কেউ চাইলে এক মিনিটে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারবে? ভাইরাল হওয়ার লোভে যার মনে যা আসছে, মানুষ তা-ই করে বেড়াচ্ছে। আমার সহকর্মী ও স্নেহের জুনিয়র শিল্পীরা অনুরোধ করে বলেছে— ‘মা, এসব ভিত্তিহীন কথায় কান দেওয়ার বা উত্তর করার প্রয়োজন নেই’।”
ইএইচ/




