বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদাপূর্ণ স্থান দিয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সাহিত্যের সকল শাখা সমৃদ্ধ হয়েছে তার কলমের ছোঁয়ায়। তার সৃষ্টিকর্ম উঠে এসেছে ঢালিউডেও। কবির ছোটগল্প ‘সুভা’ অবলম্বনে একই নামে সিনেমা বানিয়েছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। এতে শাকিব খানের বিপরীতে ছিলেন পূর্ণিমা।
কবিগুরুর প্রয়ান দিনে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘সুভা’র অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন পূর্ণিমা। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। ২১ বছর আগের সে কথা তুলতেই স্মৃতিতাড়িত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।

ছবিটিতে বাক প্রতিবন্ধী তরুণীর চরিত্রে দেখা গেছে। এত বছর পরে এসে চরিত্রটি নিয়ে পূর্ণিমার উপলব্ধি, ‘২১ বছর পর ছবিটির কথা ভাবলে অবাক লাগে—এত কঠিন একটি চরিত্র তখন কীভাবে করেছি!’ ছবিটি শাকিব যোগের কারণেও বিশেষ অভিনেত্রীর কাছে। সেইসঙ্গে জানান, ছবির শুটিং ছিল খুবই কষ্টের।
তার কথায়, ‘‘সুভা’ ছবির শুটিং ছিল সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টের। আমার পুরো অভিনয়জীবনে এমনটা আর কোনো সিনেমায় হয়নি। চাষী আঙ্কেল এই ছবির জন্য আমার ও শাকিবের পেছনে অনেক সময় দিয়েছেন। চরিত্রের উপযোগী করে আমাদের তৈরি করেছেন। পুবাইলে ভাদ্র মাসের ভয়াবহ গরমে শুটিং করেছি। এত গরম ছিল, যে কাপড় পরে শুটিং করতাম, তা মুহূর্তেই ঘেমে ভিজে যেত। টানা কাজ করে শুটিং শেষ করেছি।’’

এরপর বলেন, ‘‘ছবিটি নিয়ে কষ্টের যেমন দিক আছে, সবচেয়ে ভালো লাগারও অনেক দিক আছে। এটা আমার জীবনের এমন একটা ছবি, যেটার টাইটেল আমার চরিত্রের নামে—এমনটা কখনও ঘটেনি। সে হিসেবে বলব, ‘সুভা’ আমার অভিনয়জীবনের সুন্দর একটা প্রাপ্তি। এই ছবির জন্য শাকিবও অনেক কষ্ট করেছে। তখন সে খুবই ব্যস্ত নাচ, গান আর ফাইট–নির্ভর ছবিতে। কিন্তু এই গল্পটায় রাজি হওয়ার পর সে বেশ সিরিয়াস হয়। এই ছবির ফাঁকে অন্য কোনো কাজ করেনি। ছবি মুক্তির পর মানুষও এক দুর্দান্ত অভিনেতা শাকিবকে দেখতে পেয়েছিলেন।’’
এর বাইরেও রবি ঠাকুরের গল্পের নায়িকা হয়েছেন পূর্ণিমা। কবির আরও একটি ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায়ও দেখা গেছে তাকে। এতে তার বিপরীতে ছিলেন রিয়াজ। আরও অভিনয় করেন ফেরদৌস, রোজিনা প্রমুখ।
আরআর




