শোবিজ তারকাদের জনপ্রিয়তা মাপার নতুন অনুষঙ্গ সামাজিক মাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুকে কার অনুসারী কত, তা দিয়ে জনপ্রিয়তা পরিমাপ করছেন ভক্তরা। যদিও অভিনয় দক্ষতা সোশ্যাল মিডিয়ার অনুসারীর সংখ্যা দিয়ে নির্ধারণ করার ধারণাটি ভুল। তবে তাঁদের জনপ্রিয়তার একটি চিত্র তুলে ধরে। ইন্ডাস্ট্রিতে একক আধিপত্য শাকিব খানের। ভার্চুয়াল জগতেও নিজস্ব আধিপত্য বজায় রেখেছেন ঢালিউড সুপারস্টার। প্রায় ৭৬ লাখের বেশি অনুসারী নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। অন্যদিকে চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম থেকে শুরু করে সিয়াম আহমেদ কিংবা আফরান নিশোর রয়েছে লাখ লাখ ভক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় কার কত অনুসারী দেখে নেওয়া যাক এ প্রতিবেদনে।

শাকিব খান (৭৬ লাখ)
১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখেন শাকিব খান। ক্যারিয়ারের শুরুতে বেশ কিছু সিনেমায় কাজ করলেও সাফল্যের দুয়ার খুলতে লেগে যায় প্রায় অর্ধযুগ। ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কোটি টাকার কাবিন’ এবং ২০০৮ সালে ‘প্রিয় আমার প্রিয়’ ছবির ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির নম্বর ওয়ান নায়কে পরিণত করে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অভিনয় জীবনে চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। সিনেমাগুলো হলো ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘খোদার পরে মা’, ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’, ‘সত্তা’।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা করেছেন ‘হিরো: দ্য সুপারস্টার’, ‘পাসওয়ার্ড’ এবং ‘বীর’-এর মতো একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাকিব খান তার কাজের ধারায় বড় পরিবর্তন এনেছেন। অভিনেতার ‘প্রিয়তমা’, ‘রাজকুমার’, ‘তুফান’, ‘বরবাদ’ এবং ‘রকস্টার’ সিনেমাগুলো দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফেসবুকে শাকিবের অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৭৬ লাখের বেশি।

সিয়াম আহমেদ (৪৩ লাখ)
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শোবিজে পথচলা অভিনেতা সিয়াম আহমেদের। ছোট পর্দার রোমান্টিক নাটক থেকে শুরু করে বড় পর্দার চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০১২ সালে একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন সিয়াম। পরবর্তীতে ‘ভালোবাসা ১০১’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জগতে আসেন তিনি। রোমান্টিক ঘরানার নাটকে দর্শকের মন জয় করার পর ২০১৮ সালে রায়হান রাফী পরিচালিত ‘পোড়ামন ২’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবি বেশ প্রশংসিত হয়েছিল।
একই বছর ‘দহন’-এ নতুন রূপে হাজির হন সিয়াম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’, পারিবারিক গল্প ‘বিশ্বসুন্দরী’ কিংবা সামাজিক সচেতনতামূলক সিনেমা ‘মৃধা বনাম মৃধা’— প্রতিটি সিনেমায় বৈচিত্র্যময় অভিনয়শৈলী তুলে ধরেছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পরপর দুই বছর (২০২০ ও ২০২১) অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
বর্তমানে রোমান্টিক অভিনেতার খোলস ছেড়ে অ্যাকশন ও থ্রিলার সিনেমায় মনোযোগ দিয়েছেন। ‘শান’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘জংলি’, ‘রাক্ষস’ সিনেমাগুলো তার প্রমাণ। ফেসবুকে অভিনেতার অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৪৩ লাখের বেশি।

আফরান নিশো (৩২ লাখ)
২০০৩ সালে অমিতাভ রেজা পরিচালিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিডিয়া জগতে প্রথম কাজ করেন আফরান নিশো। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘ঘরছাড়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। নাটকের পর ওটিটি ও সিনেমাতে আত্মপ্রকাশ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। ‘কাইজার’ এবং ‘সিন্ডিকেট’ সিরিজে তার অভিনয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়। ২০২৩ সালে রায়হান রাফী পরিচালিত ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় হাজির হন তিনি। এতে মাসুদ চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় তাঁকে জাতীয় পুরস্কার এনে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনটি (সুড়ঙ্গ, দাগি, দম) সিনেমায় অভিনয় করেছেন নিশো। ফেসবুকে নিশোর অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৩২ লাখের বেশি।

আরিফিন শুভ (২০ লাখ)
আরিফিন শুভ মডেলিং এবং একজন রেডিও জকি হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০০৭ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘হ্যাঁ/না’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় নাম লেখান। ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘জাগো’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। ২০১৩ সালে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ সিনেমায় খলচরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। ফেসবুকে শুভর অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ২০ লাখের বেশি।

শরিফুল রাজ (৪ লাখ ৯৬ হাজার)
শরিফুল রাজ ক্যারিয়ারের শুরুতে ফ্যাশন ও র্যাম্প মডেল হিসেবে কাজ করতেন। রেডিসন ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘আইসক্রিম’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর ‘ন ডরাই’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। তবে ক্যারিয়ারে ব্যাপক সাফল্য পান রায়হান রাফী পরিচালিত সাইকো-থ্রিলারধর্মী ‘পরাণ’ সিনেমায়। একই বছর মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ সিনেমায় আবারও নজর কাড়েন শরিফুল। শরিফুলকে সবশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায়। ফেসবুকে শরিফুলের অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৪ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি।

চঞ্চল চৌধুরী (২৪ লাখ)
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন মামুনুর রশীদের ‘আরণ্যক নাট্যদল’-এর মাধ্যমে মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। তার অভিনীত ‘সংক্রান্তি’, ‘রাঢ়াঙ’ ও ‘চে-এর সাইকেল’ নাটকগুলো মঞ্চে ব্যাপক প্রশংসা পায়। পরবর্তীতে সালাউদ্দিন লাভলু ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাটকের মাধ্যমে দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তৌকির আহমেদের ‘রূপকথার গল্প’ (২০০৬) দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে অভিনেতার। ২০০৯ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ সিনেমায় ‘সোনাই’ চরিত্র অভিনেতাকে ঢালিউডে চিরস্থায়ী আসন করে দেয়। এরপর ‘আয়নাবাজি’, ‘দেবী’, ‘হাওয়া’, ‘পদাতিক’, ‘তুফান’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় উপহার দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনটি ছবিতে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় পুরস্কার ঘরে তুলেছেন। ফেসবুকে চঞ্চলের অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ২৪ লাখের বেশি।

মোশাররফ করিম (৪৩ লাখ)
১৯৮৯ সালে তারিক আনাম খানের নাট্যদল ‘নাট্যকেন্দ্র’-এ যোগ দেন মোশাররফ করিম। দীর্ঘ ১৬ বছর মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করেছেন। ১৯৯৮ সালে ‘অতিথি’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় পা রাখেন তিনি। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ক্যারাম’ টেলিফিল্মটি তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর একে একে উপহার দিয়েছেন ‘৪২০’, ‘ভবের হাট’, ‘হাউসফুল’, ‘সিকান্দার বক্স’ সিরিজসহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক। সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন তৌকির আহমেদের ‘দারুচিনি দ্বীপ’ (২০০৭)-এর মাধ্যমে। পরবর্তীতে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ (২০০৯) ও ‘টেলিভিশন’ (২০১২), তৌকির আহমেদের ‘অজ্ঞাতনামা’ (২০১৬) ও ‘কমলা রকেট’ (২০১৮)-এ তার অসাধারণ অভিনয় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়। আশফাক নিপুণ পরিচালিত জনপ্রিয় ওটিটি সিরিজ ‘মহানগর’-এ ‘ওসি হারুন’ চরিত্রে তার অভিনয় অন্যতম সেরা কাজ। ফেসবুকে মোশাররফ করিমের অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৪৩ লাখের বেশি।
ইএইচ/




