আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে দেশের শোবিজ অঙ্গনে বইছে নিন্দার ঝড়।
রায়হান রাফীর পর এবার স্নিগ্ধার ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিচার চাইলেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমার সহকর্মী ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার অভিনেত্রী স্নিগ্ধার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আশা করি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি যোগ করেন, ‘কর্মক্ষেত্রে হোক বা সোশ্যাল মিডিয়ায়— নারীদের প্রতি হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী স্নিগ্ধা জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের ১ বছরের ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্টের কথা বলে ইমন নামের এক ব্যক্তি তাঁকে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় নায়িকার সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। প্রাথমিক কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁর মা চলে গেলে পরিস্থিতি হুট করে বদলে যায়।
স্নিগ্ধার ভাষ্যমতে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাঁকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামের অন্য এক নারী মনে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সেই সময় ইমন পরিস্থিতি শান্ত না করে উল্টো স্নিগ্ধাকে ওই পরিচয় মেনে নেওয়ার জন্য ইশারা করেন। অভিনেত্রী জানান, জেবা তাকিয়া আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতারণা করে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই ক্ষোভ থেকে স্নিগ্ধাকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন।
শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা আমাকে জীবনে টোকা দেয়নি! আমার বাবা-মা জীবনে আমাকে একটু টোকা দেয় নাই। সে আমার চুল টেনে ধরে লাথি মেরেছে। এগুলো ফুলে ফুলে আছে। আমরা হয়তো উনার মতো এত বড় লোক না। কিন্তু আমি আমার বাপ-মায়ের কাছে রাজকন্যা!’
স্নিগ্ধা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ওপর গরম কফি ঢেলে দেওয়া ও চাকু দিয়ে মুখ কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ইএইচ/




