বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

শেয়ার করুন:

‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল

প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। এই ফিল্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কাজ করছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে চরকির কোনো কনটেন্টে প্রথমবার যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। মিনিস্ট্রি অফ লাভ (এমওএল) এর ব্যানারে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হতে যাচ্ছে সপ্তম ফিল্ম এবং এর সহ-প্রযোজনায় আছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছবিয়াল।

সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকে এ কনটেন্টে এক সুতোয় বাঁধা হয়েছে বলে জানান নির্মাতা। জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’

image

‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ফিল্মে আরিফিন শুভ অভিনয় করছেন আনিস চরিত্রে। আরিফিন শুভকে সচরাচর অ্যাকশন লুকে বা আলফা মেইল হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ফিল্মে তাকে দেখা যাবে সিগমা মেইল (স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল ও একাকী জীবনযাপন করা পুরুষ) চরিত্রে। আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০-এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম-কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনショナル স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’ আরিফিন শুভ আরও জানান, তার চরিত্রটি মফস্বলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক যুবকের, যার পুরো পৃথিবী জুড়েই রয়েছে পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষেরা।’

ফিল্মটির মূল ভাবনা আবর্তিত হয়েছে এ যুগের এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের এক প্রান্তে সহজ-সরল, সৎ যুবক আনিস, অন্যদিকে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা– এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। তার চরিত্রটি আবর্তিত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের মোহনীয় রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে।

কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে, প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম।’ ফিল্মে নিজের চরিত্রটি নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন।’

image

পরিচালক জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন যে সামাজিক দূরত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং এর সাথে আমাদের চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধের যে সংঘাত, তার এক বাস্তবসম্মত প্রতিচ্ছবি মিলবে এই কনটেন্টে।’ নির্মাতা জানান, কনটেন্টে হিউমার, রোমান্স এবং আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্ত রয়েছে, যা প্রতিটি বাঙালি পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করবে।’

মিনিস্ট্রি অফ লাভ (এমওএল) চরকির ব্যতিক্রমী প্রকল্প। যে প্রকল্পের আওতায় সম্পর্কের গল্প বলা হয়। ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ফিল্মটি নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।’

গল্পের কারণেই প্রজেক্টটির সঙ্গে সহ-প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুইজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা– গল্পের এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’

চরকিতে এখন পর্যন্ত আরিফিন শুভ অভিনীত মুক্তি পাওয়া শেষ কনটেন্ট ‘উনিশ২০’ (২০২৩)। অন্যদিকে নির্মাতা জাহিদ প্রীতম তার দ্বিতীয় ফিল্ম নিয়ে ফিরছেন চরকিতে। তার নির্মিত প্রথম ফিল্মটি ছিল ‘ঘুমপরী’। এমওএল প্রজেক্টের আওতায় এর আগে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অফ মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’, ‘ডিমলাইট’ মুক্তি পেয়েছে।  

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর