গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশ পেয়েছে কোক স্টুডিও বাংলার নতুন গান ‘মেঘ’। রবি ঠাকুরের ‘সোনার তরী’তে শাস্ত্রীয় সুর ও শহুরে গানের সহবস্থানের আয়োজনে কণ্ঠ দিয়েছেন মাশা ইসলাম, মোহাম্মদ শোয়েব ও মৌসুমি। সেসবের সূত্র ধরে মাশার সঙ্গে ফোনালাপ হয় ঢাকা মেইলের।
‘মেঘ’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প জানতে চাই।
গানটি ২০২৩ সালে করা। আড়াই বছর পর মুক্তি পেল। সিজন থ্রিতে আসার কথা ছিল। তখন দেশের পরিস্থিতি ভালো ছিল না। কোক স্টুডিওর কার্যক্রমও বন্ধ ছিল। অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে চতুর্থ মৌসুমে মুক্তি পেল। এটি একটি যুগলবন্দী কাজ। আমি, মোহাম্মদ শোয়েব ভাই বাংলাদেশ থেকে এবং মৌসুমি দি যুক্ত হয়েছিলেন কলকাতা থেকে। এখানে অনেক কিছু মিলিয়ে ফিউশন করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, অর্ণব ভাইয়ের একটি গানের লিরিক, রাগ মালহারের ওপর করা সুর মিলিয়ে এই সৃষ্টি।

গায়কীর পাশাপাশি আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন…
শুটের সময় নিজের গেটআপ নিজের পছন্দমতো করেছিলাম। মেকআপ থেকে শুরু করে হেয়ার, কস্টিউম— যেভাবে আমাকে দেখতে ভালো লাগে সেভাবে করার চেষ্টা ছিল।
মোহাম্মদ শোয়েবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
দুই দিনের রেকর্ড ছিল। ওই সময় দেখা হয়েছিল। যেহেতু যুগলবন্দী কাজ সেহেতু একজন আরেকজনকে যতটুকু সাপোর্ট করা যায় করছিলাম। কেননা এখানে অনেক কিছু শেখার ছিল। রাগ, বান্দিশ চর্চা, সারগাম মুখস্ত করা ইত্যাদি।

শাস্ত্রীয় সুর ও বর্তমান সময়ের গানের সঙ্গে কবিতার সহবস্থানকে কীভাবে দেখছেন?
কোক স্টুডিও বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকে অনেকে নতুনত্ব আশা করেন। ওই জায়গা থেকে কেউ ভালো ফিডব্যাক দেয়। কারও কারও হয়তো ভালো লাগে না। এটা খুবই যৌক্তিক। কারণ সবার সবকিছু ভালো লাগবে এরকম কথা নেই। তাই কারও হয়তো অনেক ফ্রেশ লাগতে পারে। আবার কারও নাও লাগতে পারে। তবে এক্সপেরিমেন্টাল আইডিয়া হিসাবে আমার কাছে ঠিকঠাক মনে হয়।
শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সংগীতায়োজনে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
অর্ণব ভাই বড় ভাইয়ের মতো। আমাকে খুব স্নেহ করেন। উনি আমাদের দেশের জন্য লেজেন্ডারি ফিগার। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে তার কন্ট্রিবিউশন ও সৃজনশীলতা একাধিক প্রজন্মকে প্রেরণা দেবে। যাকে বেড়ে উঠতে উঠতে শুনেছি তার সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আনন্দের ও সম্মানের। তিনি কখনও বুঝতে দেন না যে আপনি অর্ণবের সঙ্গে কাজ করছেন। এটা ওনার দারুণ একটি গুণ। এসব কারণে ওনার সঙ্গে কাজ করাটা আরামদায়ক।

গানটির দৃশ্যায়ন দেখে মনে হয় এই বুঝি বৃষ্টি নামবে…
হ্যাঁ, গানটির মুডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দৃশ্যায়ন করা হয়েছে। বৃষ্টি-মেঘ ডাকার আবহতে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। যেন আষাঢ় মাসের মেঘ-বৃষ্টি অনুভব করা যায়।
অনেকে মনে করেন দৃশ্যায়ন গানের আবেদন নষ্ট করে। আপনার কী মনে হয়?
আমার কাছে মনে হয় দৃশ্যায়ন অনেকক্ষেত্রেই গানের সঙ্গে শ্রোতাকে যুক্ত করতে ভূমিকা রাখে। তবে অবশ্যই অডিও খুব ভালো হতে হবে। সঙ্গে দৃশ্যায়ন সুন্দর হলে গানের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।

গেল শনিবার আপনার গজল নাইট কেমন ছিল?
গজল নাইটটা দারুণ ছিল। গান শুনতে অনেকে এসেছিলেন। হাউসফুল ছিল। সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো পারফর্ম করেছি। গজল, পুরনো দিনের মিলিয়ে ২২টির মতো গান পরিবেশন করেছি। শ্রোতারা বলছিলেন অনেক দিন পর এরকম একটি পরিবেশে গান শুনতে পেরেছেন। তাদের প্রত্যাশা আমি যেন এরকম শো আরও করি । এ মাসেই আরেকটি শো করার পরিকল্পনা আছে।
আরআর




