এক যুগ আগে বিশ্বকাপের আসরে জার্মানির কাছে ৭ গোল হজম করে ব্রাজিল। এতদিন পরও সে যন্ত্রণা হজম করতে পারেনি দলটির সমর্থকরা। সম্প্রতি কুরাসাওকে সাত গোল দিয়েছে জার্মানি। তাই দেখে পুরনো যন্ত্রণা কড়া নাড়ছে ব্রাজিলের সমর্থকদের। বিষ্যটি মনে করে ক্যারিবিয়ান সাগরের দ্বীপটিকে স্বান্তনা দিলেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন অমিতাভ রেজা। সেখানে কুয়ারাসাওয়ের পরিচিতি তুলে ধরেন তিনি। লেখেন, ‘ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটারের একটি দ্বীপ। জনসংখ্যা ঢাকার একটি মহল্লার চেয়েও কম। তবুও কুরাসাওয়ের ইতিহাস শুধু সমুদ্র, সৈকত আর পর্যটনের নয়; এটি দাসপ্রথা, উপনিবেশ, পরিচয় এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।’
বিজ্ঞাপন
এরপর লেখেন, ‘১৬৩৪ সালে ডাচরা দ্বীপটি দখল করে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী এটি আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আফ্রিকা থেকে আনা অসংখ্য মানুষের শ্রম ও বেদনার ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে দ্বীপটির অর্থনীতি। সেই ইতিহাস আজও কুরাসাওয়ের সংস্কৃতি, ভাষা ও মানুষের পরিচয়ের গভীরে প্রোথিত।’
নির্মাতার কথায়, ‘দীর্ঘ ডাচ শাসনের পর কুরাসাও ছিল নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিসের অংশ। অবশেষে ২০১০ সালে সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ হিসেবে নতুন মর্যাদা লাভ করে। স্বাধীন রাষ্ট্র নয়, আবার পুরোপুরি উপনিবেশও নয়—একটি অনন্য রাজনৈতিক পরিচয়, যেখানে নিজেদের সংসদ ও সরকার রয়েছে, কিন্তু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যুক্ত।’
অমিতাভ রেজা আরও লেখেন, ‘এই রাজনৈতিক যাত্রার মতোই ফুটবলেও কুরাসাও নিজের পরিচয় খুঁজে নিয়েছে। নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস ভেঙে যাওয়ার পর ২০১১ সালে নতুন জাতীয় দল গঠিত হয়। ইউরোপে বেড়ে ওঠা কুরাসাও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা দ্রুত ক্যারিবিয়ান ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর একটিতে পরিণত হয়।’
সবশেষে নির্মাতা লেখেন, ‘আপতত ৬ গোল কোনো ব্যাপার না । আমরাও এরকম খাইছি।’




