বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ঢাকা

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এক মাসে কী কী করলেন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

বিজয়কে সমর্থন কংগ্রেসের, কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?

গত ১০ মে তামিলনাড়ুর নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দক্ষিণী সুপারস্টার অভিনেতা থালাপতি বিজয়। ১৯৬৭ সালের পর থেকে এই রাজ্যের দায়িত্ব গেছে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের হাতে। দুই দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে এক ঝটকায় ভেঙে চুরমার করে ক্ষমতায় বসেন বিজয়। ইতিমধ্যে সরকার গঠনের এক মাস পেরিয়েছে। সরকার গঠনের আগে একদিকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন টিভিকে প্রধান। এখন প্রশ্ন, এক মাসে প্রতিশ্রুতির কতটুকু পূরণ করতে পেরেছেন তিনি?

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের প্রথম মাসের কাজের খতিয়ান:

মদ ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে পদক্ষেপ

 নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি মেনে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বিজয়। তবে সমালোচকদের মতে, রাজ্যে এখনও ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি মদের দোকান রয়েছে। সরকারের কড়াকড়ি নিয়মের কারণে দোকানগুলো শুধু একটু দূরে সরেছে, কিন্তু মদ পাওয়া আগের মতো সহজ রয়ে গেছে। অন্যদিকে নারী নিরাপত্তায় ৯ জুন থেকে মাঠে নেমেছে পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। আইপিএস কর্মকর্তা কে. ভুবনেশ্বরীর নেতৃত্বে এটি নারীদের সুরক্ষায় কাজ করছে।

ঠিকাদার সিন্ডিকেট

সরকারি অবকাঠামো নির্মাণে ঘুষ বা কমিশন বাণিজ্য বন্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গুণামণি প্রকাশ্যে স্বীকার করে বলেন, ‘নতুন সরকার আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—কোনো মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তাকে এক টাকাও ঘুষ দেওয়া যাবে না।’ তিনি আগের সরকারের বিরুদ্ধে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ারও অভিযোগ তোলেন।

image

রূপকল্প ও আম্মা ক্যানটিন

৩৫টি বিভাগের জন্য ৪৩৬টি প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ভেতরি তামিলাগাম ভিশন ডকুমেন্ট’। সেই সঙ্গে বিজয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজের দলের লোক হলেও দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ এছাড়া গরিব মানুষের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের ৬২০টি ‘আম্মা উনাভাগাম’ (আম্মা ক্যানটিন) সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিতর্ক

প্রথম মাসে কিছু বিষয়ে বেশ বিব্রত হতে হয়েছে বিজয় সরকারকে। একজন জ্যোতিষীকে সরকারের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (OSD) পদে নিয়োগ দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনার মুখে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি। এরপর কাঞ্চিপুরামের একটি ওয়াটার ট্যাংক টেন্ডারে মাত্র ৬ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়ায় নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে সেই টেন্ডার প্রত্যাহার করা হয়। এ নিয়ে বিরোধী দল ডিএমকে-এর নেতা উদয়নিধি স্টালিন বিজয়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব দিয়ে এই ধরনের ভুল ঢাকা যাবে না।’ এছাড়া ১ জুন ত্রিচিতে বিজয়ের প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশে সুশাসনের কথার চেয়ে বিরোধী ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ওপর রাজনৈতিক ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায়। এতে রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এক মাস একটি সরকারের মূল্যায়ন করার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে প্রথম মাসে বিজয়ের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবে কাজের অগ্রগতি কম। 

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর