বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নাট্যদল পালাকার নিয়ে আসছে তাদের নাটক ‘ডাকঘর’। আগামী ১১ ও ১২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে এ নাটক। এর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে ডাকঘরের ১০৩ ও ১০৪তম মঞ্চায়ন।
নাটকে দেখা যাবে, শরতের প্রাণোচ্ছল উৎসবে মেতে ওঠে ছেলেদের দল। সেই উচ্ছ্বাসের মাঝে গগন হরকরার গানে বাজে উদাস সুর, জাগে মাধবদত্তের অন্তর। কবিরাজের চিকিৎসা বা সুধার মায়া-কিছুই বেঁধে রাখতে পারে না তার যুক্ত প্রাণকে। এই মুক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঠাকুরদা হাজির হন কখনও দইওয়ালা, কখনও প্রহরী, আবার কখনও ফকিরের রূপে। অমলের সরল মনে বুনে দেন অসংখ্য স্বপ্নের বীজ।
বিজ্ঞাপন
মাধবের অন্তরে জন্ম নেয় অমল— এক মুক্ত আত্মা, যে কল্পনার ঘোড়ায় চড়ে উড়ে যেতে চায় সীমার ওপারে। মাধব ও অমল, বাস্তব আর কল্পনা-দুই সত্তার টানাপোড়েনেই গড়ে ওঠে নাটকের মূল সুর। শেষ পর্যন্ত কবিরাজের বিষবড়ি কিংবা ফুলের মালাও অমলকে ধরে রাখতে পারে না। মুক্ত প্রাণের ডাকে সে পাখা মেলে দেয় অসীমে, নাটাই থেকে ছুটে যাওয়া এক স্বাধীন ঘুড়ির মতো। থেকে যায় কেবল বাস্তববাদী মাধবের নশ্বর দেহ, আর বাতাসে ভেসে থাকে মুক্তির গানের প্রতিধ্বনি।
নাটকটির নির্দেশক শামীম সাগর বলেন, ‘আমরা সকলেই অপেক্ষায় আছি। আমাদের এই ছোট্ট শরীরটার পানে বিরাট বিশ্বশরীরের এক আনন্দের টান সব সময় কাজ করছে। এটা পূর্ণতার আকর্ষণ। এই পূর্ণতা প্রাপ্তি যদি কারও ঘটে, তখন স্বজনহারাদের বুকে বাজে হাহাকার। কিন্তু কোনো মৃত্যুই নিঃশেষের কথা বলে না। সীমাবদ্ধ জীবন থেকে অসীমে যাওয়ার মুক্তির চিঠি হচ্ছে মৃত্যু। মুক্তি সর্বদাই আনন্দের। আর এই আনন্দে মেতে ওঠার উৎসবেই মেতেছি আমরা ডাকঘর-এ। এখানে বিষণ্ণতার অণুমাত্র স্থানও নেই। আছে দ্রষ্টার সাথে সৃষ্টির মিলনাকাঙ্খার আনন্দ।’
অমল চরিত্রে আছেন নাহিদ স্মৃতি। মধব দত্তে দেখা যাবে ফরহাদ লিমনকে। বরাবরের মতোই ঠাকুরদা চরিত্রে আমিনুর রহমান মুকুল। অন্য চরিত্রগুলোতে আছেন চারু পিন্টু, অবনী, শিশির, একা, সানজানা, সম্রাট, রমিজ, সাজ্জাদ প্রমুখ।




