বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থগিতে আফজাল হোসেনের ক্ষোভ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থগিতে আফজাল হোসেনের ক্ষোভ

সামাজিক মাধ্যমে সমসাময়িক বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অভিনেতা আফজাল হোসেন। এবার তিনি কীবোর্ডে আঙুল চেপেছেন বনলতা এক্সপ্রেস ছবিটির জন্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাধার মুখে সিনেমাটির প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দিয়েছেন এক দীর্ঘ স্টাটাস। 

নিজের ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে আফজাল লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়েছে। জেনেছি বন্ধ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। আমরা অনেকেই মনে করে সন্তুষ্ট হই দেশে একটা উদারনৈতিক সমাজব‍্যবস্থা আছে। এদেশে নানা ধর্মের মানুষ, নানাধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যে কোনো বিষয় নিয়ে যে কেউই শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে।’  


বিজ্ঞাপন


এরপর লেখেন, ‘শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করুক, শিক্ষাদান করার, সমাজ পরিবর্তন করার জন‍্য উপযুক্ত হয়ে উঠুক। তার আগেই অমুকটা চলতে পারবে না, এটা করা, বলা যাবে না এমন শাষক হয়ে ওঠার ইচ্ছা জাগা বিপদজনক। চাল-পানি দিয়ে চুলায় চড়িয়ে দিলে ভাত রান্না হয়। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চুলার ওপরে রাখা নিয়ম। সিদ্ধ হওয়ার আগে নামিয়ে ফেললে তা ভাত হয় না। খাওয়ার অনুপযুক্ত থাকে।’

নিজের ওই পোস্টে অভিনেতা লিখেছেন, ‘এই দেশের একটা শ্রেণীর মানুষদের সমস্ত ক্ষোভ, বিদ্রোহ, বিদ্বেষ একমাত্র সংস্কৃতিরই বিরুদ্ধে। সংস্কৃতি ও ধর্ম পাশাপাশি চলতে দিলে নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, এমনই একটা শংকা বোধহয় রয়েছে তাদের মনে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা মনের গভীরতা, উদারতা বাড়িয়ে দেয়। সে উদারতা, গভীরতাকেই হয়তো তাদের ভয়।’ 

এরপর লেখেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস জীবনকে বোঝার সিনেমা, নতুন ভাবনায় সমৃদ্ধ হওয়ার সিনেমা। এ সিনেমাটা শুধু বিনোদনের জন‍্য তৈরি করা হয়নি। সমাজ ও মানুষের ভালো হবে এমন বিশ্বাস ও দায়িত্ব নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। যত ভালো যুক্তিই দেয়া হোক, চোখ থাকিতে অন্ধ যারা, তাদের চোখ, মন ও কানে কোনো ভালোই পৌঁছাবে না।’
আফজাল হোসেন বলেন, ‘মানুষ যদি ঘরে ঘরে, পাড়ায় পাড়ায় নিজের নিয়ম বানায়, সে নিয়মে চলতে বলতে অন‍্যকে বাধ‍্য করে তাহলে সভ‍্যতা টিকে থাকে না। কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, মানুষ নিজের রুচি শিক্ষা অনুযায়ী ঠিক করে নেয়। ভুল হয় মানুষের, সে ভুল করেই চিনতে পারে কোনটা ঠিক এবং কেনো ঠিক।’

অভিনেতার কথায়, ‘এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে মানুষ অধিকার হারাবে, হারাবে সুস্থতা। যে কোনো মানুষের মধ‍্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা থাকে বলে সংসার ঠিক থাকে, প্রতিষ্ঠান ঠিক থাকে। সমাজে শান্তি টিকে থাকে।’ 


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, ‘এমন সংসার আছে যেখানে ছেলে বাবার কথা শোনে না, স্বামী স্ত্রীকে সম্মান মর্যাদা দেয় না। সবারই জানা এমন সংসার হয় খুব অশান্তির, হয় ছিন্নভিন্ন সংসার। প্রেম, শান্তি তেমন সংসারে গিয়ে কোনদিনও আসন পেতে বসতে যায় না।’ 

এ অভিনেতা বলেন, ‘যারা বনলতা এক্সপ্রেসের প্রদর্শনী বন্ধ করতে লাফ মেরে দাঁড়িয়ে গেছে তারা এই দেশের খায় পরে, এই দেশেই জন্ম দাবী করে। তারা কি সরকারকে অস্বীকার করছে না! প্রচলিত নিয়ম কানুনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতেই এমন সিদ্ধান্ত- মোটেও ন‍্যায় নয়।’

তার কথায়, ‘একটা দেশে এইরকম স্বেচ্ছাচারিতা চলতে দিলে সাধারণ মানুষের জীবন পর্যুদস্ত হয়, বাড়ে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা। দেশ, স্বাধীনতা, মানুষের সকল প্রকার অধিকার বিপন্ন হয়। দেশটা স্বাধীন হয়েছিল স্বাধীনতা উপলব্ধি করে উপভোগের জন‍্য। পরাধীনতার জং ধরা শিকল নতুন করে পরার জন‍্য নয়।’

গেল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল। আয়োজনে ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কওমি শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর পর বিশৃঙ্খলা এড়াতে সিনেমাটির প্রদর্শন স্থগিত করা হয়।   

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর