সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সুর তুলছে না সেলিমের বেহালা, স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী দেড় মাস ধরে 

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

সুর তুলছে না সেলিমের বেহালা, স্ট্রোক করে শয্যাশয়ী দেড় মাস ধরে 
সেলিম আহমেদ

অসংখ্য গানে বেহালা বাজিয়েছেন সেলিম আহমেদ। সংগীতাঙ্গনে বেহালা বাদক হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দী হিসেবে বিবেচিত তিনি। তবে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সুর তুলছে না তার বেহালা। কেননা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী সেলিম। বলতে পারেন না কথা। তার স্ত্রী লড়ছেন ক্যানসারের সঙ্গে। বাবা-মায়ের চিকিৎসা চলাতে গিয়ে হিমশিম সেলিমের সদ্য স্নাতক শেষ করা কন্য ইবনাত জাহিন।

ঢাকা মেইলকে সেলিমকন্যা বলেন, ‘এপ্রিলের ১২ তারিখ থেকে বাবা অসুস্থ। তখন বুঝতে পারিনি তিনি স্ট্রোক করেছেন। ভেবেছিলাম প্রেশারের কারণে এরকম হয়েছে। বাসায়-ই রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে আর নেওয়া হয়নি।’


বিজ্ঞাপন


তবে বাসায় থেকে ক্রমাগত শারীরিকভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছিলেন সেলিম। অসুস্থতার শুরু থেকেই হাঁটাচলা বন্ধ। পরে শরীরও হতে থাকে নিস্তেজ। এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। 

7f415951-af35-473a-a248-5b3f0084c64f

জাহিন বলেন, ‘গেল এপ্রিলের ২৪-২৫ তারিখের বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। কেননা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছিল। নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান ওনার স্ট্রোক হয়েছে। চিকিৎসাও শুরু করেন তারা। তবে ওই সময় বাবার আরও কিছু শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। নিউমোনিয়া, শ্বাসনালীতে ইনফেকশন দেখা দেয়। ইনফেকশনটা এখনও খুব বেশি। বাবা কথা বলতে পারছেন না। জোর করে চেষ্টা করতে চিকিৎসকেরও নিষেধ।’

সপ্তাহ দেড়েকের মতো হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন সেলিম। মেয়ের বর্ণনায় এ ভায়োলিন বাদকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, ‘স্ট্রোকজনিত সমস্যা আগের চেয়ে কম। হাসপাতাল থেকে বাসায় আনা হয়েছে সপ্তাহ দেড়েক। ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এতে কাজ হচ্ছে। তবে খুব ধীরে। অল্পস্বল্প হাঁটাচলা করতে পারছেন। উঠে দাঁড়াতে পারেন। এরচেয়ে বেশি না৷ মাথা ঘোরায়। ডাক্তার বিশ্রাম দিয়েছেন। ওষুধ চলছে। বলেছেন সময় লাগবে।’ 

violine

সেলিম আহমেদের সহধর্মিণীও ক্যানসারে আক্রান্তে। চলছে কেমো থেরাপি। জাহিন বলেন, ‘আম্মু ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত। মার্চে ওনার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এপ্রিলে কেমোথেরাপি শুরুর কথা ছিল। কিন্তু বাবাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই দেরি হয়ে যায়। তবে এরমধ্যে কেমো দেওয়া শুরু হয়েছে। আর কদিন পর দ্বিতীয়টি দেওয়া হবে। দুজনের চিকিৎসা একসাথে চলছে।’ 

পরিবারে আর কোনো সদস্য না থাকায় অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা, দেখাভাল একাই করতে হচ্ছে জাহিনকে। হাসপাতালেও থাকতে হয়েছে তাকে। তবে এগিয়ে এসেছেন আত্মীয়রা। তার কথায়, ‘আমার দাদির পরিবারের সদস্যরা খুব আন্তরিক। আমার চাচা যতটুকু পারছে সাহায্য করছেন। তাছাড়া বাবার স্টুডেন্টরাও দেখাশোনা করেছেন হাসপাতালে থাকতে।’

তবে বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ বহন করতে হচ্ছে জাহিনকেই। বললেন, ‘জমানো টাকা ভেঙে চিকিৎসা করাচ্ছি। এরইমধ্যে বাবার পেছনে দেড় লাখের মতো খরচ হয়েছে। মায়ের পেছনেও চলছে। ক্যানসারে কীরকম খরচ সে তো অনুমান করতে পারেন।’

65251532_2717608984950592_5629668910543405056_n

কিন্তু অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা এভাবে কতদিন চলতে পারবেন জানেন না জাহিন। তবে চেষ্টা চলছে সরকারি সাহায্যের। কিন্তু তিনি জানেন না আবেদনের নিয়মকানুন। জানালেন বিষয়টি দেখছেন সেলিমের কাছের কয়েকজন সহকর্মী। 

জাহিন বলেন, ‘ওনারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এক মাস আগে কথা হয়েছিল। গত পরশু আবার যোগাযোগ করেছেন। বলছে একটু সময় লাগবে। তাছাড়া আমিও জানি না কীভাবে আবেদন করতে হয়।’ 

তবে জাহিন বলতে পারলেন না কারও নাম। এদিকে শোনা গিয়েছিল সংগীত পরিচালক রিপন খান বিষয়টি দেখছেন। তবে তিনি জানালেন এ সম্পর্কে জানেন না। শুরুতে সেলিম আহমেদের অসুস্থতার খবর পেয়ে তার সাহায্যের জন্য সংগীতাঙ্গনের অনেকের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। এর বাইরে কোনোকিছু অবগত নন তিনি। 

আরআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর