গত বছরের ২৯ এপ্রিল রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে একদল যুবক সিদ্দিকুর রহমানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর গুলশানে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলায় আদালত তাঁর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান।
মুক্তির পর গত ১ মে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন লুকের একটি ছবি প্রকাশ করেন সিদ্দিক। ছবিতে তাঁকে সুন্নতি দাড়ি ও মাথায় টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে অভিনেতা জানান, কারাগারে থাকাকালীন সময়টি তিনি কুরআন শিক্ষার কাজে লাগিয়েছেন। এরপর থেকেই আলোচনায় এই অভিনেতা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১২ মে) এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন মানুষ। আমি (আগেও) ছিলাম, আমি এখনো আছি—সত্যি কথা যেটা। কারণ আমি তো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছি। আমি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি তো ওতপ্রোতভাবে কোনো প্রফেশনাল পলিটিশিয়ান না।’
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ায় অনুতপ্ত এই অভিনেতা। সিদ্দিকুরের কথায়, ‘মনোনয়নপত্র চাওয়ার বিষয়ে আমি অনুতপ্ত একটা কারণে; ৫ আগস্টের পরে তারা চলে গেছে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু আমি তাদের সমর্থিত একজন মানুষ, তাই এখন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’
অভিনেতা আরও বলেন, ‘দিনশেষে আমি নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্মাতা সিদ্দিকুর রহমান। স্বাধীনভাবে কথা বলার নাগরিক অধিকার আমার আছে বলে আমি মনে করি।’ সাক্ষাৎকারে অভিনেতা দাবি করেন, তিনি কখনো রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সিদ্দিকুরের ভাষ্য, ‘আমি কারও ক্ষতি চাইনি। বরং মানবতার সেবক হতে চেয়েছি।’
সবশেষে অভিনেতা জানান, রাজনীতি মূলত পেশাদার রাজনীতিবিদদের বিষয়। তিনি নিজেকে এখনো সেই জায়গায় দেখেন না।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। দলটি থেকে নির্বাচন করতে একাধিকবার মনোনয়নও চেয়েছিলেন তিনি। ঢাকা-১৭ আসন ও টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর ও ধনবাড়ি) সংসদীয় আসন থেকে একাধিকবার আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পাননি।




