বাজাতে গেলে ঝড় তোলেন ড্রামসে। গাইতে গেলে শ্রোতাদের হৃদয়ে। এবার তিনি স্ক্রিন শেয়ার করেছেন মেগাস্টার শাকিব খানের সঙ্গে। বলছিলাম দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পান্থ কানাইয়ের কথা। কিং খান অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। অভিনয়ের অভিজ্ঞতাসহ বিবিধ বিষয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপ জমেছিল এ রকস্টারের।
‘রকস্টার’ সিনেমার টিজার জ্বরে কাঁপছে সবাই। আপনার কেমন লেগেছে?
বিজ্ঞাপন
টিজারটা হিট। আমার খুব ভালো লেগেছে। সবাই দেখলাম বেশ আনন্দিত, উৎসাহিত।
‘রকস্টার’-এ যুক্ত হওয়ার গল্প জানতে চাই।
আজমান রুশো খুব মেধাবী নির্মাতা। সে আমাকে একদিন তার অফিসে আমন্ত্রণ জানায়। গেলে বলল, বাংলাদেশের মিউজিক নিয়ে সিনেমা করছে। রকস্টারের গল্প শোনাল। ভালো লাগল। আমার জীবনের সঙ্গে ৭০ ভাগ মিলে গেল। গানবাজনা সংক্রান্ত ফিল্ম হচ্ছে বলে খুব উৎসাহিত হলাম। জিজ্ঞেস করলাম— চরিত্রটা কে করবে? রুশো জানাল শাকিব খান। শাকিবকে আমারও খুব ভালো লাগে। বললাম, গুড চয়েস। চরিত্রটা কেউ যদি পারে তবে তিনিই পারবেন।

বিজ্ঞাপন
শাকিবকে নিয়ে এই আত্মবিশ্বাসের কারণ কী?
তিনি অনেকদিন ধরে অভিনয় করছেন। ঢালিউডে দীর্ঘ সময়ের রাজত্ব তার। একটা সময় কেউ সিনেমা দেখতে যেত না। হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তখন শাকিবকে শক্ত হাতে হাল ধরতে দেখেছি। সিনেমা হল যে কটা বেঁচে আছে তার জন্যই আছে। ওই জায়গা থেকে তার ওপর আমার একটা রেসপেক্ট আছে। তাছাড়া সুদর্শন, কণ্ঠ ভালো তুখোড় অভিনেতা। সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল একমাত্র শাকিবই হতে পারবেন রকস্টার।
অভিনয় কেমন উপভোগ করেন?
এর আগে ধ্রুব হাসানের পরিচালনায় ‘ফাতিমা’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। তবে তেমন এনজয় করি না। আমি গানের মানুষ। গাওয়াটা আমার জন্য সোজা। অভিনয়ে শারীরিক কষ্ট মনে হয়। আমি একটু অলস টাইপের। ভোর পাঁচটায় উঠে সেটে যাওয়া, রাত দুইটায় ফেরা আমার জন্য একটু ডিফিকাল্ট ছিল।
শুটিংয়ের সময় শাকিবকে কেমন মনে হলো?
শাকিব খান লোকটা খুব ভালো। এর আগে পরিচয় ছিল না। একবার এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল। তেমন কথাবার্তা হয়নি। আমাদের শুটিংটা হয়েছে ডেমরার এক জুট মিলে। ওখানে রুশো পরিচয় করিয়ে দেয়। আমাকে আগে থেকেই চিনতেন। দেখলাম খুব বিনয়ী। কথা বলে বোঝা যায় অন্তরটা খুব ভালো। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন।

শাকিবকে বাংলাদেশের অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, রজনীকান্ত বলে মনে করেন আপনি। কেন?
আমি অমিতাভ বচ্চনের ফ্যান। ছোটবেলায় সঞ্জয় দত্ত হতে চাইতাম। ওনার মতো পোশাক পরতাম। সালমান খান, শাহরুখ খান হতে চাইতাম। ওনাদের টপ ক্লাস মনে হতো। বাংলাদেশে যদি ওরকম কাউকে বেছে নিতে বলা হয় সে নিঃসন্দেহে শাকিব। বাংলাদেশের অমিতাভ বচ্চন আমি শাকিব খানকেই বলব। সেই সুবাদে কথাটা বলা।
মিউজিশিয়ানের চরিত্রে শাকিবকে কেমন মনে হলো?
সিনেমাটির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে বেশ পড়াশোনা করেছেন শাকিব। হুট করে এসে মিউজিশিয়ানের চরিত্রে অভিনয় করেননি। চাইলে কিন্তু তিনি সেটা পারতেন। তা না করে মিউজিক্যাল স্টুডিওসহ বিভিন্ন জায়গায় গেছেন। মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে মিশেছেন। কিবোর্ডিস্ট কীভাবে কিবোর্ড বাজায়, পারফর্মার কীভাবে পারফর্ম করে— আয়ত্তে নিয়েছেন। ওই জায়গা থেকে বলব তিনি অভিনয়ের জন্য সিরিয়াস ছিলেন।
সেটে শিল্পীদের সঙ্গে শাকিবের আচরণ কেমন মনে হলো?
শাকিব মাটির মানুষের মতো। শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না। সেটে সবার খোঁজ রাখেন। পার্শ্বচরিত্র যারা আছে তাদের ব্যাপারেও কেয়ারফুল। তারা খেয়েছে কি না, কেমন অভিনয় করছে কীভাবে অভিনয় করলে ভালো হবে— গাইডও করেন।

সিনেমায় শাকিবের সঙ্গে আপনার কোথায় দেখা হয়?
খুব ইন্টারেস্টিং এক জায়গা। যেখানে সচরচর কেউ যেতে চায় না। সেখানে শাকিব খান বসে বসে আমার গান শোনে। জায়গাটার নাম বলতে চাচ্ছি না। রহস্য থাকুক। সবাই সিনেমা হলে গিয়ে জানতে পারবেন।
পরিচালক আজমান রুশোকে নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
আজমান রুশো ডেঞ্জারাস। সে জানে সে কী বানাচ্ছে। খুব খুঁতখুঁতে। আমি অনেক সিনেমায় গান করেছি। কখনও এত কষ্ট হয়নি। রকস্টারের গানের জন্য তিন দিন ভয়েস নিয়েছে সে আমার। প্রতিটি শব্দ ধরে ধরে এমনকি এক্সপ্রেশন পর্যন্ত বুঝে নিয়েছে। অভিনয়ের সময়ও প্রত্যেকটা জিনিস খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আদায় করেছে। কাজের প্রতি খুব সিনসিয়ার।
সিনেমাটির সংগীত পরিচালক জাহিদ নিরব আপনার চোখে কেমন?
জাহিদ নিরব গুড মিউজিশিয়ান। খুব মেধাবী। ওর সঙ্গে আমার ভালো কেমিস্ট্রি কাজ করে। ভয়েস দিতে গেলে বেশি পরিশ্রম করায় না। কম সময়ের মধ্যে আর্টিস্টের থেকে ভালোটা বের করতে পারে। ভালো কণ্ঠশিল্পীও সে। নানা ধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারে। সে গ্রেট।

‘রকস্টার’ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
আমি খুব আশাবাদী। এই প্রথম মিউজিক নিয়ে একটা ফিল্ম হচ্ছে। রুশো খুব ভালো ডিরেক্টর। শাকিব অভিনয় করছেন। অনেক মিউজিশিয়ান জড়িত। সুন্দর সুন্দর গান হচ্ছে। এ ধরনের ছবি সচরাচর হয় না। দর্শকরা ভালো কিছু পাবেন। আমিও হলে যাব ছবিটা দেখতে।
সিনেমাটিতে রকস্টারের জীবনের স্ট্রাগলও উঠে আসবে। একজন রকস্টার হিসেবে আপনার স্ট্রাগল কেমন ছিল?
আমাদের মতো আর্টিস্টদের লাইফ খুব ইজি না। অর্থাৎ আমরা যারা সবার কথা শুনি না, নিজের মতো করে চলতে ভালোবাসি, স্বাধীনচেতা— তাদের স্ট্রাগলের শেষ নাই। আমরা এখনও স্ট্রাগল করি। শুরুতে যখন মফস্বল থেকে ঢাকা আসি তখন সোলসে বাজাতাম। অল্প পারিশ্রমিক পেতাম। যা দিয়ে ঢাকায় বেঁচে থাকা খুব কঠিন। সে সময় বেবী নাজনীন আপা, কুমার বিশ্বজিৎ দাদা, শ্রদ্ধেয় তপন চৌধুরী দাদার সঙ্গে বাজাতাম। অনেক সময় প্রোগ্রাম থাকত না। এমন অনেক সময় গেছে হাতে টাকা নেই, ডালপুরি, শিঙাড়া খেয়ে দিন কাটিয়েছি। অনেক সময় পার্থদার (পার্থ বড়ুয়া) বাসায় যেতাম। বৌদি দেখেই বলতেন, কীরে জুয়েল তোর মুখ শুকনো কেন? সারাদিন বোধহয় কিছু খাসনি।‘ ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করে দিতেন। সেদিন ওটাই হতো আমার সারাদিনের খাবার। এরকম অনেকদিন খেয়ে না খেয়ে আমরা ঢাকায় সারভাইভ করে আজকের অবস্থানে এসেছি।
সংগীত আপনার প্রত্যাশার কতটা পূরণ করেছে?
মিউজিক করে বিএমডব্লিউ কিনব, ফাইভ স্টার হোটেলে থাকব, আলীশান ফ্ল্যাট হবে— এরকম চাওয়া ছিল না আমার। গুড মিউজিক করব, নিজের মতো চিন্তাভাবনা করব, ভালো বাজাব, ভালো গান করব, আমার গান সবাই পছন্দ করবে— এই নেশায় ছুটেছি সবসময়।
_20260512_145205428.jpg)
অভিনয়ে নিয়মিত হবেন?
আমি অভিনয়ের লোক না। গানই আমার প্রধান কাজ। সামনে বেশকিছু নতুন কাজ আসবে। আমার ‘পান্থ কানাই অ্যান্ড তাণ্ডব’ ব্যান্ডটা নিয়ে আবার সিরিয়াস হচ্ছি। নতুন গানের রেকর্ডিং চলছে। মিউজিক ভিডিওর কাজও শুরু করেছি। ‘পান্থ কানাই অফিসিয়াল’ নামে ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে। নতুন গানগুলো সেখান থেকে আসবে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
আরআর




