চলচ্চিত্রাঙ্গনে ‘কাস্টিং কাউচ’ নতুন কিছু নয়। অনেক আগে থেকেই পর্দার আড়ালে এমনটা চলছে। জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর পুত্রবধূ মদালসা শর্মাকেও ভুগিয়েছে বিষয়টি। পরিচালকের সামনে বিকিনি পরার প্রস্তাব পেয়েছেন। কাস্টিং কাউচের যন্ত্রণায় ছাড়তে হয়েছে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
মিঠুনের বড় ছেলে মহাক্ষয় চক্রবর্তী ওরফে মিমোর স্ত্রী মদালসা। হিন্দি সিরিয়ালের জনপ্রিয় মুখ। অল্প বয়সে পা রাখেন শোবিজে। একটা সময় দক্ষিণী সিনেমায় চুটিয়ে কাজ করতেন। ওই সময় এক ডাকসাইটে পরিচালক বিকিনি পরার প্রস্তাব দেন তাকে।
বিজ্ঞাপন
মদালসার বয়স তখন ১৯। বিকিনিতে মোটেই আপত্তি ছিল না তার। তবে সেটি ক্যামেরার সামনে। পর্দার বাইরে কোনো ব্যক্তিকে তুষ্ট করতে বিকিনিতে সম্মতি ছিল না অভিনেত্রীর। মদালসার কথায়, ‘তখন আমার বয়স ১৯। একজন খ্যাতনামা পরিচালক জানান, তিনি এমন একজন মেয়েকে খুঁজছেন, যিনি বিকিনিতে স্বচ্ছন্দ। সত্যি বলতে, আমি মনে মনে ভেবেছিলাম যে, এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। তবে কোনো কিছুতে রাজি হওয়ার আগে আমি সেই জিনিসটার প্রয়োজনীয়তা ও সৃজনশীল ব্যাখ্যা চাই। ১৯ বছর বয়স হলেও আমার বুদ্ধি ছিল।’
মিমোপত্নীর বুঝতে দেরি হয়নি পরিচালকের অসৎ উদ্দেশ্য। কেননা ওই পরিচালক তাকে বলেছিলেন, “তোমার শারীরিক ভাষা দেখতে চাই। ক্যামেরার সামনে বিকিনি পরতে আদৌ স্বচ্ছন্দ বোধ করবে কি না, সেটা যাচাই করতে চাই।”
মদালসা জানান তিনিও চুপ থাকেননি। পরিচালককে বলেছিলেন, ‘আমি দুঃখিত। আমি পেশাদার অভিনেত্রী। দৃশ্যের প্রয়োজনে বিকিনি বা শাড়ি বা লেহঙ্গা, যেকোন পোশাকই ক্যামেরার সামনে পরতে প্রস্তুত। কারণ, সেটা আমার কাজেরই একটি অংশ। কিন্তু, আপনার সামনে খোলমেলা পোশাক পরা আমার কাজের অংশ নয়! তাই আপনি যদি প্রতিভার ওপর আস্থা রেখে আমাকে নিতে চান, তবে নিতে পারেন। নয়তো আমি জানি দরজা কোথায়!’
একাধিকবার এরকম অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে মদালসাকে। কাস্টিং কাউচে অতিষ্ঠ হয়ে দক্ষিণী সিনে দুনিয়া ছাড়েন অভিনেত্রী। থিতু হন বলিউডে। ছোটপর্দার ‘অনুপমা’ ধারাবাহিকে মুখ দেখিয়ে পান কাঙ্ক্ষিত জনপ্রিয়তা।




