শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়ছে প্রায় ৩ কোটি টাকার সংযোগ সেতুর সড়ক

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৩:১৪ এএম

শেয়ার করুন:

উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়ছে প্রায় ৩ কোটি টাকার সংযোগ সেতুর সড়ক

ফেনীর দাগনভূঞা পূর্ব চন্দ্রপুর উপজেলার ইউনিয়নের আমুভূঞার হাট-চন্দ্রদ্বীপ সংযোগ সেতু সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ২ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার ৪৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে শুরু করেছে। একইসঙ্গে নির্মাণাধীন আরসিসি গার্ডার সেতুর দুই পাশের গার্ডওয়াল ও সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে কার্পেটিং ভেঙে পড়ায় পুরো সেতুটি এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে "প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস" প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কাজটি পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের আওতায় আমুভূঞার হাট থেকে চন্দ্রদ্বীপ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক ও প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তের মাটি ধসে পড়ায় কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখনও কাজ পুরো শেষ হয়নি। এরমধ্যেই যদি রাস্তা ধসে পড়ে, তাহলে বর্ষাকালে কী হবে? কোটি কোটি টাকা খরচ করে এমন নিম্নমানের কাজ মানুষ মেনে নিতে পারছে না।

আমুভূঞার হাটের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে গেছে। মানুষ খুব ভয় নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় যুবক মো. রুবেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সঠিকভাবে মাটি ভরাট ও কম্প্যাকশন করা হয়নি। নিম্নমানের কাজের কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে এই অবস্থা হয়েছে।

পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর নবী বলেন, হেমন্তের জন্য করা কাজ বর্ষায় কি টিকবে? এখনই যদি এমন হয়, তাহলে সামনে পুরো রাস্তা ভেঙে যাবে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের গার্ড ওয়ালের নিচের অংশে মাটি সরে গেছে। সংযোগ সড়কের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তার পাশের মাটি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দাগনভূঞা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাছুম বিল্লাহ জানান, বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা প্রকল্পের গুণগতমান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে, যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 

প্রতিনিধি/আরআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর