শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অনেক কষ্টে চলছি, কাজকর্ম নেই— ভালো নেই ‘মধু হই হই’ খ্যাত সেই জাহিদ 

রাফিউজ্জামান রাফি
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

অনেক কষ্টে চলছি, কাজকর্ম নেই— ভালো নেই ‘মধু হই হই’ খ্যাত সেই জাহিদ 

মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা— গানটি দিয়ে গোটা দেশ নেড়েচেড়ে দিয়েছিল জাহিদ। গোটা গোটা অক্ষরে সে গল্প লেখা হয়েছিল পত্রিকায়। সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছিল ভিডিও। এক দশক পর জানা গেল ভালো নেই সেই জাহিদ। গানের টানে কক্সবাজারের পাট চুকিয়ে এসেছেন ঢাকায়। হাতে নেই কাজ। করতে হচ্ছে মানবেতর জীবনযাপন। 

রোজার শুরুতে ঢাকা আসেন জাহিদ। আশ্রয় নেন এক স্টুডিওতে। সেখানেই আছেন। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘মিরপুরে এক বড় ভাইয়ের স্টুডিওতে আশ্রয় নিয়েছি। ওনার বাসায় খাই। পাশাপাশি এখানে ওখানে আড্ডা দিচ্ছি। আজকাল আড্ডার ফাঁকে উকুলেলে, ডুগিসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গানের প্রচলন চলছে। সেটা করার চেষ্টা করছি।’ 


বিজ্ঞাপন


modhu_hoi_hoi_bis_khawaila

জাহিদের ঢাকায় আসার খবর ইন্ডাস্ট্রির অনেকেরই অজানা। সেকারণেই কাজের জন্য ডাক পাচ্ছেন না বলে ধারণা তার। বললেন, ‘আমি যে ঢাকা এসেছি কেউ জানে না। তাই হাতে কাজ নেই। তবে বিভিন্ন জনের সঙ্গে দেখা করছি। আশা করি সবাই জানলে কাজ মিলবে।’ 

কিন্তু প্রয়োজন শোনে না অজুহাত। আয়ের উৎস বন্ধ থাকায় পকেট গড়ের মাঠ। হাত পাততে হচ্ছে বন্ধুদের কাছে। তার কথায়, ‘বন্ধু-বান্ধব যারা আছে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিই। যে ভাইয়ের কাছে আছি তিনি সাপোর্ট দিচ্ছেন। ঢাকায় আসার পর একটা শো করেছিলাম। সেই টাকা দিয়ে চলছি। তবে কষ্ট হচ্ছে। এখানে ওখানে যেতেও তো রাস্তাখরচ লাগে। বন্ধু-বান্ধবের থেকে নিয়ে চলতে হচ্ছে।’

কথায় কথায় ফিরে দেখা হলো অতীত। ২০১৬ সালে ভাইরাল হওয়ার পর কক্সবাজারের সায়মন হোটেলে চাকরি মেলে ছোট্ট জাহিদের। ভাগ্য ফেরে তার অভাবে জর্জরিত পরিবারের। কিন্তু সৌভাগ্যের সঙ্গে সখ্যতা ক্রমশ কমছিল। 


বিজ্ঞাপন


484563321_1230266398811197_8827793194356626701_n

জাহিদের কথায়, ‘ছোটবেলায় দুম করে ভাইরাল হয়ে গেলাম। এরপর অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ। হোটেল সায়মন সোনার চামচ মুখে দেওয়ার মতো কদর করে নিয়ে গিয়েছিল। ভাইরালের রেশ কাটতেই আমারও কদর কমে। শুরুতে আড়াই হাজার টাকা বেতন ধরেছিল। বাসা দিয়েছিল। তিন বেলা খাওয়াত। পরের পাঁচ বছরে বেতন আড়াই থেকে সাত হাজার হলেও সুযোগ-সুবিধা কমে যায়। শুরুতে তিন বেলা খাওয়ালেও একসময় দুই বেলার খাবার বন্ধ করে দেয়। শুধু রাতে খাবার দিত।’ 

আরও বলেন, ‘একটা সময় তাদের (সায়মন হোটেল) মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করা হতো। পরে সে সুযোগ মেলেনি। অন্য কোথাও গান করি চাইত না তারা। ঢাকায় কণ্ঠ দিতে আসলেও আপত্তি করত। কিন্তু গানের জন্য তো স্বাধীনতা দরকার। সেটা ক্ষুণ্ণ হওয়ায় চাকরি ছেড়ে দিই।’ 

স্বাধীনতার স্বাদ মিলেছিল জাহিদের। সেইসঙ্গে ফের বন্দি হতে হয় অনটনের শৃঙ্খলে। কেননা হোটেলের চাকরি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুযোগ-সুবিধাগুলো ত্যাগ করতে হয় তাকে। বাসা ছাড়তে হয়। নিজের ও পরিবারের পেট চালানোর দায়িত্বও কাঁধে নিতে হয়। আয়ের পুরোনো পথ (পর্যটকদের গান শোনানো) বেছে নিলেও পরিস্থিতি পক্ষে ছিল না। কেননা ছিল না জাহিদের সেই জনপ্রিয়তা। অভাবে জালে জড়ায় তার পরিবার। ফলে গান ও জাহিদের মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান তার মা। চাইছিলেন সন্তান আয়ের অন্য কোনো পথ বেছে নিয়ে ভালো থাকুক।

476016743_1200889188415585_5806195796653680132_n

কিন্তু জাহিদের ভালো থাকার ওষুধ গান। তাই মায়ের কথায় সায় দেওয়া সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে পরিবার ছাড়েন। কক্সবাজারের পাট চুকিয়ে উঠে বসেন ঢাকাগামী গাড়িতে। 

ঢাকার জীবনও কষ্টের উল্লেখ করে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে চলছি। কাজকর্ম নেই। প্রোগ্রামও নেই।’ বললেন, ‘পরিবারকে সাপোর্ট দিতে পারছি না। ঢাকায় আমার নিজেরই চলতে কষ্ট হচ্ছে। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াতেই ২০০-৩০০ টাকা লাগে। সেই খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।’

জাহিদের উপলব্ধি, ‘যতদিন সায়মন হোটেলে ছিলাম ততদিন কষ্ট হয়নি। চাকরি ছাড়ার পর আমি নিজেও বিপদে পড়ে গেছি। বাস্তবতা কী এখন টের পাচ্ছি।’  

481187715_1217565850081252_4389736680486703414_n

তবুও থেমে যেতে চান না জাহিদ। ফের ঘুরে দাঁড়ানো-ই একমাত্র লক্ষ্য। বললেন, ‘ডিপ্রেশনে আছি। মন মানসিকতা সবসময় খারাপ থাকে। কাজকর্ম পেলে তখন হয়তো ভালো লাগবে। আগের জাহিদকে সবাই চেনে। এখনও সবার মনে আছে। যেকোনো স্টেজে মধু হই হই গানটা শুরু হলে ওই জাহিদের কথা বলে। এই জাহিদকে এখনও চেনাতে পারলাম না। চেনাতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।’ 

কষ্টের মাঝেও আত্মবিশ্বাস খুঁজে পান সেই পুরোনো উকুলেলেতে। সৈকতে গানের সঙ্গে যেটি বাজিয়েছিলেন তার আবিষ্কারক ইমরান হোসেন। বাদ্যযন্ত্রটি এখন জাহিদের কাছে। যেখানেই যান সঙ্গে রাখেন। তবে যোগাযোগ নেই ইমরানের সঙ্গে। কারণ জানতে চাইলে বললেন না। শুধু জানালেন অনেক অভিমান জমা। সেই অভিমান বুকে নিয়ে একা পথ চলছেন জাহিদ। 

আরআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর