সংগীতের কোনো সীমানা থাকে না। আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে সেটি আবারও প্রমাণ হলো। কিংবদন্তি গায়িকার প্রয়াণে শোকাতুর পাকিস্তানের জনপ্রিয় শিল্পী ওস্তাদ গুলাম আলী খান।
গায়িকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এক ভিডিও বার্তায় গুলাম আলী জানান, আশা ভোঁসলের সাথে রেকর্ডিংয়ের সময় কাজের সম্পর্কের বাইরে তৈরি হয়েছিল এক পারিবারিক বন্ধন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, রেকর্ডিংয়ের সময় তিনি আমাকে নিজের বাড়িতে দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে অবাক হয়ে দেখলাম, বিভিন্ন পদের রান্না থেকে শুরু করে ঘরের সব কাজ তিনি নিজেই করছেন।’
বিজ্ঞাপন
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে
তিনি আরও যোগ করেন, “আশা জি আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি চাই রাত ৮টার সময় আপনি আমার নিজের হাতের রান্না করা খাবার খান।’ তাঁর মতো বড় মাপের একজন শিল্পী যে এতটা সাধারণ হতে পারেন তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।”

গুলাম আলী খানের ছেলে আমিরও কাজ করেছেন আশা ভোঁসলের সাথে। সেই কথা টেনে পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী বলেন, “আশা জি-র মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি কাজের মাধ্যমে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন তা সবাই জানেন, নতুন করে বলার কিছু নেই। আমি নিজে তাঁর সাথে কাজ করেছি, এমনকি আমার ছেলেও তাঁর সাথে কাজ করেছে। আমার ছেলে আমির তাঁকে ‘তাই’ (বড় বোন) বলে ডাকত। আশা জি তাকে পরম স্নেহে বলতেন, ‘তুমি তো আমার ছেলের মতো, তোমার সাথে কেন গান গাইব না?’ আমিরের সাথে তিনি দুটি গান গেয়েছিলেন।”
বিজ্ঞাপন
আশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কটাক্ষের শিকার আথিয়া
আশা ভোঁসলের সংগীত প্রতিভার প্রশংসা করে গুলাম আলী বলেন, “তিনি আমাকে প্রায়ই মজা করে বলতেন, ‘আমাকে এত কঠিন গান দিয়ে বিপদে ফেলবেন না।’তাঁর মতো শিল্পী পৃথিবীতে খুব কমই জন্মায়। তিনি কাজের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে গেছেন। তাঁর গান আমাদের সবসময় আনন্দ দেয়।”
সবশেষে গুলাম আলী খান বলেন, ‘আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। আল্লাহ যেন তাঁর পরিবারকে এই কঠিন শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন। আশা জি তাঁর কাজের মাধ্যমে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।’
ইএইচ/




