জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে পকেট মেরেছেন, চুরি করেছেন, কুলিগিরি করেছেন, রিকশা চালিয়েছেন। অভিনয়ে সুযোগ পেয়ে দিন ফেরে তার। হাতে পয়সা আসে, জোটে জনপ্রিয়তা। তিন দশকের ক্যারিয়ার শেষে আজ শূন্য হাত তার। অভাব বাসা বেঁধেছে। পরিবার নিয়ে এই শহরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন শামীম হোসেন।
শামীম জানালেন, বেঁচে থাকার তাগিদে শৈশবে রাস্তায় নামতে হয় তার। হাড়ভাঙা খাটনির মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা। পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দিতে জড়াতে হয়েছে ছোটখাট অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডেও।
বিজ্ঞাপন
তার কথায়, ‘ ১৯৮৮-এর বন্যায় মতিঝিল-শান্তিনগরে নৌকা ঠেলতাম। সে সময় পরিবার বাঁচাতে জন্য ম্যানহোলে ঢাকনা চুরি করতাম, বিল্ডিংয়ের পাইপ খুলে বিক্রি করতাম। পরে দেখলাম ধরা পড়লে হাতুড়ি দিয়ে পেটায়। হাত থেতলে দেয়। তাই কাজটি শেখা হয়নি। সাত দিন পর চলে আসি। এরপর শান্তিনগর-মালিবাগ বাজারে কুলিগিরি করেছি। একটা সময় বেইলি রোডে দিনে রিকশা চালাতাম রাতে কাগজ টোকাতাম।’
বেইলি রোড থেকেই ভাগ্য বদলায় শামীমের। সুযোগ পান অভিনেত্রী ও নির্মাতা আফসানা মিমির জনপ্রিয় ধারাবাহিক বন্ধনে। জোটে তুমুল জনপ্রিয়তা। নাটকের হাস্যরসাত্মক চরিত্রগুলোতে ডাক পড়তে থাকে তার। নাম লেখান সিনেমায়ও। ২০-২৫ টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দুহাতে অর্থও এসেছে তখন। তবুও দিন শেষে শূন্য হাতের কারণ কী? শামীম জানালেন, খরচ হয়েছে বাবা-মায়ের চিকিৎসায়।
শামীম বলেন, ‘আব্বার ব্রেন ক্যান্সার হয়েছিল। এটা মিডিয়ার কেউ জানে না। জমানো যা টাকা ছিল চিকিৎসায় শেষ হয়ে যায়। বাচ্চাদের নামে যে ডিপোজিটও ভাঙি তখন। অন্যদিকে মা ছিলেন ব্রেন স্ট্রোকের রোগী। তাকেও দেখতে হয়েছে। চিকিৎসা করিয়েছি নিজের টাকা দিয়েই। পাশাপাশি অনেকে সাহায্য করেছে। অনেকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।’
কষ্টের কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে শামীমের। চোখ মুছে বলেন, ‘এত কষ্টের কথা বলা যায় না। ১২ বছর বয়স থেকে জীবন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সুপারম্যানের মতো খেটে যাচ্ছি। কিন্তু এই বয়সে এসে দেখি হাতে কিছুই নেই। আউটপুট জিরো।’
বিজ্ঞাপন
তার কথায়, ‘এত নাটক করলাম অথচ এখন আমার খাওয়ার টাকাই থাকে না!’ কথা বলতে পারলেন না শামীম। শ্লেষের হাসি হাসলেন। যেন নিজেই জীবনকে উপহাস করছেন!
আরআর

