সম্প্রতি ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়’— এমন একটি শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ফটোকার্ডটি শেয়ার করে অনেকে মন্তব্য করেন এই সিদ্ধান্তের ফলে হুমকির মুখে পড়তে পারে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প। কেউ কেউ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দিকেও অঙ্গুল তুলেছেন।
এ বিষয়ে সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এটাকে ‘ফটোকার্ড সন্ত্রাস’ বলে উল্লেখ করে কড়া সমালোচনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সরকারের কেউ না। ফলে সরকারকে রক্ষা করা আমার দায়িত্বও না। কিন্তু ফটোকার্ড সন্ত্রাস দেখে একটা কথা বলতেই হচ্ছে, হাতেগোনা দু-একটি প্ল্যাটফর্ম (সংবাদ মাধ্যম) ছাড়া অধিকাংশ প্ল্যাটফর্মকে অবিশ্বাস করা এখন সবার ঈমানী দায়িত্ব হয়ে গেছে।’
ফারুকী জানান, এই খবরটি দেখার পরপরই তিনি নিশ্চিত ছিলেন এটি একটি সাজানো ঘটনা। সাবেক উপদেষ্টার কথায়, ‘এই সরকার এখনও চেয়ারে বসতেই পারল না। আর এরকম দ্রুততার সাথে এই রকম ছোট একটা কাজ করে ফেলবে? সরকার যন্ত্রের গতি ভেতর থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানতাম এটা অসম্ভব।’
বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা, এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। প্রকৃত ঘটনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘একটি ধূমপানবিরোধী প্রতিষ্ঠান একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু সেই দাবিকে এমন কায়দায় একটি ফটোকার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মনে হয় ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঘটে গেছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া ফটোকার্ডের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতাকে ‘ফটোকার্ড সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফারুকী। তিনি লেখেন, ‘ফটোকার্ড এবং ভুয়া ভিডিও রিপোর্ট এমন জায়গায় চলে গেছে যে মানুষের এখন একটা থাম্বরুল (বুড়ো আঙুল) করার সময় আসছে ‘যাহা পড়িব, যাহা দেখিব, কিছুই বিশ্বাসিবো না’। গত কয়দিনে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে যে পরিমাণ গাঁজাখুরি গল্প উৎপাদন করা হয়েছে সেটা নিয়ে কেউ একটা ফ্যাক্টচেক করেন, দেখতে পারবেন অবস্থা।’
ইএইচ/

