বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ওটিটি

মা, পরিবার ও প্রিয় বিড়াল— ভালোবাসার গল্প ‘মিউ’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মা, পরিবার ও প্রিয় বিড়াল— ভালোবাসার গল্প ‘মিউ’

ঘর মানেই শুধু মানুষে ভরা নয়—সেখানে থাকে ভালোবাসা, অভিমান, দায়বদ্ধতা আর নীরব নির্ভরতার গল্প। কখনও সেই গল্পে মানুষ কথা বলে, কখনও বা এক নরম লোমশ প্রাণী নীরবে জায়গা করে নেয় পরিবারের হৃদয়ে। ঠিক এমনই এক আবেগঘন পারিবারিক বয়ান নিয়ে আসছে চরকির অরিজিনাল ফিল্ম ’মিউ’। যেখানে মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েনের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর প্রতি মমতা এক গভীর মানবিক প্রশ্ন তুলে দেয়— আমাদের ওপর নির্ভরশীল প্রাণীগুলোকে আমরা আসলে কতটা যত্নে রাখি?

চরকির এই অরিজিনাল ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন আতিক জামান। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ’এটি মূলত একটি পরিবারের গল্প হলেও এখানে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি গল্পকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ছবির মূল শক্তি পরিবারের সদস্যদের নানা অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা এবং ভাঙাগড়ার ভেতরেই নিহিত।

চরকি অরিজিনাল ফিল্মটি মুক্তি পাচ্ছে ৪ মার্চ রাত ১২টায় (৫ মার্চ)। পারিবারিক সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ এবং পোষা প্রাণীর প্রতি মমতার মিশেলে ‘মিউ’ দর্শকদের মনে নরম এক দাগ কেটে যাবে—এমন প্রত্যাশাই নির্মাতা ও কলাকুশলীদের।

ফিল্মটিতে অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান, আফসানা মিমি, আফজাল হোসেন, ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল, রাকিব হোসেন ইভন, আজিজুল হাকিম, কাব্যকথা প্রতীতি, তামান্না হক বর্ণা। গল্পে আজিজুল হাকিম ও আফসানা মিমি অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান ও রাকিব হোসেন ইভনের বাবা–মায়ের চরিত্রে।

পরিবারটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মা চরিত্রটি। আফসানা মিমি মজার ছলে বলেন, ’প্রতিটি পরিবারে মা একটি রাজনৈতিক চরিত্র।’ অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘পরিবার নামের কাঠামোটি অনেকটা রাষ্ট্রের মতো—যেখানে মা একজন পরিচালক। পরিবারকে ধরে রাখতে মা কখনও বকা দেন, কখনও ভালোবাসেন, আবার কখনও কাউকে বঞ্চিতও করেন। এই গল্পে সেই বাস্তবতাই উঠে এসেছে, সঙ্গে রয়েছে পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে মেনে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ।’

অভিনেতা রাকিব হোসেন ইভন ছবিটিকে বর্ণনা করেছেন একেবারে মশলামুক্ত শহুরে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প হিসেবে। ফিল্মে রাফি চরিত্রে অভিনয় করা ইভন বলেন, ’দায়িত্ব ও প্রত্যাশার চাপে বড় ছেলের বটগাছ হয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা এবং তার অসহায়ত্ব চরিত্রটিকে খুব মানবিক করে তুলেছে। তার বিশ্বাস, দর্শকেরা সহজেই নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই চরিত্রকে মিলিয়ে নিতে পারবেন।’

ফিল্মটির আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ—সাদিয়া আয়মানের বাস্তব জীবনের পোষা বিড়াল ‘আলু’। এই বিড়ালটিই ‘মিউ’তে অভিনয় করেছে এবং ফটোশুটেও অংশ নিয়েছে, যা ফিল্মে অভিনত্রীর আবেগকে আরও বাস্তব ও হৃদয়স্পর্শী করে তুলেছে। 

সাদিয়া আয়মান বলেন, ’মিউ আমার জন্য খুবই বিশেষ একটি কাজ। কারণ এখানে শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যে গভীর আবেগের সম্পর্ক— সেটাও খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। আমরা অনেক সময় পোষা প্রাণীকে ভালোবাসি, কিন্তু তাদের অনুভূতি বা নির্ভরতার জায়গাটা ঠিকভাবে ভাবি না। এই ফিল্মটি সেই জায়গায় দর্শকদের ভাবাবে বলে আমার বিশ্বাস।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিজের পোষা বিড়াল আলু এই ফিল্মে কাজ করেছে— এটা আমার জন্য আলাদা আনন্দের। শুটিংয়ের সময় ওকে নিয়ে কাজ করা ছিল খুবই আবেগের এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ওর সবগুলো শক এক টেকে হয়ে গেছে। খুব প্রফেশনাল আর্টিস্টের মতো কাজ করেছে সে।’ 

অভিনেত্রী জানান, ’মিউ’ এর গল্পটি আরও একটি কারণে বিশেষ তার কাছে। ছোট বেলায় সাদিয়া যে বিড়ালটিকে সন্তানের মতো বড় করছিল, সেই বিড়ালটির নাম ছিল মিউ এবং সেও হারিয়ে যায়। কাকতালিয়ভাবে গল্পের সঙ্গে তার বাস্তব জীবনের ঘটনা মিলে গেছে।

নির্মাতা আতিক জামান বলেন, ’গল্পটা প্রথম যেমন ছিল শেষ পর্যন্ত আর তেমন থাকেনি। নানা রকম যুক্তি–তর্কের পর আমরা একটি পারিবারিক ও মানবিক গল্প তৈরি করতে পেরেছি বলে আশা করছি। একটা পরিবারের সব রকমের অনুভূতি এই গল্পে দর্শকরা পাবেন। এর সঙ্গে পোষা প্রাণী একটা বড়তি আবেদন যোগ করেছে। আমি বলব এটা মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছে বা একটা নতুন উপলব্ধি তৈরি করেছে মিউ।’ ’মিউ’ গল্প লিখেছেন মো আলম ভূঁইয়া। নির্মাতা ও গল্পকার মিলে লিখেছেন চিত্রনাট্য ও সংলাপ।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর