আরও কয়েক বছর আগে সিনেমায় অভিষেকের কথা ছিল স্নিগ্ধা চৌধুরীর। রায়হান রাফীর ‘রাস্তা’ ছবিটি আলোর মুখ না দেখায় সেটি সম্ভব হয়নি। অপেক্ষার পালা শেষ। রোজার ঈদে একই পরিচালকের মুক্তিপ্রতীক্ষিত প্রেশার কুকার সিনেমায় দেখা যাবে তাকে। গতকাল ঢাকা মেইলের সঙ্গে ফোনালাপ জমেছিল স্নিগ্ধার।
‘রাস্তা’ দিয়ে অভিষেকের কথা ছিল। ‘প্রেশার কুকার’ দিয়ে হচ্ছে। মাঝের সময়টা কেমন ছিল?
বিজ্ঞাপন
হয়তো অভ্যন্তরীণ কিছু কারণে ‘রাস্তা’ হয়নি। তাই বলে ভেঙে পড়িনি। আমাকে সহজে কোনোকিছু ভাঙতে পারে না। আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী। মডেলিংয়েও বেশ ভালো অবস্থান রয়েছে আমার। সেটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। দেশ-বিদেশে অনেকগুলো বড় শো করেছি। অর্জনের ঝুলি খালি ছিল না। বরং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু পাচ্ছিলাম। সিনেমার প্রস্তাবও যে আসেনি তা কিন্তু না। অনেক প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু ঠিকঠাক লাগেনি বলে সাইন করিনি। মনে হয়েছে অপেক্ষা করি; ভালো কিছু পাব। হতাশার কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ আমি বিশ্বাস করি যেটা আমার জন্য লেখা না সেটা হবে না। যা আমার জন্য লেখা তা আপনাআপনি চলে আসবে।

‘প্রেশার কুকারে’ কী আছে?
চার পরিবারের চারজন মেয়ের গল্প। তারা কীভাবে ঢাকায় এসে স্ট্রাগল করে, কার জীবনে কী ঘটে, তাদের পরিবারের গল্প। মোটামুটি সফল হওয়ার পরও প্রতিনিয়ত আমাকে যুদ্ধ করতে হয়। তাহলে সাধারণ মেয়েদের প্রতিবন্ধকতা কেমন হতে পারে! সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি সিনেমাটি দেখার পর প্রতিটি মেয়ে নিজের সঙ্গে মেলাতে পারবে।
বিজ্ঞাপন
‘প্রেশার কুকার’ করতে কীরকম প্রেশারে থাকতে হয়েছে?
সুপার প্রেশারে ছিলাম। দুই মাস সব বাদ দিয়ে এটা নিয়ে পড়ে ছিলাম। সারাদিন গ্রুমিং করতাম। বাসায় শিক্ষক রেখে অভিনয় শিখেছি। যেহেতু তথাকথিত ধারণা আছে, মডেলরা অভিনয় পারে না। তাই চাপটা বেশি ছিল। কারণ বাকি তিনজনই (শবনম বুবলী- নাজিফা তুষি-মারিয়া শান্ত) অভিনয় করেন। তবে পরিচালকের (রায়হান রাফী) কাছে কৃতজ্ঞ। দারুণ একটা টিম দিয়েছিলেন। আমাকে এক মাস গ্রুমিং করিয়েছে। শুটিং চলাকালীন প্রেশারে থাকতাম। সেটে পরিচালকের বকাবকি শুনতে হতো। বকে টকে আবার বলতেন তোমাকে কিন্তু শেখাচ্ছি। আমি তোমার টিচার। তবে আমার মনে হয় সেরাটা দিয়েছি। সবাই খুব সাপোর্টিভ ছিলেন।

মজার কোনো অভিজ্ঞতা…
মজার অভিজ্ঞতা হলো প্রতিদিনই পরিচালক আমাকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখাতেন। ক্যামেরার সামনে আমার মধ্যে জড়তা পেলেই বলতেন, তুমি কিন্তু এখন বাদ হয়ে যাবা। নায়িকা কিন্তু একটা চেঞ্জ হবে। ভালো করে অভিনয় করো।
সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
নাজিফা তুষি আপুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছে। তিনি প্রথম থেকে আমাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন। সহযোগিতা করতেন। শবনম বুবলী আপুর সঙ্গে একদিন দেখা হয়েছে। পোস্টারের শুটিংয়ের দিন। শি ওয়াজ ভেরি নাইস।

ঈদে মুক্তি পাবে ‘প্রেশার কুকার’। কেমন প্রেশার বোধ করছেন?
এটা পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। কারণ প্রেশারটা হয়তো তিনি-ই বোধ করছেন। যেহেতু এতগুলো মেয়েকে নিয়ে রিস্ক নিয়েছেন। আমরাও নিজেদের সেরাটা দিয়েছি। প্রেশার কিছুটা আছে। তবে অতটাও না। আমার মনে হয় সিনেমাটা হিরোদের চেয়ে বেটারও হয়ে যেতে পারে।
‘প্রেশার কুকার’ দেখতে কেন সিনেমা হলে যাবেন দর্শক?
‘প্রেশার কুকার’ রিয়েলিস্টিক সিনেমা। কৃত্রিমতা নেই। বাতাসে ওড়না ওড়াওড়ি, বাবল ওড়ানো প্রেম পাওয়া যাবে না। চার মেয়ের গল্পে তাদের পরিবারও উঠে এসেছে। গোত্র, ধর্মের ভিন্নতা মিলিয়ে ‘প্রেশার কুকার’ বাংলাদেশের মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করার মতো ছবি হতে যাচ্ছে। বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে যাব। আমার মা ছবির মায়ের চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারবেন। এখানে অনেক কিছু শেখার, জানার, বোঝার আছে। ছবিটা দেখে অনেকের চোখে পানিও চলে আসতে পারে। অতএব ‘প্রেশার কুকার’ না দেখার কোনো কারণ নেই। দেখার ১০০ টা কারণ বলতে পারব।
আরআর

