গেল বছরের শেষে ট্রেলার দিয়ে মুগ্ধতা ছড়ায় ‘রইদ’। চলমান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম তথা আইএফএফআর-এর ৫৫তম আসরেও মুগ্ধতা ছড়িয়েছে ছবিটি। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন জানালেন বৃষ্টি, শীত উপেক্ষা করে ‘রইদ’-এর উত্তাপ নিয়েছেন দর্শক।
বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম শহর থেকে ঢাকা মেইলকে সুমন বলেন, গতকাল ‘রইদ’-এর স্ক্রিনিং হয়েছে। দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। কেননা ভিন্ন ভাষাভাষীরা ছবিটা দেখেছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে— শেষ দৃশ্যের তীব্রতা তারা উপভোগ করছিলেন। এখানকার দর্শকরা সিনেমা জানা মানুষ। তারা সিনেমাকে অন্যভাবে ডিকোড করেন। সেটা অনুভব করতে পেরেছি। কেননা তাদেরকে সাবটাইটেলে দেখতে হয়েছে। তারপরও পুরো সিনেমা চলাকালীন পিনপতন নীরবতা ছিল। শেষ দৃশ্যে সবাই এতটাই বুঁদ ছিলেন যে ছবি শেষের অনেক পরে; টাইটেল ওঠার শেষের দিকে হাততালি দিয়েছেন। একই শো টাইমে আরও ছবি দেখানো হয়েছে। আমাদের ছবিতে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়েছিল। যা খুবই আনন্দের। সেদিন বৃষ্টি ছিল। খুব ঠান্ডা পড়েছিল। তারমধ্যে পুরো হাউসফুল এবং সবাই ছবিটা নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন।
বিজ্ঞাপন

প্রদর্শনী শেষে কৌতূহলীদের প্রশ্নের গভীরতায় নির্মাতার উপলব্ধি— অঞ্চল ও ভাষার ভিন্নতা হওয়া সত্ত্বেও ‘রইদ’-এর সঙ্গে একাকার হয়েছিলেন দর্শক। বললেন, ‘অনেকে নানারকম প্রশ্ন করছিলেন। যার সবই দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। যে আইডিয়াগুলো নিয়ে আমি স্ক্রিপ্ট রাইটিং করেছিলাম সেসব শুনতে চাচ্ছিলেন। দার্শনিক কিংবা রাজনৈতিক যে জায়গাগুলা নিয়ে কাজ করেছি সেগুলোর সঙ্গে তারা যুক্ত হতে পেরেছিলেন। কারণ আমি যে বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছি সেটা অন্য অঞ্চলের মানুষকেও যুক্ত করবে। এসব নিয়েই বেশি কথা হচ্ছিল।’
রটারড্যামে আসা অনেকেই ‘রইদ’-এর উত্তাপ নিতে আগ্রহী বলে জানালেন সুমন। তার কথায়, ‘বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটর আমাদের সাথে মিটিং করেছে। ছবিটি দেখার পর কয়েকটি ফেস্টিভ্যালও আগ্রহ প্রকাশ করছে। সাংহাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল খুব-ই আগ্রহী। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে এরকম আরও ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
এবারের রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। কেননা ‘রইদ’ ছাড়াও ‘দেলুপি’ ও ‘মাস্টার’ নামের দুটি বাংলাদেশি সিনেমা উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে লড়ছে। সে প্রসঙ্গে তুলতেই ‘হাওয়া’র নির্মাতা বললেন, ‘‘আমি ‘দেলুপি’র শো দেখতে যাচ্ছি। ‘মাস্টার’ দেখা হয়নি। কারণ সেদিন আমার প্রিমিয়ারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। পরের শোয়ে দেখে নেব।’’
প্রত্যেক অঞ্চলের সিনেমার নিজস্ব ভাষা থাকে। সে ভাষা তৈরিতে আন্তর্জাতিক উৎসবের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সুমন। তার কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করি যেকোনো আর্ট ফর্ম সারা বিশ্বের জন্য। সিনেমার দর্শক পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছেন। নিজস্ব গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বিশ্বের দর্শকের কাছে সিনেমা নিয়ে যেতে পারাটা খুব আনন্দের। এটা আমাদের সিনেমার জন্য ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। কারণ আমাদের বাজার ছোট। সেটা বড় করতে ছবি নিয়ে বিশ্বের কাছে যেতে হবে। আর যখনই একটা সিনেমা দেশের বাইরে যাবে তখন প্রযুক্তিগত দিকটি ঠিক রাখতে হবে। এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এটা নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের সিনেমার ভাষা তৈরি করতে পারব। সেজন্য হলেও গণ্ডি থেকে বের হয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢোকা দরকার। সেজন্য ফেস্টিভ্যাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করি। শেষ ৫-১০ বছরে সিনেমা নিয়ে অনেক বড় বড় ফেস্টিভ্যালে আমাদের কম বেশি যাওয়া হচ্ছে। সেটা সামনে আরও বড় আকারে হবে বলে বিশ্বাস করি।’

এবারের আইএফএফআর-এ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিনেমার সঙ্গে টাইগার পুরস্কারের জন্য লড়ছে ‘রইদ’। এ ছবির মাধ্যমে প্রথম কোনো বাংলাদেশি সিনেমা আইএফএফআর-এর মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ডাক পেয়েছে। সিনেমাটি গড়ে উঠেছে সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে নিয়ে। মূল পাত্র-পাত্রী নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।
আরআর

