পারিবারিক গল্পভিত্তিক ধারাবাহিকের সোনালী সময় ফিরিয়ে এনেছে ‘দেনা পাওনা’ । সিরিয়ালটি দেখতে ইউটিউবে ভিড় করেন দর্শক। জনপ্রিয় এ সিরিয়ালটির মাধ্যমে পারিবারিক গল্পভিত্তিক ধারাবাহিকের হারানো ঐতিহ্য ফিরেছে। তাবাসসুম ছোঁয়া এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যালেন শুভ্রর জন্যও। ধারাবাহিকটি দিয়ে দর্শকের মাঝে ফিরেছেন অভিনেতা। এসব কারণে সিরিয়ালটি হয়ে উঠেছে বিশেষ।
‘দেনা পাওনা’র কল্যাণে অভিনেত্রী তাবাসসুম ছোঁয়া এখন যেন দর্শকের ঘরের মেয়ে! ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘নিপা আমার কাছে এমন একটি চরিত্র যেটিকে আমি কোনোদিন কোনো চরিত্র দিয়ে ছাড়িয়ে যেতে পারব না। প্রায় দেড় বছর ধরে সিরিয়ালটা করছি। এরপর হয়তো আরও অনেক চরিত্র করা হবে কিন্তু এই চরিত্রের আবেদনটা আমার কাছে অন্যরকম।’
বিজ্ঞাপন
একসময় নাটকে মুগ্ধতা ছড়ালেও অভিনয়ে অনেকদিন অনিয়মিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা অ্যালেন শুভ্র। হারিয়ে গিয়েছিলেন আলোচনার টেবিল থেকেও। ‘দেনা পাওনা’ র মাধ্যমে দর্শকের কাছে ফিরেছেন। তার অভিনীত খায়রুল চরিত্রটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

আজকাল ভিউয়ের নেশায় মানহীন গল্পের ছড়াছড়ি। পারিবারিক গল্পের আধিপত্য আগের মতো নেই। যেগুলো আছে সেগুলো ফিরিয়ে আনতে পারেনি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। সেদিক থেকে সফল ‘দেনা পাওনা’ । নির্দিষ্ট দিনে সিরিয়ালটি দেখতে অপেক্ষায় থাকেন দর্শক। এ যেন ধারাবাহিকের সে সোনালী দিন ফিরে আসার আভাস!
এত জনপ্রিয়তার কারণ খুঁজতে গেলে পরিচালক কেএম সোহাগ রানা বলেন, ‘সিরিয়ালটি দর্শকের এত ভালোভাবে নেওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, এখানে কাল্পনিক কিংবা সিনেম্যাটিক কিছু নেই। যা আছে তার শতভাগ জীবন থেকে নেওয়া। বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব, আবেগ, ভালোবাসা সবার মাঝেই আছে। এ কারণেই শ্রেণী নির্বিশেষে প্রত্যেকে সিরিয়ালটির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন। প্রত্যেক শব্দ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। সংলাপ বা কোথাও অসামঞ্জস্য মনে হলে ভুল ধরেন। মানে সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন দর্শক। ’
বিজ্ঞাপন
ছোঁয়ার কথায়, ‘আমাদের পরিচালক গল্পটাকে সাদামাটা ও সাবলীল ভাবে তুলে ধরেছেন। যেখানে সম্পর্কের গভীরতা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ খায়রুল ও তার বাবার মধ্যাকার বন্ডিংয়ের কথা বলা যায়। প্রত্যেক পরিবারেই বাবা ছেলের মধ্যে এমন টান থাকে। কিন্তু আমরা ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশে অভ্যস্ত নই। তাই খায়রুল ও তার বাবার রসায়নে নিজেদের খুঁজে পান তারা। পাশাপাশি খায়রুল ও শহীদের মধ্যে সম্পর্কের ক্রাইসিস, নিপার ভেতরে সবাইকে মায়ায় বেঁধের রাখার প্রচেষ্টাগুলো সাবলীল্ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সে কারণে দর্শক খুব সহজে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারছেন।’

একটি নাটক-সিনেমা তখন স্বার্থক যখন পর্দার বাইরেও চরিত্রগুলোকে অনুভব করেন দর্শক। নিজস্ব ভাবনায় জায়গা দেন। ‘দেনা পাওনা’য় বিষয়টি লক্ষণীয়। বাবা-মা, নিপা, খায়রুল, শহীদ, হোসেন রিকশাওয়ালা, গফুরসহ প্রায় চরিত্র-ই মন ছুঁয়েছে দর্শকের। এরমধ্যে নিপা, খায়রুল, হোসেন রিকশাওয়ালাকে খুব আপন করে নিয়েছেন তারা। এ নিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাদের।
ছোঁয়া জানালেন নিপা চরিত্রটি তার ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। মায়েরাও চান কন্যা সন্তান যেন তার মতো হয়! তিনি বলেন, ‘নিপার ভেতর ছোট ছোট কিন্তু ছুঁয়ে যাওয়ার মতো কিছু গুণাবলী আছে যেগুলো আগে আমার ভেতর ছিল না। আজকাল সেসবের অস্তিত্ব অনুভব করি। এছাড়া কিছুদিন আগে একটি টেক্সট আসে। একজন নারী আমাকে লিখেছেন, আমার মেয়েটি যেন আপনার মতো হয়। একজন শিল্পীর জন্য এরচেয়ে বড় স্বার্থকতা আর কী হতে পারে!’
হোসেন রিকশাওয়ালা চরিত্রে এমএনইউ রাজুর অভিজ্ঞতা অদ্ভুত। নাটকটির দর্শক বাস্তবেও তাকে রিকশাওয়ালা ভাবেন। অনেক সময় বিষয়টি আত্মসম্মানে আঘাত করে এ অভিনেতার। রাজু বলেন, ‘‘দেনা পাওনা’য় অভিনয়ের পর থেকে আমাকে অনেকে বাস্তবেও রিকশাওয়ালা মনে করছেন। মাঝে মাঝে ইগোতে লাগে। পরে বুঝি একজন শিল্পীর এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।’’

পরিচালক সোহাগের অভিজ্ঞতা আরও অদ্ভুত। মাঝেমাঝে দর্শকের হুমকিও শুনতে হয় তাকে। তিনি বলেন, ‘গল্পের কোথাও মনমতো না হলে অনেকে হুমকি দেয়, ঠিকানা চায়। প্রতিদিন এপিসোড চেয়েও কেউ কেউ শাসানী দেয়। সিনিয়র সিটিজেনরা ইমোশনাল খুদে বার্তা লিখে পাঠান।’
এরইমধ্যে ১১২ পর্ব প্রচারিত হয়েছে দেনা পাওনার। এতে অ্যালেন শুভ্র, ছোঁয়া, রাজু ছাড়াও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শিল্পী সরকার অপু, মনিরা আক্তার মিঠু, ডা. এজাজুল ইসলাম, সুষমা সরকার, মুসাফির সৈয়দ, এবি রোকন, তানজিম হাসান অনিক প্রমুখ।
আরআর

