মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড

গতবার পদত্যাগ করছিলেন খিজির হায়াত, এবারও চাইলেন অব্যাহতি 

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

গতবার পদত্যাগ করছিলেন খিজির হায়াত, এবারও চাইলেন অব্যাহতি 

২০২৪ সালে গঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ভেঙে দিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির, নির্মাতা তাসমিয়া আফরিনসহ ১৫ সদস্যের নতুন বোর্ড গঠন করেছে সরকার। গত ১৪ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে নব গঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চাইছেন পরিচালক খিজির হায়াত খান। এ প্রসঙ্গে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান বরাবর এক পত্র দিয়েছেন তিনি। 


বিজ্ঞাপন


সেখানে শুরুতেই লিখেছেন, ‘আমি খিজির হায়াত খান একজন স্বতন্ত্র ও স্বাধীনচেতা চলচ্চিত্র কর্মী। ৫ই আগস্টের গণ অভ্যুথান পরবর্তী স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক আমাকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে বিষয়টিকে অত্যন্ত সম্মান জানিয়ে আমি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।’

এরপর লেখেন, ‘পরবর্তীতে নীতি, আদর্শ ও কাঠামোগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আমি স্বেচ্ছায় সেই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করি। সিদ্ধান্তটি ছিল ব্যক্তিগত সুবিধা বা অসন্তোষের নয়; বরং চলচ্চিত্র শিল্পের প্রকৃত উন্নয়ন ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আমার সুস্পষ্ট অবস্থানের ফলাফল।’

খিজিরের কথায়, ‘এই প্রেক্ষাপটে বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি যে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন (নং: ১৫.০০.০০০০.০২৭.২২.০০১.১৮-১৩) অনুযায়ী ২০২৬২০২৭ মেয়াদের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে আমার নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে বিষয়ে আমার সাথে কোনো আলোচনা বা সম্মতি গ্রহণ করা হয়নি।’

hayat


বিজ্ঞাপন


তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, যে কাঠামো ও বাস্তবতায় আমি পূর্বে পদত্যাগ করেছি, সেই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকা অবস্থায় পুনরায় একই দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন অবস্থায় দায়িত্ব গ্রহণ করা ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য যেমন অসঙ্গত, তেমনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতিও তা সম্মানজনক হবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

এ নির্মাতার ভাষ্য, ‘আমি কেবল তখনই এই দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারি, যখন নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করব যে চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে স্বাধীনভাবে, বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী ও কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিবেশ সেখানে বিদ্যমান। কারণ বোর্ডে কারা আছেন তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বোর্ডটি কীভাবে এবং কার স্বার্থে কাজ করছে।’

এরপর লিখেছেন, ‘আমার অগোচরে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির ফলে সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, যা একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে আমার জন্য বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়, না আমার জন্য, না বোর্ডের জন্য, না বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়কে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ আমার মতো ক্ষুদ্র চলচ্চিত্র কর্মীকে এহেন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের জন্য আবারও যোগ্য মনে করবার জন্য। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন, যুগোপযোগী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান গঠনের উপর কোন ব্যক্তি বিশেষের উপস্থিতির উপর নয়। সেই বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, আমাকে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (২০২৬-২০২৭) থেকে অব্যাহতি প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে রাষ্ট্রের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র কর্মী হিসাবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আমার যুদ্ধ চলমান থাকবে আজীবন। প্রয়োজনে এই বিষয়ে সরাসরি আলোচনার জন্য আমার উপস্থিতি সর্বদা প্রস্তুত।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ‘সেন্সর বোর্ড’ পুনর্গঠন এবং পরবর্তীতে সে বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে নাম পরিবর্তন করে ‘চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ গঠন- দুই কমিটিতেই সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন নির্মাতা খিজির হায়াত খান। ওই বছরের তবে নভেম্বরে এসেই সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ২০২৪-এর ৩ ডিসেম্বর) খিজির হায়াত এক ফেসবুক পোস্টে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়েছিলেন। 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর