হত্যা নাকি দুর্ঘটনা— জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা যেন কাটছিল না গত চার মাস ধরে। দীর্ঘ তদন্ত সূত্রে নাম জড়িয়ে যায় গায়কের ব্যান্ড দলের সদস্য এবং চাচাতো ভাইয়ের। এবার সিঙ্গাপুর পুলিশের তদন্তে জট খুলল তার মৃত্যুর রহস্য।
কোরোনার কোর্টে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুবিন প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরলেও পরে তা খুলে ফেলেন। দ্বিতীয়বার লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হলেও তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন এবং একা লাজারাস আইল্যান্ডের দিকে সাঁতরাতে শুরু করেন।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি ইয়টের দিকে সাঁতার দেওয়ার সময় নিস্তেজ হয়ে ভেসে যাচ্ছিলেন এবং মুখ পানির মধ্যে ছিল। দ্রুত উদ্ধার করা হলে তাকে সিপিআর দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি সেদিনই মারা যান।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, জুবিনের রক্তচাপের সমস্যা ছিল এবং তিনি মৃগী রোগেও আক্রান্ত ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার দিন তিনি নিয়মিত ওষুধ নিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞাপন
প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রথমবার সাঁতার শুরু করার সময় জুবিন লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলেছিলেন। পরে ইয়টে ফিরে এসে ক্লান্তি প্রকাশ করলে দ্বিতীয়বার লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হলেও তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন।
ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ড্রাউনিং’ বা ডুবে মৃত্যু উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারকালে কিছু আঘাত পাওয়া গেছে, তবে সেগুলো সিপিআর বা উদ্ধার কার্যক্রমের সময় প্রাপ্ত বলে জানা গেছে। রক্তে রক্তচাপ এবং মৃগীর ওষুধের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, কিন্তু অন্য কোনো ড্রাগ শনাক্ত হয়নি।

মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়টে প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন, যারা খাবার, পানীয় ও অ্যালকোহল গ্রহণ করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জুবিনও অ্যালকোহল পেয়েছিলেন।
ফরেনসিক প্যাথোলজিস্ট জানান, কোনো আক্রমণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যেমন চিবানো বা আঘাতের নিদর্শন। তাই বলা যায়, এটি একমাত্র দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।
ইএইচ/

