বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

সাক্ষাৎকার

আমি পথের ধুলা থেকে উঠে আসা মানুষ: পথিক নবী 

রাফিউজ্জামান রাফি
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

আমি পথের ধুলা থেকে উঠে আসা মানুষ: পথিক নবী 
আমি পথের ধুলা থেকে উঠে আসা মানুষ— দাবি পথিক নবীর। তার গানেও মাটি, জীবন ও বৈরাগ্যের মাখামাখি। জনপ্রিয় এ সংগীতশিল্পীর সঙ্গে সম্প্রতি আলাপ হয় ঢাকা মেইলের। সে সাক্ষাৎকারে নিজেকে খুলেছিলেন তিনি। 

এখন কনসার্টের ভরা মৌসুম। ব্যস্ততা কেমন? 


বিজ্ঞাপন


ব্যস্ততা নেই। নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আমাদের দৌড়ের ওপর থাকতে হয়। অর্থনৈতিকভাবেও চাঙা থাকি। মনে শান্তি থাকে। এ বছর দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে কিন্তু শো হচ্ছে না। অর্থনৈতিকভাবে তাই অন্য সময়গুলোর মতো ফিডব্যাক আসছে না। এর বাইরে যে করপোরেট শোগুলো হয় সেখানেও আমি নেই। ব্যক্তিগত পরিচয় বা যোগাযোগের কল্যাণে কিছু শো আসছে। সেগুলো করে বেঁচে থাকছি। 

চিত্রটা তুলে ধরবেন? 

সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। প্রোগ্রাম হবে। ফোন আসছে। কথাবার্তা চলছে। কিছুদিন পর বলছে, দাদা পারমিশন পাচ্ছি না। আবার দেখা গেল অনেক প্রোগ্রামে রওনা দিয়েছি। এমন সময় ফোন আসছে। বলছে, দাদা প্রোগ্রাম আজকে করতে পারব না। ব্যাপারগুলো আমার কাছে ভালো লাগছে না। মানসিকতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  

p-nabi


বিজ্ঞাপন


কনসার্টের পেছনের মানুষগুলো চলছে কীভাবে?  

আমার কষ্ট হচ্ছে খুব। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের উপার্জন চার ভাগের এক ভাগও না। তারপরও একভাবে টিকে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু যারা লাইট, সাউন্ডসহ কনসার্টে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সরবরাহের সঙ্গে জড়িত তারা আমার মতো সার্ভাইভ করতে পারছে না। কেননা তাদের বড় পুঁজি আটকে গেছে এখানে। যন্ত্রপাতিও অকেজো হয়ে আছে। ফলে তাদের আর্থিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আমার মনে হয় সংস্কৃতির জগতের যে পরিমণ্ডল সেটার সঠিক ব্যবহার না হলে এ পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকবে। 

আপনারা কীভাবে চলছেন? 

আমি অনেক স্ট্রাগলের ভেতর দিয়ে এসেছি। অনেক যুদ্ধের ভেতর দিয়ে আমাকে দাঁড়াতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে চলতে হয়েছে। তাই সুরক্ষাব্যবস্থা রাখি সবসময়। একভাবে না হলে আরেকভাবে। আরেকভাবে না হলে বিকল্প কোনো না কোনোভাবে সার্ভাইভ করি। আমার বিচিত্র ধরনের প্রোগ্রাম করার অভিজ্ঞতা আছে। যেগুলো আমাদের দেশের অনেক সেলিব্রিটি আর্টিস্ট করতে পারেন না। কিন্তু আমি পারি। কারণ আমি একদম পথের ধুলা থেকে উঠে আসা মানুষ। কিন্তু আমার মতো সবাই না। অনেকে মসৃণ পরিবেশে গানবাজনা করে অভ্যস্ত। তাদের জন্য এটা বড় একটা হুমকির মতো বা অপ্রত্যাশিত। 

আপনার বেড়ে ওঠা কেমন ছিল? 

অনেকে সংগীত পরিবার থেকে এসেছেন। তাদের অন্যরকম বেড়ে ওঠা, অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আমার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। আমি গ্রাম থেকে আসা ছেলে। পারিবারিকভাবে গানের চর্চা ছিল না। তবে সম্পর্ক ছিল। কেননা নানার বাড়িতে আধ্যাত্মিক চর্চা, সুফি চর্চা, সাহিত্য চর্চা, গান-বাজনা হতো। মামা ছবি আঁকতেন, গান করতেন, খালারা গাইতেন। প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলসা হতো। বিভিন্ন রকম শিল্পী, সাধ্‌ পাগলরা আসতেন। গান হতো, জিকির হতো, তবারক ছিল। আমার নানা ছিলেন চিশতিয়া ভক্ত। পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। উন্নত মানসিকতার ছিলেন। ব্রিটিশ আমলে গ্রাজুয়েশন করেছিলেন। ইতিহাসের ওপর দখল ছিল। বই খাতা না খুলেই মানব সভ্যতার ইতিহাস বলতেন। আর দাদার বাড়িতে ছিল শরিয়াতি জীবন যাপন। ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলা, নামাজ রোজা করা, কারও জিনিস না বলে খাওয়া যাবে না। হজ-যাকাত করা। কোরবানির মাংস ঠিকমতো ভাগ করে গরিব-দুঃখীদের দেওয়া। অর্থাৎ আমি দুই পরিবেশেই বেড়ে উঠেছি।

singer-p

স্ট্রাগলের গল্প শুনতে চাই 

এক জীবনে আমাকে যে সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে অনেককে তা করতে হয়নি। তবে শিল্পী জীবনে সবচেয়ে বড় স্ট্রাগল নিজের ভেতর তৈরি হওয়ার ব্যাপারটা। আপনার দেখার, লেখার নিজস্ব ভঙ্গি থাকতে হবে। জানাশোনা থাকতে হবে। যার ভেতর থেকে আপনি নিজের মতো করে একটা পথ তৈরি করে নেবেন। আমাদের ভাণ্ডার কিন্তু সমৃদ্ধ। সহস্র বছরের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা। এই ধারাবাহিকতার আলোকে যারা খোঁজে তারা জানে অতীতের সৃষ্টিশীল মানুষেরা আমাদের জন্য শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সংগীতে কি করে গেছেন। যারা খোঁজে না তারা বোঝেও না। চিনেও না জানেও না। অবশ্য সবাই জানতে পারবে এমনও না। তবে যতটুকু জানা যায়। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। চাইলে অনেক কিছুই পাওয়া যাচ্ছে। বিভ্রান্তির বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে প্রকৃত আর্টিস্ট, গান, কবিতা, সংগীত, কম্পোজিশন খুঁজে বের করলে জেনারেশন সমৃদ্ধ হতে পারে। এই সুযোগটা আমাদের ছিল না। কেননা তখন এত প্রযুক্তি, তথ্য, টিভি চ্যানেল পত্রিকা ছিল না। সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে আমাদের বেড়ে উঠতে হয়েছে। তারপরও মূল যুদ্ধটা মানুষের নিজের ভেতর হওয়া উচিত। ওখানেই আসল যুদ্ধ। সেটা যদি ঠিক থাকে তাহলে জায়গা হয়ে যায়।

ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছেন, তারকাখ্যাতি পেয়েছেন, পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছেন। কোন দিনগুলো সবচেয়ে সুন্দর মনে হয়? 

জীবনের এই অধ্যায়ে একটা পরিবেশ পেয়েছি। ঘর পেয়েছি। বউ-বাচ্চা, নিজের জায়গা আছে। ছোট্ট লাইব্রেরি, টিভি রুম, বসার জায়গা, ঘুমানোর জায়গা, খাবার জায়গা— আলাদা একটা হোম এনভায়রনমেন্টে সময় কাটাই। আগে একা ছিলাম। ওই সময় যোদ্ধা ছিলাম। টিকে থাকার লড়াই ছিল সেটা। তবে জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ের আলাদা আলাদা সৌন্দর্য আছে। 

তারকাখ্যাতি কেমন উপভোগ করেন? 

সবাই আমাকে চেনে এটা অদ্ভুত এক অনুভূতি। এর আনন্দ-শান্তি-সুখ-সুবিধা সবই আছে। কিন্তু যখন আমাকে কেউ চিনত না তখনও পাগলামি, এলোমেলো জীবন, কথাবার্তা, দার্শনিক ভাবভঙ্গি, কথা, সুরের কারণে স্বল্প পরিসর হলেও যারা আমাকে স্নেহ করতেন ভালোবাসতেন সম্মান করতেন ওটার আবেদন অন্যরকম। 

singer

আপনার গানে বৈরাগ্যের ছাপ স্পষ্ট। ভেতরেও বৈরাগ্য ধারণ করেন? 

অবশ্যই। পাশাপাশি যাদের চিন্তাভাবনায় গভীর চর্চার ভাব থাকে তাদের সঙ্গে আমার আপনাআপনি বন্ধুত্ব হয়ে যায়।

‘নদী’ গানের গল্পটা বলবেন? 

‘নদী’ গানটা পুরো ১৯৯২ জুড়ে লেখা। আমার ক্যারিয়ারে দুটি গানে সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে। ‘আদম সুরত’ লিখতে লেগেছিল ছয় মাস। ‘নদী’ লিখতে এক বছর। এই গানের প্রথম চার লাইন আসার তিন চার মাসের মধ্যে আর কোনো লাইন আসেনি। ওটুকুই গেয়ে বেড়াতাম। সেসময় সারাদেশে ঘুরতাম। বয়স কম ছিল। ২২-২৩ বছর। কাঁধে একটা ব্যাগ, পকেটে কিছু টাকা নিয়ে বাস-ট্রেনে উঠে বসতাম। এক সপ্তাহে মোংলা, আরেক সপ্তাহে টেকনাফ-তেতুলিয়া। এভাবে সারাদেশ তন্নতন্ন করে ঘুরেছি। কুয়াকাটা বাদে। 

বিভিন্ন অঞ্চলে ঘোরার সুবাদে বিভিন্ন রকম আড্ডা হতো। ওই সব আড্ডায় গানটা গেয়ে বেড়াতাম। প্রথম চার লাইন চার মাস ধরে বিভিন্ন আড্ডা, ক্লাস, কলেজের বারান্দা, টিএসসি, শাহবাগ, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, দিনাজপুর, জয়পুর, পার্বতীপুর হিলিসহ সারা দেশে গেয়েছি। কেননা ওই চার মাসে বাংলাদেশ আমার দুই চক্কর দেওয়া হয়ে গেছে। এরপর এলো পরের চার লাইন। আট মাস হয়ে গেল। এর পরের চার লাইন আরও চার মাস পর। এভাবে ১৯৯২ জুড়ে সারা দেশ ঘুরতে ঘুরতে গানটি গেয়েছি ও লিখেছি। গানটি সম্পূর্ণ না হতেই মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়। ক্যাম্পাসে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ছেলে-মেয়েরা গাইতো। শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরির বারান্দায় বসে আমিও গাইতাম। অ্যালবাম বের করার সময় দেখলাম গানটি চুরি হয়ে গেছে। প্রথম চার লাইন ঠিক রেখে একেকজন একেকভাবে লিখেছে। প্রায় চার-পাঁচজন এই কাজ করেছে। আমি জানতাম না। পরে যখন আমার গান হিট হলো তখন তারা বলা শুরু করল পথিক আমাদের গান চুরি করেছে। খবর নিয়ে দেখি চার লাইন ঠিক রেখে পরেরটুকু যে যার মতো লিখেছে।  

গানটি প্রথম প্রকাশ পায় ২০০২ সালে ইত্যাদিতে। ওটা বড় সাপোর্ট ছিল। সেজন্য হানিফ সংকেত দার কাছে কৃতজ্ঞ। একতার মিউজিক আমাকে ওই সময় খুব প্রমোট করেছিল। ‘নদী’সহ ‘অচেনা পথিক’ নামে আমার ১১টি গান নিয়ে একটি অ্যালবাম বাজারে আনে তারা। অচেনা পথিককে চেনাতে একতার মিউজিক হানিফ সংকেত ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের অবদান অনস্বীকার্য। 

kasta

নিজের গান নিয়ে কোনো মন্তব্য... 

আজ পর্যন্ত আমি যত কাজ করেছি সব মন থেকে। যে গান ভালো লাগেনি সে গান আমাকে দিয়ে কেউ গাওয়াতে পারেনি। যদিও সম্পর্কের খাতিরে কিছু কাজ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেগুলো নেয়নি মানুষ। ওই জায়গা থেকে আমি দেখেছি যে গান আমার ভালো লাগেনি সে গান মানুষেরও ভালো লাগেনি। তার মানে আমার গানের সঙ্গে আমার নিজস্ব জগতের যোগাযোগ আছে। যে গানগুলোর সাথে ওই যোগাযোগ হয়েছে সেগুলোই মানুষ নিয়েছে। 

বেশ কয়েক বছর নীরব ছিলেন… 

প্রায় ৮-১০ বছর। ফিজিক্যালি একটু আনফিট ছিলাম। বিভিন্ন বদভ্যাসের কারণে অসুস্থ ছিলাম। মানসিকভাবেও কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ অডিও ইন্ডাস্ট্রি চেঞ্জ হয়ে গেল। বাতাসের হাতে কোম্পানি চলে গেল। বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে শুরু করব। 

বদলে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কেমন চলছে?  

প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমি দুর্বল। ফেসবুক চালাতে পারি। পোস্ট দিতে, ভিডিও করতে, লিখতে পারি। এর বাইরে আমাকে টানে না। আমার কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী আছে যারা আমার ইউটিউব চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করে। 

204333892_10228128976636536_2973742460168763872_n

সিনেমার গানে আপনাকে কম পাওয়া গেছে। কেন? 

সিনেমার গান তো আমি করিনি। দুই-তিনটা গেয়েছি। ফারুকীর (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) সিনেমায় গেয়েছি ও দোস্ত বলে। বিষয়বস্তু ঠিক করে আমাকে গান লিখে দিতে বললে জীবনেও পারি না। আমার দ্বারা এরকম ফরমায়েশি কাজ কোনোদিনও হবে না। বিষয় ধরে দিলে আমি আটকে যাই। তখন বলি ঠিক আছে দুইটা দিন, পাঁচটা দিন সময় দেন। এভাবে বাড়াতে থাকি এবং এক-দুই মাস পর আমি গায়েব হয়ে যাই। এসব কারণে সিনেমায় কাজ কম। 

গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী— কোন সত্তায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? 

সবার আগে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কেননা শুরুতে লিখতাম। যখন দেখলাম লিখছি ভালো কিন্তু গাইতে পারছি না। গলায় সুর নেই। তখন সুরের সাধনায় বসলাম। এই জার্নিতে অনেক সময় গেছে। এরপর গাইতে লাগলাম। তিনটি জিনিস ধাপে ধাপে এসছে আমার। কোনোটা আলাদা করতে পারছি না। 

তিন দশকেরও লম্বা ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব করেন? 

প্রত্যাশা প্রাপ্তির হিসাব তখনও করিনি এখনও করছি না। ভবিষ্যতেও করব না। হিসাবে যেতে চাই না। কারণ যা পেয়েছি তা চাওয়ার থেকে লক্ষ গুণ বেশি। অতএব হিসাবের কোনো সুযোগ আর নেই।

53919153_10220195937315511_3925919344873177088_n

কোনো আক্ষেপ আছে? 

এই পরিস্থিতিটা নিয়ে আমার আক্ষেপ। সারা জীবন এত কিছুর পর এখন প্রশ্নবোধক অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি। এটাই আমার জীবনে আক্ষেপ। এছাড়া কোনো আক্ষেপ দেখছি না। তবে যারা প্রকৃত শিল্পী তারা যেকোনো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে এগিয়ে যাবে এটাই সত্য। শিল্প সংস্কৃতি সাহিত্যের ধারাবাহিকতা বা গতিপথ প্রাকৃতিক। এটা চলবেই। হয়তো থমকে যাবে কিন্তু তার পথ কেউ থামাতে পারবে না। 

আরআর 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর