রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ফরিদা পারভীন লালনের গানকে নতুন জন্ম দিয়েছেন: মৎস্য ও প্রাণী উপদেষ্টা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ফরিদা পারভীন লালনের গানকে নতুন জন্ম দিয়েছেন: মৎস্য ও প্রাণী উপদেষ্টা

প্র‍য়াত কিংবদন্তি লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এক বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গায়িকার স্মরণের বিশেষ আয়োজনটি করে তার হাতেগড়া সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’।

‎‎

ফরিদা পারভীনের স্বামী ও নন্দিত বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সভাপতিত্বে বিশেষ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।

 

 

লালন শাহর ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। গানটি পরিবেশন করেন ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’র একদল শিল্পী। এরপর একে একে লালনের কালজয়ী গানগুলো পরিবেশ করেন একাডেমির শিক্ষার্থীরা।

IMG_20260113_172122_456

বিশেষ এ আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “ফরিদা পারভীন কেবল লালনের গান গেয়েছেন তা নয়, বরং তিনি এই গানকে নতুন জন্ম দিয়েছেন। সত্তরের দশকের আগে রেডিওতে লালনের গানকে ভুলভাবে পল্লীগীতি বা অন্য নামে প্রচার করা হতো। কিন্তু ফরিদা পারভীন ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ বা ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’-এর মতো গানগুলোর মাধ্যমে লালন সংগীতকে রবীন্দ্র এবং নজরুল সংগীতের মতো উঁচু স্থানে নিয়ে গেছেন। লালনের গানে যে রাগ ও ক্ল্যাসিক্যাল বেইজ প্রয়োজন, ফরিদা পারভীন তা ধারণ করতে পেরেছিলেন।”

 

উপদেষ্টা আরও বলেন, “ফরিদা পারভীনের গানে একপ্রকার আত্মিকতা প্রকাশ হতো। তিনি গানের গভীরে ডুবে গিয়ে গান করতেন। আমি একটা বেসরকারি টেলিভিশনে ওনার সাক্ষাৎকার দেখেছি ‘মিলন হবে কত দিনে’ গানটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ফরিদা পারভীনের অঝোরে কান্না করছেন। এটা আপনারা যদি কেউ না দেখে থাকেন আমি বলব দেখতে। এরপর ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ গানের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি যেভাবে কান্না করেছিলেন তা দেখে আমার মনে হয়েছে, উনি কেবল কণ্ঠ দিয়ে গান গাইতেন না। বরং গানের সত্তার ভেতরে ঢুকে যেতেন।”

IMG_20260113_182857_403

সবশেষে তিনি বলেন, ’রাষ্ট্র তাকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। ফরিদা পারভীন আজকে থেকেই তৈরি হয়নি। কিন্তু সেভাবে কেউই তাকে মর্যাদা দিতে পারেনি। এটা আমাদের রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা আমরা যেন আর কোনো শিল্পীর ক্ষেত্রে না হয়। যেসব শিল্পীরা বেঁচে আছেন তাদেরকেও যেন আমরা যথাযথ মর্যাদা দিই এবং যারা চলে গেছেন তাদেরকে যেন আমরা স্মরণে রাখি, ভুলে না যাই।’

 

লালন কন্যার ৭১তম জন্মবার্ষিকীর আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সবিনা ইয়াসমিন। আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক উপাচার্য, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ড. আনিসুজ্জামান,  চিত্রনায়ক হেলাল খান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা। 

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর