বিয়ের এক বছর না পেরতেই সংগীতশিল্পী তাহসান খান ও মেকওভার আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সংসার ভেঙে গেছে। তাঁদের বিচ্ছেদের খবরে তোলপাড় নেট দুনিয়া। অনেকেই গায়কের সমালোচনা করছেন। কেউ কেউ আবার রোজার।
এমন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাহসানের সঙ্গে নিজের স্মৃতি শেয়ার করেছেন নিউইয়ার্ক থেকে প্রচারিত বাংলা ভাষাভাষীদের গণমাধ্যম ‘ঠিকানা’ টিভির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ছন্দা বিনতে সুলতান। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক লম্বা পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আলো, আলো আমি কখনও খুঁজে পাবো না.... কয়েক বছর আগের কথা, জে.এফ.কে হয়ে ঢাকা তারপর ইউ.এস.বাংলার বিমান করে চট্টগ্রাম যাচ্ছি। বিমান বন্দর থেকে বাসে করে খানিকটা দূরে গিয়ে ইউ এস বাংলার ফ্লাইটে উঠতে হয়। বাসের জন্য অপেক্ষা করছি এমন সময় নজরে পড়লো সংগীতশিল্পী তাহসান এবং তার এক বন্ধু আমার একটু সামনে দাঁড়িয়ে।’

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘বাসটি থামলে আমরা এগিয়ে যাই, তাহসান পেছনে দাঁড়িয়ে আমাকে আগে উঠতে বললেন। চলার পথে একজন অচেনা নারীকে এই সম্মান দেওয়াটা খুব কম পুরুষই করে। যদিও লেডিস ফাস্ট বলে ইংরেজিতে একটি কথা চালু আছে। এবার বাসে উঠতে যাব আমার হাতে থাকা হ্যান্ড ক্যারিয়ারের হ্যান্ডেল কিছুতেই নামাতে পারছি না এবার ও তাহসান এগিয়ে এলেন আমার ক্যারিয়ারের হাতলটা নামিয়ে নিজেই বাসে তুলে দিলেন। এতোবড় মাপের একজন সংগীতশিল্পীর এতটা বিনয়ে আমি মুগ্ধ হলাম, কৃতজ্ঞতায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলাম।’
ছন্দা আরও লিখেছেন, ‘বাসটি বেশ দৃষ্টিনন্দন এবং শৈল্পিক ভাবে সাজানো। দীর্ঘ প্রসারিত মুখোমুখি সিট। তাহসান আমার সামনে বসে বললেন, আপনি কি দেশের বাইরে থেকে এসেছেন। বললাম, হ্যাঁ। কোথায় থাকেন, বললাম নিউইয়র্কে। কীভাবে বুঝলেন যে আমি বাইরে থাকি? তিনি বললেন, বাইরে থেকে আসলে বুঝা যায়। তাহসানের সঙ্গে যতই আলাপ হচ্ছে, বিস্ময় যেন ততই বাড়ছে। একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে যোগ দিতেই তিনি চট্টগ্রামে এসেছেন। তিনি আমার নিউইয়র্কের ফোন নাম্বারটি সেইভ করলেন। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে। বড়ো আপা এসেছেন রিসিভ করতে। তাহসান বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে চেল গেলেন তার গন্তব্যে। মানুষ হিসাবে তাহসান যেতটা বিনয়ী সেটা সহজে-ই অনুমেয়।’

কথার সূত্র ধরে তিনি যোগ করেন, ‘এর কিছুদিন পরের কথা, তাহসান নিউইয়র্কে এসেছেন, কনসার্ট করছেন নর্থ ব্রনকসে, ঠিকনার সেময়ের বার্তা সম্পাদক মিজান ভাইর ফোন, বিনতে আপু, তাহসানের কনসার্ট, আপনাকে ঠিকানার রিপোর্টটা করতেই হবে কিছুতেই মিস করবেন না। মিজান ভাই একমাত্র মানুষ যে আমাকে সব সময় বিনতে নামে ডাকেন। বললাম, মিজান ভাই তাহসানের কনসার্টের মিডিয়া কভারেজ কিছুতেই মিস হবে না। তাহসান ওই আয়োজন শেষে সোজা চলে যাবে এয়ারপোর্টে। গ্রীন রুমে আবারও কথা হলো সেই মিটি মিটি হাসির বিনয়ী মানুষটির সাথে।’
সবশেষে ছন্দা লিখেছেন, ‘হয়তো ভাববেন সাংবাদিকদের সাথে মানুষ বিনয়ই দেখায়, কিন্তু প্রথমবার পরিচয়ে আমি তাকে সাংবাদিকতার পরিচয় দেইনি। মানুষ অনেক সময় ভুল মানুষকেও ভালোবাসে কিংবা অনেক সময় এক ছাদের নীচে থেকেও তার জীবনের সব খুঁজে পায়না। হয়তো তাহসান, মিথীলা কিংবা রোজা তিনজনই ভালো মানুষ। কোনো কারণে তাদের সংসার টিকলো না বলেই যে তিনজনকেই টেনে হিঁচড়ে খারাপ বানাতে হবে এমনটি কাম্য নয়।’
ইএইচ/

