বাংলা নাট্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আবুল হায়াত। সত্তরের দশক থেকে শুরু করে আজও তিনি অভিনয়ে নৈপুণ্যতা ছড়াচ্ছেন। অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পরিক্রমায় তিনি উপহার দিয়েছেন শতাধিক নাটক, চলচ্চিত্র ও টেলিফিল্ম যা বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। জীবনের সাত দশক পেরিয়ে এসেও তার সৃষ্টিশীলতা নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুকরণীয় উদাহরণ।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন একুশে পদক প্রাপ্ত এই অভিনেতা। যেখানে উঠেছে দেশ ভাগের পর বাংলাদেশের আসার গল্প। একইসাথে শিক্ষা জীবন, বিবাহ, চাকরি এবং অভিনয় জীবনের নানা খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন আবুল হায়াত।
বিজ্ঞাপন
প্রথমবারের মতো উপমহাদেশের কিংবদন্তি পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের সিনেমায় একটি দৃশ্যে অভিনয় করেন আবুল হায়াত। ওই দৃশ্যের জন্য মাথায় পরচুলা লাগান তিনি। যা দেখেন ছবির পরিচালকা বলেছিলেন চুল ছাড়াই ভালো লাগে।

অভিনেতার কথায়, “আমার চুলটা তো ছাত্রাবস্থা থেকে পড়েছে। তখন আস্তে আস্তে কমছে, অর্ধেক প্রায় কমে এসেছিল। তখন উনি (ঋত্বিক ঘটক) আমার চেহারাটা দেখলেন উইগ (পরাচুলা) পরা। এবার কাছে এলেন আমার থুতনিটা ধরলেন, ধরে একবার এদিক ঘোরালেন, একবার ওদিক ঘোরালেন। কী যেন হলো হঠাৎ করে। খপ করে উইগটা (পরচুলা) ধরে উঠাই ছুড়ে ফেলে দিলেন। তখন তিনি বলেন উঠলেন ‘আরে, এইটা তো চুল ছাড়াই ভালো লাগে। জমিদার! যাও, যাও, পাস।”
বিজ্ঞাপন
কথার সূত্র ধরে বরেণ্য এই অভিনেতা বলেন, “পাস হয়ে গেলাম ‘তিতাস একটি নদীর নাম’–এ। আমার ভাগ্য ভালো যে ওনার সাথে কাজ করেছি জীবনে প্রথম সিনেমাতে। উনি (ঋত্বিক ঘটক) যাওয়ার সময় বলে গেছেন, ‘হাসান যদি বলত যে তুমি এ রকম অভিনয় করো তাহলে তোমার পার্ট আমি অনেক বড় দিতাম। বলো নাই কেন?”
সবশেষে আবুল হায়াত বলেন, “আমি বললাম, ‘স্যার, নিজের কথা কী করে বলি!’ উনি বললেন, ‘শোনো, নিজের ঢোল নিজে পেটাইবা, অন্যেরে দিলে ফাটাই ফেলাইব।”
ইএইচ/




