অভিনয়ে দিয়ে দর্শককে সম্মোহিত করার ক্ষমতা যাদের আছে তাদের মধ্যে অন্যতম রুনা খান। পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করতে জুড়ি নেই তার। সম্প্রতি অভিনেত্রীর পুরোনো একটি ভিডিও নিয়ে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। যেখানে নিজের ওজন কমানোর বিষয়ে কথা বলন রুনা। অভিনেত্রীর সে সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ দিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা করছে ভুয়ফুড়া প্রতিষ্ঠানগুলো।
এবার ত্বকচর্চা নিয়ে খোলমেলা কথা বলেছেন রুনা। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কসমেটিকস সার্জারি, অ্যাস্থেটিক বিউটি, আর্টিফিশিয়ালি চেহারার পরিবর্তনের শতভাগ ঘোরবিরোধী।

অভিনয়ের ছাড়াও র্যাম্পে হাঁটেন অভিনেত্রী। তবে এজন্য যতটা না প্রশংসিত তার চেয়ে বেশি হয়েছেন সমালোচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্যাশন মডেল হিসেবে আমি ১৫ বছর আগেও কাজ করেছি, তখন সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমা অবস্থা ছিল না। এখন ক্ষেত্র বেড়ে যাওয়ায় মডেলিংয়ের ছবি নানাভাবে সামনে আসছে। আর এই ফ্যাশন মডেলিং আমার পাশাপাশি দেশের প্রথম সারির আরো পাঁচ-সাতজন সহকর্মী কাজ করছেন। তাঁদের কারোর ক্ষেত্রেই এ রকম তীর্যক সমালোচনা দেখা যায় না, যেমনটা আমার ক্ষেত্রে ঘটে।’
এর কারণটা কী জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, ‘২০০৫ থেকে ২০২৫, বিশ বছর ধরে একজন পেশাদার মডেল-অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমার কাছে যেসব কাজের প্রস্তাব এসেছে, তার মধ্যে যেগুলো ভালো লেগেছে, কেবল সেটাই করেছি। অন্যদিকে গত বিশ বছরে আমার অধিকাংশ নারী সহকর্মীর ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে ব্যক্তিগত বিনিময়ের মাধ্যমে। পরিচালকের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে-পরকীয়া এসবের মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ার হয়েছে। যত দিন পরিচালকের সঙ্গে প্রেম বা সম্পর্ক, তত দিন সেই পরিচালকের কাজে ওই অভিনেত্রী; সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর একটা পাসিং শটেও তাকে আর পাওয়া যায় না।’

কথার সূত্র ধরে এই তারকা আরও বলেন, ‘এসব অসততার চর্চা করে পর্দায় তারা বোঝানোর চেষ্টা করে, লম্বা হাতার ব্লাউজ, গাঢাকা পোশাক পরা মানেই শালীনতা! অথচ তাদের বাস্তব জীবনে শালীনতার রেশমাত্র নেই। এই পুরো শ্রেণির মাথায় আগুন ধরে গেছে, সারা জীবন-যৌবন দিয়ে, পরিচালকের প্রেমিকা হয়েও তারা ক্যারিয়ার গড়তে পারল না। আর আমি কারো সঙ্গে প্রেম-পরকীয়া ছাড়া যোগ্যতা দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলাম। এটা সহ্য করতে না পেরে বলা হচ্ছে, আমার পোশাক অশালীন। কাপড়ের আবার অশালীনতা কী? অশালীন তো হয় কর্ম। বিশেষ করে আমাদের নাটকের অভিনেত্রীদের বেশির ভাগের জীবন চূড়ান্ত অশালীন কর্মকাণ্ডে ভরা, আর পর্দায় শরীর-ঢাকা কাপড় পরে তাঁরা শালীনতা প্রতিষ্ঠা করেন!’
এরপর রুনা বলেন, ‘পোশাকের কোনো শালীনতা-অশালীনতা হয় না। বোরকা যেমন পোশাক, সুইমস্যুটও পোশাক, যার যেটা ভালো লাগবে, পরবে। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, এটা আমাদের সমাজে যায় না। কিন্তু পরিচালকের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিনিময়ের মাধ্যমে কাজ করা পৃথিবীর কোন সমাজে গ্রহণযোগ্য? দেখুন, কার স্কিন কে কতখানি দেখাবে, সেটা তাঁর ব্যাপার। আর স্কিন কি রুনা খানই প্রথম দেখিয়েছে? আমি তো শাবানা আপাকেও ক্লিভেজ দেখিয়ে নাচতে দেখেছি। আমি সিনেমা দেখা মানুষ ভাই; পর্দায় শাবনূর, মৌসুমী, শাবনাজ আপা প্রত্যেকের ক্লিভেজ দেখেছি।’

সবশেষে তিনি বলেন,’২০-২৫ বছর বয়সে স্কিন দেখানো যাবে, আর ৪০ বছর বলে দেখানো যাবে না? কিন্তু এই দেশে তো ৫০-এর অভিনেত্রীও দেখাচ্ছেন। তাহলে? এই দৃষ্টিভঙ্গিটা কারা তৈরি করছেন? যাঁরা ব্যক্তিগত জীবনে অশালীনতার চর্চা করে পর্দার পোশাক দিয়ে শালীনতার কথা বলেন।’
ইএইচ/




