কমতে কমতে দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা শতকের নিচে। ঢালিউডে সুদিন ফেরার আশায় যেসব হল মালিক মাটি কামড়ে পড়েছিলেন, বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন হল শিল্প তারাও এবার হাল ছেড়েছেন। এরইমধ্যে বন্ধ হয়েছে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স। বন্ধের পথে দেশের প্রথম সিনেপ্লেক্স লায়ন সিনেমাস। দেশের বৃহত্তম প্রেক্ষাগৃহ মণিহারও বন্ধ হচ্ছে।
এবার আরও একটি দুঃসংবাদ। দিনাজপুরের মডার্ন সিনেমা হলটিতে এখন দর্শক যেন সোনার হরিণ। লোকসানের বোঝা টানতে টানতে ক্লান্ত কর্ণধার এসএম পারভেজ। আর রাখতে চাইছেন না ৬৮ বছরের পুরন হলটি। বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবরটি ঢাকা মেইলকে পারভেজ নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
গেল বুধবার যোগাযোগ করা হলে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন মডার্ন সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক মো. রেজা। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘‘ঈদের পর থেকে পুরনো ছবিগুলো চালানো হচ্ছে। কিন্তু সেসব চলে না। দর্শক আসে না। নতুন ছবি যা হচ্ছে সেগুলোও দর্শক টানতে পারে না। এই যেমন এখন চলছে ‘নন্দিনী’। দর্শক টানতে পারছে না। সকালে একটা শোয়ে কয়েকজন হয়। বাকি শোগুলো দর্শকের অভাবে বন্ধ থাকছে। কোনোদিন সারাদিনই বন্ধ থাকে।’’
হলটিতে বর্তমানে চার-পাঁচজন কর্মরত আছেন বলে জানালেন। তাদেরও করতে হচ্ছে মানবেতর জীবনযাপন। এরকম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে কাজ করছি তারা কষ্টে চলছি। কারণ হল থেকে তো খরচ ওঠে না। মালিকের অন্য ব্যবসা আছে সেখান থেকে ভর্তুকি দিয়ে চালাচ্ছেন। সিনেমা চলে না দেখে তিনিও হলটি রাখতে বা নতুন করে ভাবতে আগ্রহী নন। পৈতৃক সম্পত্তি বলে এতদিন চালিয়েছেন। এবার বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
আজ শনিবার হলের পরিস্থিতি জানতে চাইলে এসএম পারভেজ বলেন, ‘এখন কি ছবি হচ্ছে। চালানোর মতো ছবিই তো নেই। তাহলে বোঝেন সিনেমা হলের কী অবস্থা। দিনে চারটা শো চলার কথা থাকলেও এক-দুটির বেশি চলে না। তাও দর্শক খরায় মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে। এতে খরচও ওঠে না। আমাদের অন্য ব্যবসা আছে। বছরের পর বছর সেখান থেকে ভর্তুকি দিয়ে চালাচ্ছি।’
কিন্তু এভাবে বেশিদিন ভর্তুকি দিতে রাজি নন মালিক। জানালেন বিক্রি করে দেবেন হল। তার কথায়, ‘এভাবে লোকসানের বোঝা বইতে চাইছি না। তাই হলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। কথাবার্তা চলছে।’
১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় মডার্ন সিনেমা হল। একসময় দিনাজপুরে ২০টি সিনেমা হল ছিল। একে একে সব বন্ধ হয়ে গেছে। ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে মডার্ন সিনেমা হল। সিনেমার অভাব ও বিক্রির সিদ্ধান্ত শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে সেটিরও ভবিষ্যৎ।

