শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

নভেম্বরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি কোনো সিনেমা 

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

নভেম্বরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি কোনো সিনেমা 

ঈদ মৌসুম ছাড়া হলে দর্শক টানতে পারছে না দেশের সিনেমাগুলো। তবে গেল নভেম্বরে আশায় বুক বাঁধেন হল মালিকেরা। ভেবেছিলেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘দরদ’ লাভের গুড় এনে দেবে। 

সে প্রত্যাশার কতটা পূরণ হলো, গেল মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত বাকি তিন সিনেমা ‘রং ঢং’, ‘৩৬ ২৪ ৩৬’ ও ‘ভয়াল’ ব্যবসায়িক দিক থেকে কতটা সফল কিংবা দর্শকের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করল— বিষয়গুলো জানতে চাইলে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘‘দরদ’ ছাড়া বাকি তিন ছবির নাম আগে শুনিনি। মুক্তির পর শুনেছি। গোটা কয়েক হলে এসেছিল। ফলাফল খুব খারাপ। ছবির কোনো মেরিটও নাই। ‘ভয়াল’ সম্পর্কে এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। তবে ‘৩৬ ২৪ ৩৬’ নিয়ে খুব হাসাহাসি হয়েছে। ‘দরদ’ নিয়ে হল মালিক ও দর্শকদের অনেক আশা ছিল। কিন্তু প্রথম দিনই দর্শক হতাশ হয়েছেন। বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে পরের দিন অর্ধেক এবং তৃতীয় দিন সেল ১০ শতাংশে নেমে আসায়। প্রযোজক যেমন লোকসানের মুখে পড়েছেন তারচেয়ে বড় কথা হচ্ছে হল মালিকরাও মার (ক্ষতি) খেয়েছেন।’’


বিজ্ঞাপন


402897678_10211138648659838_7212587417168463809_n_20231117_132056458_20240216_151019490_20240717_160159398_20240829_182358017_(4)

এরপর বলেন, ‘‘এটা খুব দুঃখজনক। কারণ ‘তুফানে’র পর হলে গত তিন-চার মাস ধরে কোনো ছবি নেই। ‘দরদ’ নিয়ে আশা ছিল সবার। বাকি ছবিগুলো নিয়ে কোনো আশাই ছিল না। আশা জাগার সুযোগও নেই। এগুলো মূলত সিনেপ্লেক্সগুলোতে সপ্তাহে দুটি-পাঁচটি শো চলে। এগুলো আদৌ কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে বলে মনে হয় না আমার। শেষ আশা ছিল ‘দরদ’ নিয়ে। সেটিও চরমভাবে হতাশ করেছে।’’

সুদীপ্ত কুমার যোগ করেন, ‘‘সিনেপ্লেক্সের মালিকদের নিয়ে কদিন আগে একটি মিটিংয়ে বসেছিলাম। তারা বললেন, ‘কী করব আমরা। যেসব সিনেমা নিয়ে আশা নেই সেগুলো চালানোর অনুরোধ ফেলতেও পারি না, রাখতেও পারি না।’ কারণ হিসেবে যা জানালেন খুবই খারাপ অবস্থা তাতে। কেননা ঢাকায় স্টার সিনেপ্লেক্সের যতগুলো শাখা সবগুলো ভাড়ায় চলে। সেল হোক আর না হোক ভাড়া কিন্তু দিতে হবে। বিদ্যুৎ বিল, স্টাফদের বেতন হিসেবে বড় একটি অংক দিতেই হয়।’’  

আরও বলেন, ‘‘সবাই অন্ধকার দেখছেন। সামনে রোজার ঈদে যদি বড় কোনো ছবি আসে তাহলে সম্ভাবনা আছে। তার আগে কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। হল মালিকেরা চাপ দিচ্ছেন আমাদের। তাদের কথা, একটা জেনারেল মিটিং ডেকে যেন সিদ্ধান্ত নেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশব্যাপী হল চালু থাকবে নাকি বন্ধ করা হবে। কারণ কোনো আশা ভরসা না থাকলে সিনেমা হল চালু রেখে কী হবে।’ 


বিজ্ঞাপন


rong-dhong-movie-061124-04-1730904641

সমিতির এ নেতা বলেন, ‘একটি নোটিশ দেব আমরা। ১৫-২০ ডিসেম্বরের মধ্যে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেব দেশব্যাপী সিনেমা হল চালু থাকবে নাকি বন্ধ করে দেব। মফস্বলের হল মালিকেরা জানেন না ছবিগুলোর কোনটা কী অবস্থায় আছে। ভেবেছিলাম এই ফাঁকে যদি দুই-একটা করে ভালো হিন্দি সিনেমা এনে চালানো যায় তাহলে এই দুই মাস আমাদের খরচ উঠে আসবে। সেজন্য ‘পুষ্পা-টু’ ও ‘ভুলভুলাইয়া-৩’ আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি বা দেওয়া হবে না বলে উপদেষ্টা জানিয়েছেন। ভারতীয় ছবি আমদানির ক্ষেত্রে ফারুকী সাহেবের (সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) প্রচন্ড অমত। পাকিস্তানি, ইরানি, টার্কিশ, চায়নিজ ছবি আমদানির ক্ষেত্রে ওনার আপত্তি নেই।’’

সুদীপ্ত কুমার দাসের সুরে কথা বললেন সমিতির সহ সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন। তার কথায়, ‘‘গেল মাসের কোনো ছবিই ব্যবসাসফল হয়নি। দর্শকের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে ‘দরদ’। ছবিটির প্রতি অনেকের আশা ভরসা ছিল কিন্তু তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’’ 

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ছবির গল্প ভালো হয়নি। দর্শকের পছন্দ হয়নি। একটি ছবি সফল তখন হয় যখন গল্প দর্শকের পছন্দ হয়। এভাবে চললে সিনেমা হল এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ আমরা তো ছবি বানাই না। ছবি বানান প্রযোজক আর আমদানির সুযোগ দেয় সরকার। এখন সরকারও সদয় হচ্ছে না আর দেশেও ছবি হয় না। তাহলে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া তো আর উপায় নেই।’  

468457876_522103517491181_6051171457389233181_n_20241129_112725964

তবে মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার নওশাদ জানালেন ‘দরদ’ তার প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার এখানে প্রথম সপ্তাহ ভালো ছিল ‘দরদে’র অবস্থা। দ্বিতীয় সপ্তাহে মোটামুটি ছিল। এরপরই পাইরেসির শিকার হয় সিনেমাটি। পাইরেসি হলে আর তো আশা করা যায় না। বাকি যে ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছিল শুনেছি সেগুলোর দশা নাকি খুবই বেহাল।’’ 

‘রং ঢং’ নির্মাণ করেছেন আহসান সারোয়ার। অভিনয় করছেন তারিক আনাম খান, আরমান পারভেজ মুরাদ, লুৎফর রহমান জর্জ প্রমুখ। ‘৩৬–২৪–৩৬’ নির্মাণ করেছেন রেজাউর রহমান। অভিনয় করেছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, সৈয়দ জামান শাওন, কারিনা কায়সার প্রমুখ।

‘দরদে’র নির্মাতা অনন্য মামুন। প্যান ইন্ডিয়ান এ সিনেমায় আরও অভিনয় করেন সোনাল চৌহান, সাফা মারওয়া প্রমুখ। ভয়াল পরিচালনা করেছেন বিপ্লব হায়দার। ইরফান সাজ্জাদ ও আইশা খান ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন গোলাম ফরিদা ছন্দা, লুৎফর রহমান জর্জ, ম্যাক বাদশাহ প্রমুখ।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর