রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বুধবার রাতে আমার প্রাণটাও চলে যেতে পারত: ঋতুপর্ণা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

বুধবার রাতে আমার প্রাণটাও চলে যেতে পারত: ঋতুপর্ণা

কিছুতেই মানুষের মনে ঠাঁই করে নিতে পারছেন না অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর কাণ্ডে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আরও একবার জনরোষে পড়লেন তিনি। গতকাল রাত দখল কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

জানা যায়, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা। গাড়ি থেকে নামতেই শোনা যায় ‘গো ব্যাক…গো ব্যাক’ স্লোগান। এরপরও প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। 

ঋতুপর্ণা এসেছেন শুনেই চিৎকার করে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। কালো কাঁচের গাড়িতে গিয়ে ধাক্কা মারতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দ্রুত অভিনেত্রীকে গাড়িতে তোলেন দেহরক্ষীরা। রীতিমত প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে বেঁচেছেন নায়িকা। 

ritu1

বুধবার রাতের এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন ঋতুপর্ণা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে। 

অভিনেত্রী লেখেন, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিহত চিকিৎসক-পড়ুয়ার জন্য সুবিচার চেয়ে ৪ আগস্ট শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ের প্রতিবাদী জমায়েতে উপস্থিত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এত মানুষের প্রতিবাদ বৃথা যাবে না। আমিও সুবিচারের আশায় রয়েছি। জমায়েতে যোগ দিয়ে মোমবাতি জ্বালাই। কিন্তু, কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে গেল ছবিটা। আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লাম। আমার উদ্দেশে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন অনেকে। চারপাশ থেকে উলুধ্বনি এবং শঙ্খ বাজিয়ে ব্যঙ্গ। 

এতে কিছু মনে করেছি, এমন নয়। কিন্তু, তারপর গাড়িতে জুতা ছোড়া হলো। তখন আমি দরজা খুলে বলি আপনারা এমন করবেন না। আপনাদের সঙ্গে কথা বলতেই এসেছি, বসতে এসেছি। কিন্তু কেউ কোনও কথাই শুনলেন না। আসলে আমার মনে হয়, কিছু মানুষ প্রতিবাদের কথা মাথায় না রেখে, হুজুগে চলে গিয়েছিলেন জমায়েতে।

ritu3

নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, বুঝতে পারছি, সকলেই ক্ষুব্ধ। তবে, কলকাতার প্রতিবাদী চেহারার মধ্যে এই চেহারাটা দেখে আমি লজ্জিত, আহত, কম্পিত। বুধবার রাতে আমার প্রাণটাও চলে যেতে পারত। আমি একজন অরাজনৈতিক, নিরপেক্ষ মানুষ হিসেবে, একজন মহিলা হিসেবে অন্য মহিলার পাশে দাঁড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু বিরাট সংখ্যক কিছু মদ্যপ এই ঘটনা ঘটাল। আচমকাই একটা জনস্রোত ধাক্কা দিতে শুরু করল। এত চিৎকার হচ্ছিল যে, কারও কোনও কথা শুনতে পাচ্ছিলাম না। 

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ঋতুপর্ণা লেখেন, আমি তো কাল কোনও তারকা হিসেবে নয়, মানুষ হিসাবে গিয়েছিলাম। যেখানে ঘটনাটা ঘটল সেখানে নিহত চিকিৎসকের বাবা-মাও এসেছিলেন। ভেবেছিলাম একবার দেখা করব তাদের সঙ্গে। বলতাম, এই লড়াইয়ের সঙ্গে আমিও আছি। কিন্তু সেটা আর হলো কই? তবে এই ঘটনার পর আমি থেমে যাব, এমন নয়। আমার মনের মধ্যে প্রতিবাদ থাকবে। আমিও একইভাবে সুবিচার চাইব। সেটা থামবে না।

ritu4

শেষে সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন অভিনেত্রী। লেখেন, আমি প্রশ্ন করতে চাই আমার সমবেদনা জানানো কি অন্যায়? একটি মেয়ের হয়ে তারা আন্দোলন করছেন আর অন্য একজন নারীকেই হেনস্থার শিকার হতে হলো! হয়তো এই মানসিকতাই আমাদের বর্বরতার দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অগস্ট যখন রাত দখল হয় তখন দেশে না থাকার কারণে সেখানে যোগ দিতে পারেননি ঋতুপর্ণা। তবে দুদিন পর প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে শঙ্খ বাজাতে গিয়ে চরম কটাক্ষের শিকার হন তিনি। 

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর