সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

মাধ্যম যেটাই হোক ভালো কাজ করাই লক্ষ্য: শাহনাজ সুমি

রাফিউজ্জামান রাফি
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

শাবনূর আপুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই, মাধ্যম পাচ্ছি না: শাহনাজ সুমি 

 

শেষ ভালো যার সব ভালো তার। প্রচলিত বাক্যটি সত্যি হয়েছে অভিনেত্রী শাহনাজ সুমির ক্ষেত্রে। সদ্য বিদায়ী বছরের শেষ মাসে (ডিসেম্বর) মুক্তি পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘মোবারকনামা’। গোলাম সোহরাব দোদুল নির্মিত সিরিজটিতে অনবদ্য অভিনয় করে সব আলো নিজের দিকে টেনেছেন সুমি। প্রশংসার রেশ রয়ে গেছে এখনও। আশা করছেন নতুন বছরও হাঁটবেন সাফল্যের হাত ধরে। ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথোপকথনের সময় জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সেইসঙ্গে উঠে এসেছে বিবিধ বিষয়।

বছর শেষে ‘মোবারকনামা’ এমন সফলতা নিয়ে আসবে প্রত্যাশা করেছিলেন?

 

হ্যাঁ, এটা প্রত্যাশিত ছিল। কারণ আমাদের শুটিং হয়েছে অক্টোবরে। সেসময়ই পরিকল্পনা ছিল ‘মোবারকনামা’ মুক্তি পাবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। জানা ছিল, বছরের শেষ কাজ হতে চলেছে এটি। আর নিজেরা যেহেতু মন দিয়ে কাজ করেছি। তাই নিজেদের ওপর একটি বিশ্বাস ছিল। বুঝতে পেরেছিলাম কাজটি ভালো হবে।

sumi


বিজ্ঞাপন


প্রতিটি চরিত্রে এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন যে কোনোটার সঙ্গে কোনোটা মেলে না। উদাহরণ স্বরুপ ‘বুকের মধ্যে আগুনে’র শবনম ও ‘মোবারকনামা’র সুরাইয়ার কথা বলা যায়। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে এতটা সাবলীলভাবে মিশে যেতে অনেকেই পারেন না। আপনার ক্ষেত্রে কীভাবে সম্ভব হয়? 

যখন যে কাজ করি মনোযোগের সম্পূর্ণটা জুড়ে ওই কাজ-ই থাকে। এ বছর আমার দুটি কাজ এসেছে। ‘বুকের মধ্যে আগুন’ ও ‘মোবারকনামা’। এর আগের বছর আমার দুটি সিনেমা মুক্তি পায়। ‘পাপ পুণ্য’ ও ‘দামাল’। ‘মোবারকনামা’র সুরাইয়া, ‘বুকের মধ্যে আগুনে’র শবনম আর ‘পাপ পুণ্যে’র সাথীকে যদি একসঙ্গে করেন কোনো মিল পাবেন না। তিনটি চরিত্র তিন রকম। আমার চেষ্টা থাকে, দর্শক যেন চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন। এই জায়গায় চেষ্টার ত্রুটি রাখি না। আমি চাই কাজ দেখে যেন দর্শক বলেন এরকম একটি চরিত্র আছে যেটি সবার চেয়ে আলাদা। সবসময় ভাবি এই চরিত্রটি যেন নিজের একটি ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পারে। সেকারণেই হয়তো। 

নতুন বছর কেমন যাবে বলে মনে হচ্ছে?

আশা করছি ভালো যাবে। হাতে যে কয়েকটি কাজ আছে তারমধ্যে দুই একটাও যদি হয়ে যায় আশা করি খুব ভালো যাবে বছরটা। চেষ্টা করছি আগের তুলনায় কাজ বাড়াতে। কেননা আগে খুবই হাতেগোনা কাজ করতাম। 

352468379_813187620143183_6825249563311570978_n

হাতের কাজগুলো সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম।

সে সম্পর্কে কিছু বলতে চাচ্ছি না। শুধু এটুকু বলি, গত বছর বড়পর্দায় দেখা যায়নি আমাকে। এ বছর ফিরছি।

‘মোবারকনামা’র মাধ্যমে ফিরেছেন অভিনেত্রী জেনি। শবনম ফারিয়াও এসেছেন বেশ কিছুদিন পর। বেশ আলোচনা হয়েছে তাদের নিয়ে। মনে হয়নি তাদের নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত আলোচনায় আপনি আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন? 

এটা একদমই মনে হচ্ছে না। কারণ জেনি আপু অনেক আগে থেকেই কাজ করেন। সেসময় থেকেই মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয়। শবনম ফারিয়া অনেক আগে থেকে মানুষের প্রশংসা পেয়ে আসছেন। তারা প্রশংসা পাবেন এটা স্বাভাবিক। সেখানে আমি যতটুকু পাচ্ছি সেটা আমার যোগ্যতা দিয়েই পাচ্ছি। আমার টিমের সহায়তায় যতটুকু করেছি সেটুকুর জন্যই পাচ্ছি। আর আমাকে নিয়ে যারা রিভিউ দিচ্ছেন মনে হয় না তারাও এরকম কিছু ভাবছেন। 

সিনেমা, ওটিটি— কোন মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান? 

আমার পরিকল্পনা হচ্ছে ভালো কাজ করা। শুরুটা ছিল নাচ দিয়ে। পরে অভিনয়ে আসি নাটকের মাধ্যমে। সালাউদ্দিন লাভ্লু স্যারের ‘সোনার পাখি, রুপার পাখি’ নাটকে প্রথম অভিনয় করি। এরপর হাতেগোনা যেকটা নাটক করেছি বাছাই করে চরিত্র দেখে করেছি। ওটিটিতেও বেছে কাজ করছি। সিনেমায়ও তাই। মূলত ভালো কাজ করাটাই আমার ইচ্ছা। ওটিটিতে, সিনেমায় করছি বলে যে নাটকে ফিরব না তা কিন্তু না। কোনো নাটকের গল্প শুনে যদি মনে হয় এটা ভালো হবে, ওটিটিতে কাজ করে যেমন প্রশংসা পাওয়া যায় তেমন পাব তাহলে অবশ্যই করব। মাধ্যম যেটাই হোক ভালো কাজ করাই আমার লক্ষ্য। মানুষের কাছে পৌঁছানোই আমার লক্ষ্য।

311587682_664896314995429_8712792875708272657_n

সুরাইয়া চরিত্র করতে গিয়ে এমন কোনো অভিজ্ঞতা হয়েছে কী যা মনে থাকবে দীর্ঘদিন? 

তেমন কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়নি। কারণ আমাদের প্রস্তুতিটা খুব শক্তিশালী ছিল। স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর থেকে আমি চরিত্রটি ধরে ধরে লিখে লিখে প্র্যাক্টিস করি। আত্মবিশ্বাস রাখি। সেটা নিশ্চিত করি শুটিং শুরু হওয়ার আগেই। যার কারণে শুটিংয়ে গিয়ে এতকিছু ভাবতে হয় না। ‘মোবারকনামা’র ক্ষেত্রেও তাই করেছি। এছাড়া শুটিং সেটে আমার পরিচালক থেকে শুরু করে সবার সহযোগিতা যোগ হয়েছে। প্রতিটা মুহূর্তে সুরাইয়া হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে উদগ্রীব থাকতাম। সবমিলিয়ে দিন শেষে মনে হয়নি যে কোথাও কিছু বাদ ছিল, খামতি ছিল। 

কেউ গ্ল্যামার নির্ভর চরিত্রে কাজ করতে চান, আবার কেউ বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে আগ্রহী। আপনি পছন্দ কোন ধরনের চরিত্র?

গ্ল্যামার বা বৈচিত্র্য নির্ভর করে চরিত্রের ওপর। চরিত্রের যদি শবনমের গ্ল্যামার প্রয়োজন হয় তাহলে সেই গ্ল্যামার লাগবে। আর চরিত্রে যদি নিজেকে ভাঙার প্রয়োজন হয় সেটাই করব। আমি মনে করি গ্ল্যামার, মেকআপ বা ভাঙাচোরা একটি চরিত্রের উপাদান মাত্র। উদাহরণস্বরুপ সুরাইয়াকে টানছি। কোনো মেয়ে যদি ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে কিন্তু সে আদালতে যাওয়ার সময় মুখে এক বিন্দুও মেকআপ দেবে না। আমিও তাই করেছি। মেকআপ ধুয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। 

311775195_675740427244351_8261542165328552925_n

অনেকের মতে ‘বুকের মধ্যে আগুন’ সালমান শাহর জীবনের ওপর নির্মিত। ওই জায়গা থেকে তারা মনে করেন শবনম চরিত্রটি দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো শবনমের সঙ্গে শাবনূরের চেহারায়ও মিল পেয়েছেন দর্শক। এ বিষয়ে কী শাবনূরের সঙ্গে কখনও কথা হয়েছে আপনার? 

না ওনার সঙ্গে আমার কখনও যোগাযোগ হয়নি। আর শবনম চরিত্রটিও নব্বই দশকের এক নায়িকার। সেসময় নায়িকা ছিলেন শাবনূর, মৌসুমী ম্যামেরা। আমি শুটিংয়ের আগে ওনাদের অনেক সিনেমা দেখেছি। যার কারণে হয়তো ওই আদলটা চলে এসেছে। মানুষও গ্রহণ করেছে। আর দর্শক যদি আলাদা করে ভাবেন সেক্ষেত্রে তো কিছু বলার নেই।

download

শাবনূর দেশে এসেছেন। যোগাযোগ করতে চান তার সঙ্গে? 

অবশ্যই। আমি তো শাবনূর আপুর ফ্যান। ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করার ইচ্ছা আছে কিন্তু সাহস বা মাধ্যম পাচ্ছি না। যোগাযোগ হলেও খুবই ভালো লাগবে। আমার ধারণা যারা সিনিয়র আছেন তাদের সঙ্গে যদি কথা বলতে পারি আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারব। 

আরআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর