বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পরিবারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় ‘সিআইডি’ অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

পরিবারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় ‘সিআইডি’ অভিনেত্রী

পরিবারের সদস্যদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে থানা পুলিশের দারস্থ হয়েছেন ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় অপরাধ অনুসন্ধানী সিরিজ ‘সিআইডি’র অভিনেত্রী বৈষ্ণবী ধনরাজ। মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে কাশ্মিরা থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে (আগে যার নাম ছিল টুইটার) বৈষ্ণবীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তার চেহারায় নির্যাতনের ছাপ দেখা গেছে।

ভিডিওতে বৈষ্ণবী বলেন, ‘আমি কাশ্মিরা থানায় রয়েছি। আমার সাহায্য দরকার। আমি আমার পরিবারের হাতেই নির্যাতনের শিকার। আমাকে বাজেভাবে মারা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের বন্ধুরা, ইন্ডাস্ট্রির সবাই, দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।’

জানা গেছে, অভিনেত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নন-কগনিজেবল মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৈষ্ণবীর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। এর আগেও নাকি স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছিলেন তিনি।

cid-2১৯৮৮ সালে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্ম নেওয়া বৈষ্ণবী স্কুল-কলেজের পাঠ চুকিয়ে মহারাষ্ট্রের কল্যাণে পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন। অভিনয়ে তার আগ্রহের বিষয়টি জানতে পেরে বাবা-মাও বৈষ্ণবীকে উৎসাহ দেন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় অডিশন নিতে থাকেন।

২০০৮ সালে ‘কসৌটি জিন্দেগি কে’ নামে জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিকে ক্যামিয়ো চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ছোটপর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন বৈষ্ণবী। ওই ধারাবাহিকে বৈষ্ণবীর অভিনয় দেখার পর ধারাবাহিকটির প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে আরেকটি হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

‘কর্ম আপনা আপনা’ নামে ধারাবাহিকে মুখ্যচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান বৈষ্ণবী। দু’টি ধারাবাহিকে অভিনয় করে নিজের পদবি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী বৈষ্ণবী নামের পর তার বাবা ধনরাজের নাম ব্যবহার করতে শুরু করেন। টেলি ইন্ডাস্ট্রিতে বৈষ্ণবী ধনরাজ নামে পরিচিত হন তিনি।

২০০৯ সালে ‘সিআইডি’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পান বৈষ্ণবী। এই ধারাবাহিকে ইনস্পেক্টর তাশার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে। তাশার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বৈষ্ণবীকে অনেক অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করতে হতো। কিন্তু কোনো ‘স্টান্ট ডবল’-এর সাহায্য নিতেন না তিনি। নিজেই সমস্ত দৃশ্যে অভিনয় করতেন।

‘সিআইডি’তে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বৈষ্ণবী। তার পর ‘না আনা ইস দেশ লাডো’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। নিজের চরিত্র নিয়ে সন্তুষ্ট হতে না পারায় ‘না আনা ইস দেশ লাডো’ ধারাবাহিকে তিনি অভিনয় করতে চাননি বলে টেলিপাড়ায় গুঞ্জন শোনা যায়। যদিও পরে সেই সমস্যার সমাধান হয়।

২০১২ সালে একটি পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক এবং অভিনেতা নিতিন সাহরাওয়াতের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন বৈষ্ণবী। ‘কিতনি মহব্বত হ্যায়’ শোয়ের দ্বিতীয় পর্বে বৈষ্ণবীর সঙ্গে প্রথম আলাপ হয় নিতিনের। সেই আলাপই পরে প্রেমে গড়ায়।

cid

হরিদ্বারে বিয়ে করার পর মুম্বাইয়ে তারকা-বন্ধুদের রিসেপশনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বৈষ্ণবী এবং নিতিন। টেলি তারকাজুটি হিসেবে তারা ওই সময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

‘পরওয়ারিশ- কুছ খট্টি কুছ মিঠি’, ‘মধুবালা- এক ইশক এক জুনুন’, ‘মহাভারত’, ‘সসুরাল সিমর কা’, ‘বেগুসরাই’, ‘ইয়ে ওয়াদা রহা’, ‘বেহদ’, ‘বেপহনা’, ‘আপকি নজরো নে সমঝা’, ‘তেরে ইশক মে ঘায়েল’-র মতো হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন বৈষ্ণবী।

২০১১ সালে রান্নার একটি রিয়্যালিটি শোতে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার পান বৈষ্ণবী। বিয়ের চার বছর পর ২০১৬ সালে বৈষ্ণবীর সঙ্গে নিতিনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তিনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে কানাঘুষা আছে।

একটি সাক্ষাৎকারে বৈষ্ণবী জানিয়েছিলেন, বিবাহিত সম্পর্ক বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এমনকি পেশাগত দিক থেকে সাহায্যও নিয়েছিলেন। কিন্তু নিতিনের পরিস্থিতির ‘উন্নতি না হওয়ায়’ সেই সম্পর্ক আর ধরে রাখতে পারেনি।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর