স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ত্যাগ-তিতিক্ষা বড় পর্দায় তুলে ধরার প্রয়াসে নির্মিত হয়েছে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমাটি। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এ ছবিটি ভারতে মুক্তি পাচ্ছে ২৭ অক্টোবর।
এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার দেশটিতে আয়োজন করা হয়েছিল ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর। এতে হাজির হয়েছিলেন বলিউডের নামকরা সব তারকা। নাসিরুদ্দিন শাহ, অদিতি রাও হায়দারিসহ অনেকে ছিলেন। এছাড়া ছবিটির সংগীত পরিচালক শান্তনু মৈত্র, অভিনেতা রজিত কাপুর, গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল, গুণী অভিনেত্রী দিব্যা দত্ত, দক্ষিণি অভিনেতা সিদ্ধার্থ সূর্যনারায়ণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইন্ডিয়ান সিনেমার থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। এ সময় নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল বলেন, ‘সত্যি বলতে এই ছবির নির্মাণকাজ আমি উপভোগ করেছি। আমি সম্মানিত যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মুজিবের কন্যা ছবিটি পছন্দ করেছেন।’
বলিউডের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল কণ্ঠ দিয়েছেন এ ছবির একটি গানে। তিনি বলেন, ‘এই ছবির অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। এটা বাস্তব জীবনের গল্প এবং এক মহান ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের একটা উপহার বলা যেতে পারে ছবিটিকে। আমি মনে করি, এটা এমন এক গল্প যেটা পুরো জাতির সামনে আনা প্রয়োজন। সত্যিই এর অংশ হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।’
‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’-এ নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। ছবিটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্যাম বেনেগাল স্যারের সঙ্গে এটা আমার চার বছরের একটা জার্নি। যেটা আমি সারা জীবন মনে রাখবো। আর এই যে ইতিহাস বা গল্প, এটা শুধু বাংলাদেশের না। ৪৭ থেকে ৫২ এবং এরপর ৭১ সাল; ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো। এটা যদিও আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী, কিন্তু এখানে এমন অনেক কিছু আছে, যেটা দেখে আপনারা বুঝতে পারবেন দুই দেশ মিলে পরষ্পরের জন্য কত কী করেছে।’
আরিফিন শুভ ছাড়াও চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, নুসরাত ফারিয়া, রিয়াজ আহমেদ, জায়েদ খান, দিলারা জামান, চঞ্চল চৌধুরী, খায়রুল আলম সবুজ, ফেরদৌস আহমেদ, দীঘি, রাইসুল ইসলাম আসাদ, গাজী রাকায়েত, তৌকীর আহমেদসহ দেশের শতাধিক শিল্পী।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে মুম্বাইয়ের দাদাসাহেব ফিল্ম সিটিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমার ৮০ ভাগ দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। এরপর ২০২১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ অংশের শ্যুটিং সম্পন্ন হয়। মূলত, সিনেমাটির শেষ কয়েকটি দৃশ্যের চিত্রায়ণ হয় এখানে। তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরসহ ঢাকার বেশকিছু এলাকায় এবং গোপালগঞ্জে চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে।




